ভুল - পাখি

তুষ্টি ভট্টাচার্য্য

ভুল নিয়ে আমার কোনো বাড়াবাড়ি নেই । ভুল আমার পোষা ময়না । আমি ভুল পুষি , ছোলা খাওয়াই , কথা বলতে শেখাই । ভুলকে বলি – বল , হরেকৃষ্ণ । ভুল বলে ওঠে ,
ছোলা দে । এবার ধমক দিয়ে বলি , বল – ঠিক করে বল -- ভুল বলে ওঠে , ক্যা রে ,
ক্যা রে ! আমি রাগে ছোলার বাটি উল্টে দিয়ে চলে আসি । খাঁচার দরজা খুলে রেখে আসি । নিশ্চিন্ত হয়ে ঘুমোতে যাই , এই ভেবে যে , কাল সকালে আর ওর মুখ দেখতে হবে না । বেশ দেরী করে ঘুম থেকে উঠে খাঁচার কাছে গিয়ে দেখি - ওমা , সে ব্যাটা ঠিক বসে বসে গান গাইছে । আমাকে দেখে ডালে উঠে চারপাক নেচে নিয়ে বলে ওঠে , দে , ছোলা দে । খিদে পেয়েছে । আমিও মায়ায় পড়ে যাই , একবাটি ছোলা আর একটা পাকা পেয়ারা দিয়ে দিই ওকে । গপাগপ খায় বাছাধন , খাওয়া শেষ হলে ঠোঁট মোছে ডালে ঘষে ঘষে , অনেক যত্ন করে । আমি ওকে সময় দিই জিরিয়ে নেওয়ার ।
এরপর যখন দেখি ভুলের মুখে বেশ তৃপ্তির ছাপ , তখন আবার ওকে হরেকৃষ্ণ শেখাতে বসি । বল – হরেকৃষ্ণ ! ও বলে , ঘুম পাচ্ছে খুব , একটু ঘুমিয়ে নিতে দে না বাপ ! ব্যাস আবার আমার রাগ হয়ে যায় । আমি দরজা-জানলা এঁটে কাজে চলে যাই । একদম স্থির সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি , না – আর নয় । বহুত বার বেড়েছে ও । এইবারই শেষ । বাড়ি ফিরে অন্ধকারে চুপি চুপি ওর গলা টিপে মেরে দেব । এইটুকু তো সরু গলা , দু আঙুলের চাপেই মরে যাবে ও । পরেরদিন ময়লার গাড়িতে ওর চুপসানো বডিটা ফেলে দেব প্যাকেটে মুড়ে । প্ল্যান ফিক্স হয়ে গেল বলে ফুরফুরে মেজাজে কাজকম্ম সারতে লাগলাম । সন্ধ্যেবেলা বারে বসে বন্ধুদের সাথে তিন পাত্তর খেয়ে খুব বাওয়াল করলাম । শিস দিতে দিতে বাড়ির পথ ধরলাম ।
নিঃশব্দে দরজা খুললাম , দেখি ব্যাটা ঘুমোচ্ছে অঘোরে । আলতো করে তুলে আনলাম ওকে । ঝটপট করে উঠল , পাখনা দুটো মুচড়ে ধরে খুব কাছ থেকে ওকে দেখলাম । ওর রাতকানা চোখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম , সেখানে কেবল শূন্যতা ছাড়া আর কিছু নেই । ওই স্থির চোখের দিকে তাকিয়ে কেমন যেন একটা গা শিরশিরে অনুভূতি এলো । আমি কি ভয় পাচ্ছি ? ধুর , আমার মত ডেয়ার ডেভিল একটা সামান্য পোষা ময়নার রাতকানা চোখের দিকে তাকিয়ে ভয় পাব কেন ! আসলে এসব তরলের অ্যাকশান । আমার হাতের মুঠোর মধ্যে ধুকপুক টের পাচ্ছি । শরীরের গরম টের পাচ্ছি । আমার হাত ঘামছে একটু একটু করে । কপালে , নাকেও বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে । নাহ , আজ বড্ড ভ্যাপসা দিন । এসিটা চালিয়ে বরং একটু বসি । তারপর ও ব্যাটাকে খতম করা যাবে ধীরেসুস্থে । তাড়া তো নেই কোনো , রাত এখনও অনেক বাকি । ওকে খাঁচার ভেতর চালান করে দিয়ে সোফায় এলিয়ে বসে পড়ি ।
বসে থাকতে থাকতে একটু ঢুলুনি এসে গেছিল বোধহয় । নইলে আমি স্বপ্ন দেখে চেঁচিয়ে উঠবই বা কেন ! স্বপ্ন বলা যায় কি একে ? নাকি দুঃস্বপ্ন ! দুঃস্বপ্ন তো এরকম হয় না । সে যাই হোক , আমি দেখলাম – আমি নিজেই আমার ভুলের মত এক ময়না পাখি হয়ে গেছি আর গাছে বসে খুব শিস দিচ্ছি । এ পর্যন্ত ঠিকই ছিল , সন্ধ্যে হতে দেখলাম আমি ক্রমশঃ কাক হয়ে যাচ্ছি । আমার গলায় আর সুর নেই । ভাবলাম , কাল সকালে নিশ্চই ঠিক হয়ে যাবে । কিন্তু সকালে নিজের কাকা ডাকে নিজেই চমকে উঠলাম । তাহলে আর আমি ভুল নামের ময়না নই ! ভালোই হল একদিকে , আমাকে আর কেউ পোষা পাখি বলবে না । স্বাধীন হয়ে ঘুরে বেড়াবো , নাই বা গেল শিস দেওয়া । এভাবে সারাদিন বেশ ঘুরে বেড়ালাম ফ্যা ফ্যা করে । বিকেল হয়ে এলে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল । মনে হল , কই গেল আমার গান আর সুর ? এই কর্কশ ডাক নিয়ে কাটিয়ে দিতে হবে সারা জীবন ! পাখিরা কি আত্মহত্যা করে ? শুনেছিলাম অরুণাচলে বছরে একবার দলে দলে পাখি এসে আগুনে ঝাঁপ দেয় । কেউ জানেনা কি কারনে পাখিদের এই মৃত্যু অভিযান । আমিও কি তাহলে অপেক্ষায় থাকব ওই সময়ের , উড়ে যাব সেই মৃত্যুর দেশে ? চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি আমি আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছি , আমার কালো শরীরটা মুহুর্তের মধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে ।
আঃ , কি জ্বলুনী সারা শরীরে , আমি আর সহ্য করতে পারছি না ......
এক চটকায় ঘুম ভেঙে গেল । কনকনে এসিতে শীতে কুঁকড়ে সোফায় শুয়ে থাকতে দেখলাম নিজেকে । কেমন যেন মায়া হল নিজের ওপর । খুব আদর করলাম নিজেকে । আয়না দেখে চুল আঁচড়ালাম , বডি স্প্রে দিলাম গায়ে । একটা ফ্রেশ টিশার্ট গলিয়ে বেশ ভালো লাগল । এবার তাহলে আমার ময়না নামের ভুল-পাখিটার একটা ব্যবস্থা করা যাক । হয় ও থাকবে নাহয় আমি । আর যদি ওকে বাঁচিয়ে রাখি , আমার কথা শুনে ওকে চলতে হবে । কিন্তু ও তো এখন ঘুমোচ্ছে , ওকে জাগালেও ও এখন দেখতে পাবে না । আমার সঙ্গে মুখোমুখি বসতে হবে ওকে । তাহলে কি আজকের রাতটা ওকে নিষ্কৃতি দেব ? কিন্তু তাহলে আবার সকালে উঠে ওর বেয়াদবী সহ্য করতে হবে । আমার কথা ও কিছুতেই শুনবে না , শুনবে না , আমি বুঝে গেছি । যাক গিয়ে , এতদিন যখন কাটল এভাবে নাহয় আর একটা রাত ! যা রে রাতকানা-পাখি , ঘুমো , শেষ ঘুম ঘুমিয়ে নে আজ ।
ওকে ঘুমোতে দিয়ে আমার ঘুম চলে গেল । ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রাতের রাস্তা দেখে কাটালাম , দুএকজন মাতালের প্রলাপ শুনলাম , ভোর রাতে যখন ঘুম এলো অবশেষে , আর বিছানায় গেলাম না । একটু বাদেই আলো ফুটবে , জেগে উঠবে আমার ভুল-পাখি । আজ সকালেই চোখাচোখি , মুখোমুখি বসব ওর সাথে । শেষবারের মত ওর সাথে বোঝাপড়া সেরে নেব । আমার কথা শুনেই ওকে চলতে হবে , কথার অবাধ্যতা আমি পছন্দ করি না । অবশেষে অন্ধকার ফিকে হয়ে এলো , কা কা ডাক শুনতে পেলাম । আমিও ছুটে গেলাম খাঁচার কাছে । খাঁচার ঢাকনাটা একটানে খুলে দিলাম । দেখি ও একটু নড়েচড়ে বসল । ডানার খসখস শব্দ ঊঠল । আমার দু চোয়ালের রগ শক্ত হয়ে যাচ্ছে । নিজেকে খুনীর মত দেখাচ্ছে নিশ্চই । লাগুক গিয়ে তাই , আমি কারুর পরোয়া করি না । আজ এসপার নয় ওসপার ! তার আগে এক কাপ চা নিয়ে আসি বরং ।
চায়ের কাপ হাতে নিয়ে এলাম খাঁচার সামনে । এর মধ্যেই ও চেঁচামেচি শুরু করে দিয়েছে ছোলার জন্য । আমাকে দেখেই বলে উঠল – খেতে দে , খেতে দে , খেতে দে ... আমি হিসহিসিয়ে উঠলাম , আমার চেরা জিভ বেরিয়ে এলো মুখ থেকে , শেষবারের মত ওকে শেখাতে চাইলাম , বল পাখি – হরেকৃষ্ণ , হরেকৃষ্ণ ! ও বলল – ছোলা দে । আমার রাগের পারদ উঠে গেছে শেষ ধাপে । খাঁচার ভেতরে হাত ঢুকিয়ে খপ করে ধরলাম ওকে । এই প্রথমবার মনে হয় ও ভয় পেয়েছে । খুব ছটপট করতে লাগল হাতের ভেতর , তারপর ঠোকরাতে লাগল । আমি একবারের জন্যও বাঁধা দিই নি ।
নে - তোর জীবনের শেষ ইচ্ছে পূরণ করে নে । আর তো কয়েক মুহুর্ত থাকবি এই পৃথিবীতে । হাত ঠুকরে ও রক্ত বের করে ফেলল শেষ পর্যন্ত । এবার ওকে থামালাম ।
হাতে খুব ব্যথা করছে , মাথায় রাগ চড়ছে । আর তোকে সময় দেবো না , আমার ভুল-পাখি ! হাতের রক্ত ওর পালকে মুছে নিলাম , দু আঙুল দিয়ে ওর গলায় আলতো চাপ দিতে শুরু করলাম । দেখি ওর ঠোঁট ফাঁক হয়ে জিভ বেড়িয়ে আসছে । ওর এলিয়ে আসা তুলতুলে জিভটায় আমার বুড়ো আঙুলের নখ দিয়ে একটু সুড়সুড়ি দিলাম । দেখলাম সাড় নেই কোনো । নাঃ , এত সহজ মৃত্যু তো তোকে আমি দেবো না । মৃত্যু যন্ত্রণা তিল তিল করে ভোগ করাবো তোকে । ছেড়ে দিয়ে দাঁড়ে বসিয়ে দিলাম ওকে । জল দিলাম এক বাটি , চুকচুক করে জল খেলো একটু । দেখলাম ঝিমোচ্ছে , গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বেরোচ্ছে না আর । নিয়ে এলাম এক বাটি কল বের করা ছোলা আর এক টুকরো পাকা পেয়ারা । খা , বেটা খা – গায়ে তাগদ আন । আবার কাল তোকে দাওয়াই দেব । সারাদিন চুপচাপ রইল ও । আমিও আর ওর দিকে ঘেঁসি নি সারাদিন ।
পরেরদিন সকালে দেখি আবার যে কে সেই ! নির্লজ্জ পাখি আবার খেতে দে , খেতে দে শুরু করেছে । আমি ভাবলাম , দেখাই যাক – এবার যদি একটু শুধরোয় । খাবার দিলাম , তারপর বললাম , বল পাখি , এবার তো বল – হরেকৃষ্ণ , হরেকৃষ্ণ ! কে কার কথা শোনে , আমাকে বলতে লাগল – কে রে তুই , কে রে তুই ! আচ্ছা !! এবার সত্যিই আমি তোকে দেখাবো , কে আমি । আমি তোর সাক্ষাৎ যম , আবার এই আমিই তোকে সেদিন মরতে দিলাম না , এখন আবার জিজ্ঞেস করিস কে আমি ! এই খাঁচায় তোর আর জায়গা হবে না আজ থেকে । খাঁচার দরজা খুলে ওকে বের করে দিলাম । ওর বোধহয় বিশ্বাস হল না ঠিক , মেঝেতে ধপ করে গিয়ে বসল , লাফিয়ে লাফিয়ে ঘুরে ঘুরে আমার মতিগতি লক্ষ্য করল কিছুক্ষণ । তারপর ডানা ঝাপটা দিয়ে উড়বার চেষ্টা করল । একটু উড়ে গিয়ে বসল বারান্দার রেলিঙে । আবার আমার দিকে মুখ ঘুরিয়ে দেখল । আচ্ছা ওর চোখে কি মায়া দেখলাম একটু ! নাকি আমার মনের ভুল , নিজেই ঠিক বুঝলাম না ।
মনটা বেশ হালকা লাগছে । যাক , আর ও নেই , আপদ বিদেয় হয়েছে । সারাদিনের শেষে বাড়ি ফিরে অভ্যেসবশে খাঁচার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম । বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল খালি খাঁচা দেখে , মনকে বোঝালাম – দুএকদিনেই এই না থাকাটাও অভ্যেস হয়ে যাবে । আর ও তো আমার কোনো উপকারে লাগছিল না , বরং মনের শান্তি নষ্ট করছিল । এ একদিক থেকে ভালোই হল । মারতেও হল না , জোর করতেও হল না , ওর বন্দীদশা থেকে মুক্তি দিলাম । যা রে পাখি , মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়া , যা খুশি বল , যা খুশি খা , যা খুশি কর গিয়ে । আমার কর্তালি আর তোকে ভোগ করতে হবে না । আমিও বিরক্তির শেষ সীমায় চলে গেছিলাম আর তুইও বোধহয় নিজের মত চলতে চাইছিলি । তাহলে আর কি ভালোই হয়েছে যা হওয়ার । রোজ রাতে টিভি দেখার সময়ে খাঁচাটা ঘরে নিয়ে আসতাম , আজও আনতে যাচ্ছিলাম আর কি একটু হলে ! থাক পড়ে আজ থেকে ওই খাঁচা সারাদিন-রাত বারান্দায় পড়ে । আমার কি ! … ধুর ছাই , টিভির সব নিউস চ্যানেলে একই খবর আর বাংলা চ্যানেলে একই ঢঙের সিরিয়াল , স্পোর্টস চ্যানেলে এ আবার কোন দেশী খেলা দেখাচ্ছে কে জানে ! একটা মনের মত সিনেমাও দেখার নেই … ধুর ধুর আমাদের দেশের সিস্টেমটাই একদম যাচ্ছেতাই , জীবন উপভোগ করতে হলে পশ্চিমে যাও – এই জন্যই বলে ! ঘুমও আসছে না ছাই , খুব অস্থির লাগছে কেন কে জানে । মনে হয় গ্যাস হয়েছে । হ্যাঁ , তাই হবে , সন্ধ্যেবেলায় একটা শিঙাড়া খেয়েছিলাম , তারই ফল ভোগ করি এখন ! বারান্দায় গিয়ে একটু ফ্রেশ এয়ার নিয়ে আসি তার চেয়ে ।
ঘড়ি দেখি নি , মোবাইলটাও ফেলে এসেছি ঘরে । তবু রাত যে অনেক হল বোঝা যাচ্ছে নীচের শুনশান রাস্তা দেখে । একটা টানা রিক্সা রাস্তার ধারে সাইড করে দেহাতী রিক্সাওয়ালা বন্ধ চায়ের দোকানের খালি বেঞ্চের ওপর শুয়ে পড়ল । আর শোওয়ার সাথে সাথেই যে ঘুমিয়ে পড়ল সেটা এখান থেকেই ওর শরীর ছেড়ে দেওয়া থেকে বেশ বোঝা যাচ্ছে । এরাই বোধহয় চরম সুখী পৃথিবীতে । দিনভোর খাটে , খায় , শান্তির ঘুম ঘুমোয় । আর আমি এক হতচ্ছাড়া মানুষ , যে কিনা এক ভুল-পাখির ফাঁকা খাঁচার পাশে দাঁড়িয়ে রাত জাগছি । কোনো মানে হয় এই সব ন্যাকামোর ! অথচ বাস্তব এটাই , আমার মন খারাপ , ভীষণ কষ্ট হচ্ছে ওর জন্য , আমার ভেতরটা ওই বেইমান পাখির জন্য ছটফট করছে , এমনকি একা একা এই বারান্দায় , যেহেতু কেউ দেখছে না , কাউকে এখন আর লুকোনোর নেই , তাই আমার গাল বেয়ে অঝোরে কান্না নামছে । আমি কাঁদছি , অনেক অনেকদিন বাদে আমি কাঁদছি , মিস করছি ভয়ানক ওই শয়তান পাখিটাকে । আর ও এখন না জানি , কোথায় আরামসে ঘুমোচ্ছে ! সারাদিন কি খেলো কে জানে ! ওনার তো আবার হাবিজাবি রুচত না ! এতদিন খাঁচায় ছিল , ওড়ার অভ্যেস চলে গেছে , চিল-শকুনে ঠুকরে মেরে দিল কিনা কে জানে ! রাতে হয়ত কোনো ডালে বসে ঘুমোবার চেষ্টা করছে , তখনই হয়ত কোনো প্যাঁচা এসে ধরল ওকে ! ওঃ , আর ভাবতে পারছি না ! ধুর ধুর , আমি কেন ভাবতে যাচ্ছি এসব । আমার তো আপদ বিদেয় হয়েছে , আজ খারাপ লাগছে , কয়েকদিন বাদে সব ঠিক হয়ে যাবে । কথায় বলে মৃতের শোক তিনদিনের ।
রাতশেষে ঘুমিয়ে পড়লাম । বেশ বেলায় ঘুম ভাঙল । ঘরের মধ্যে রোদের কড়া ধাতানি দেখে হুড়মুড় করে বিছানা ছাড়লাম । অলস পায়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম । কাল রাতেই ঠিক করে ফেলেছিলাম , ওই খাঁচার দিকে আর তাকাবো না । রদ্দিওয়ালার কাছে কিলো দরে বেচে দেব । আমার এক প্যাকেট সিগারেট খরচা তো উঠবে ! কোনো স্মৃতি রাখবো না ওর এই বাড়িতে । সরগরম রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছি , মনটা চা চা করছে – এমন সময়ে একটা খসখস আওয়াজ শুনলাম যেন । ভাবলাম মনের ভুল । কিন্তু কিছুক্ষণ পরে আবার সেই একই আওয়াজ । খাঁচার দিক থেকেই আওয়াজটা আসছিল যেন । যেহেতু প্রতিজ্ঞা করেছি , তাই তাকাতেও পারছি না ওই দিকে । কান খাড়া করে রইলাম । আর ঠিক যা ভাবছিলাম তাই !! একটু বাদেই শিস দিয়ে উঠল শয়তানটা ! রাগে গা জ্বলে গেল , চিৎকার করে জানতে চাইলাম , কেন ফিরে এসেছিস তুই ? বেশ তো চলে গিয়েছিলি ড্যাংড্যাং করে ! আবার এসেছিস আমাকে জ্বালাতে ! আমাকে কি একটুও শান্তি দিবি না ! ও যথারীতি আমার কোনো কথায় কান দিল না । এক পাক নেচে নিয়ে বলল , ক্যা রে – ক্যা রে ! আবার ধমকাতে শুরু করায় , এবার বলল , খেতে দে , খেতে দে , খেতে দে ......