বারীনবর্ণ

আকতার জাভেদ



সেই ২০০৫ এর দিকে, অনলাইন কবিতার মঞ্চ মুক্তমঞ্চে তুমুল আড্ডা। সেখানেই জানতে পারা কৌরবে’র কথা- বারীন’ দার কৌরবের নিজস্ব ঘরানার কথা। আমরা যারা সেই প্রচলিত ধারণায় কবিতা বা কবিতা জাতীয কিছু লিখে হুলস্থুল করে চলছি – তখনি কৌরবে কালোপাহাড়, ভাল পাহাড় ধারণাগুলো পুরো মনস্তত্ত্বে আলাদা সিনক্রোনাইজ করতে শুরু করে। আর কৌরব মানে তখনো নতুন কবিতা কিংবা উত্তরাধুনিক কবিতার সেই পালাবদলের কথা। তখনকার দিনে কৌরবের ফোরামে প্রতি মাসে ভালো মনোনীত হতো সেরা কবিতা। আর আমার মতো যারা সেই উত্তরাধুনিক কবিতার মোহে নিত্য নতুন নতুন পাল্টে ফেলা, কবিতাকে নিয়ে কত কসরৎ করে যাচ্ছি তারা দিনের পর দিন অপেক্ষা করতাম কবে বারীনদা কোন এক কবিতায় মন্তব্য করবেন। সেই অপেক্ষার পালা আমার ও একদিন শেষ হয়েছিলো....২০০৭ সালে। “বাসমতি” কবিতার বদৌলতে কৌরব সেরা মনোনয়নে হাতে পাওয়া তিনটি কৌরব উপহার। আর কৌরব উপহার মানে কৌরব বই তালিকা হতে নিজেই বাছাই করা তিনটি বই পাওয়া। সে সময়ে – আমি চেয়েছিলাম কৌরব থেকেই যে তিনটি বই, তার মধ্যে ছিলো বারীনদা’র এ:লুলু । আমার কবিতা ভাবনাকে বদলে দেয়া অনেকগুলো দৃশ্যপট। কবিতা’র দৃশ্যায়ন- আমি তাই বলি- বারীনদা’র এ:লুলু হতে,

ঐতো একটা সাদা কাগজ
কলমটা দাও
আমায় দাও জলমদ একটা আলোড়ন দশমীর
পিপাসা বা খেয়া উথলে ওঠে জলে
উথলে ওঠে আমোদ ফেরানো জলের সমুদ্রগুলি

কিংবা

গতবছরের ট্রেন এবারও বলল যাই
শীত শেষের পোষাকে
একথা কেউ মানল না যে সময়ে আগে
আরো একটা সময় ছিল
ট্রেনে বসা লোকটার কথা চকিত
পলাশের ডালে একটা উড়ন্ত মাফলার

অথবা

শারীরিক চিঠিগুলোর ডাক কিন্তু ডাকে না কাউকে
মৃত্যু ইকোলজির মধ্যে অথচ একটাই ফিটিংপ্রিয়
নিশ্ গন্ধ


সেইসময় গুলোতে এই যে বারীন দা’র কবিতাগুলো আমাকে বা আমার কবিতাভাবনার ভেতর যেন মিথ্সক্রিয়ার সৃষ্টি করে, নিউরণের ভেতর কবিতার দাবানল। কবিতা আর কবিতা থাকেনি, একটা জলজ পাতার জন্য অনেকটা ডুবে থাকা অন্তমূল।

বারীনদা হয়তো নেই, কবিতার অলিগলিতে, সালোক-সংশ্লেষনে এই যে রসায়নের মিশ্রন, তাতে তো বলতেই হয়- উনার ভাষায়

ভুলেছে কাকসভা ভৌ ভৌ আমাকে
এই শুভরাত্রি আর যাবে না ছেড়ে
পদে পদে উৎপাদিত ধুলোর জন্য আমারই ময়লাংগ
তুমি কি যেন তুমি বারীনবর্ণ