ভালো আছ, প্রিয় ঐহিক?

অনিন্দ্য বর্মন



(লিট্‌ল ম্যাগাজিনের লেখক পাঠকের প্রতি বারীন ঘোষালের মমতা অপরিসীম। ঐহিকের পুনর্জন্ম-লগ্নে পত্রিকা অনুপ্রাণিত হয়েছিল বারীন চেতনায়। বারীনদার প্রতি বেক্তিগত ঋণস্বীকার এই সামান্য প্রচেষ্টার মাধ্যমে তুলে ধরা হল।)

প্রকাশ: ঐহিক ‘অনুগল্প সংখ্যা’, ২০০৭
প্রিয় তমাল/বাসব,
শুভ্র তোমাদের কাছে নিয়ে গেল আমাকে। মনে তোমাদের বয়স অনুযায়ী perfect জায়গায় আছো। নয় তো মনে বিষয় আমি অপছন্দ করলে অবিষয় গজায়, সেই অবিষয়ে কলম তুলে সম্পর্ককে সঠিক বিদ্ধ করতে পেরেছো। মনে ঐহিক-এ বিষয় নিয়ে চর্চায় ‘যারা বৃষ্টিতে ভেজেনি’ যেখানে প্রকৃতি, ‘সম্পর্ক রচনা’ সেখানে পুরুষ, এবং যথার্থই তোমাদের মনে সাঙ্কর্য (২) কেন জানিনা আরো বর্শাফলক। কিন্তু তোমরা বরানগরবাসী হয়ে বলরাম বসাকের গল্প জোগাড় করলে কি করে? এবং চিত্রালীর সঙ্গে তোমাদের যোগাযোগ। লিঃ ম্যাঃ মেলায় বসেওছিলে পাশাপাশি। বলি, মনে মনে বাসবকে অনুরোধ করবো ভেতরে macro view আর বাইরে micro view shift করতে। অনরণ্য কে?
কোন কিছু নিয়ে কোন কিছু বলা সবসময় indefinite। আমি একটা arrogana জাগাতে চেয়েছিলাম- মনে মনে
-ভাবনায়
বারীনদা (কৌরব)।
১৯৯৩এ বন্ধ হয়ে যাওয়া ঐহিক পত্রিকার পুনর্জন্ম ২০০৬এ, ‘যারা বৃষ্টিতে ভেজেনি’ সংখ্যায়। ঐহিকের ২০০৭ অনুগল্প সংখ্যায় প্রকাশিত হয় বারীনদার ঐহিকের ঠিকানায় পাঠানো প্রথম চিঠি। ২০০৯ পর্যন্ত ঐহিকের ‘চিঠিপত্র’ বিভাগে একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে বারীনদার পাঠানো চিঠিগুলো। ‘মনে’ বারীন ঘোষাল নন, তিঁনি ঐহিকের প্রিয় বারীনদা।
তখনও আমি ঐহিক-গণ্ডির বাইরে। তমালদার সাথে আলাপ ২০০৩এ। রাজুদার (প্রণব পাল) সূত্রে। ২০০৮এ আমিও ঐহিকান। তমালদাকে প্রশ্ন করেছিলাম,- ‘বারীনদা কে? প্রত্যেক সংখ্যায় চিঠি লেখেন?’ উত্তরটা বারীনদা-ই দিয়েছিলেন। ঐহিকের তরফ থেকে তাঁকে সম্মানিত করার সন্ধ্যায় কৌরবের স্টলে গেছিলাম বারীনদাকে প্রেস কর্নার অবধি নিয়ে আসতে। নাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। তারপর ঐহিকের ‘মুখ ও মুখোশ’ সংখ্যায় প্রকাশিত আমার লেখার উল্লেখ করে, ভুলগুলো দেখিয়ে দিয়েছিলেন। ঐহিকের ‘পাগল’ অথবা ‘শ্যামল সিংহ’ সংখ্যার পরও, ভালবাসা এবং বকুনি, দুই-ই বারীনদার থেকে আদায় করে নেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। আমি ২৮। তমালদা ৪২। উঁনি ৬৫ পার করেছেন বহুদিন। প্রাজ্ঞ প্রাক্তন এক দশক আগের সেই পুনর্জন্ম-লগ্নেই তাঁর মূল্যবান পথনির্দেশ দিয়ে গেছেন, যা পাথেয় করেই গত দশকে বড় হয়ে উঠেছি আমরা, বড় হয়ে উঠেছে ঐহিক...সেই মহীরুহ চেতনায়, চিন্তনে, স্নেহে, ভালবাসায়, আহ্লাদে, প্রশ্রয়ে...আমাদের বারীন ভাবনায়।
প্রকাশ: ঐহিক ‘নিঃসঙ্গ নির্মাণ’, ২০০৮
প্রিয় তমাল, ভালো আছো?
ঐহিক ‘অনুগল্প সংখ্যা’ পড়ে ইতিমধ্যেই কৌরবে ছোট করে রিভিউ বেরিয়েছে। সম্পাদকীয়টা চমৎকার। সাধারণত দেখে অভ্যাস আমাদের, পত্রিকায় একাধিক বা গুচ্ছ কবিতা থাকে অনেক সময়। কিন্তু গুচ্ছ গদ্য এই প্রথম দেখলাম। তখন মনে হল, আরে, ঠিকই তো! কেন থাকবে না? তবে space আর পড়ার সময় বেশি লাগে বলে ঋজু টান টান তীক্ষ্ণ গদ্যই থাকা উচিত, যা পাঠক এড়িয়ে যেতে পারবে না। সেক্ষেত্রে তোমরা- প্রণব, বাসব, শুভ্র, তুমি, অর্ণব সবার বেলাতেই তাই। তবে সব তো আর অনুগল্প হয়ে ওঠে নি। কোথায় থেমে গেলে অনুগল্প হয় সেটা বোঝা মুশকিল। কি তার সংজ্ঞা। তোমাদের এই সংখ্যায় সোমনাথ, চিন্ময়, সৌপ্তিক- এরা প্রায় অনুগল্পই লিখেছে। বিনায়ক খুব ভালো অনুগল্প লিখেছে। এখানে গল্প ও কবিতার সীমানা মুছে গেছে।
এরপর কি করবে তোমরা? আর এক বছর ঘুম? এরকম ভেসে জেগে ওঠার বাৎসরিকী চলুক তাহলে।
প্রেম-
বারীনদা।