আমির খুসরোর দিনলিপি থেকে

শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়




বারীন ঘোষাল কে




নতুন জন্মানো হিন্দাভি ভাষার লিপি কী হবে?
কোন রঙে লেখা হবে হজরত নিজামুদ্দিনের কথা?

উন্মুক্ত এক শতরঞ্চি পাতা এই বিকেল
উবড় খাবড় ধুলো ঝড়

আমি কি থাকব ভাবি
কারুর শূন্য জায়গাতেই তো আসা
ভেবেছি কি তার কথা ?

সামনেই রঙিন হচ্ছে নিগার গরি
ছোট ছবি যুদ্ধ বিবরণ
আমি তাতে সদ্য নিহত ঘোড়া



পোড়া গন্ধ
শহরের পত্তন ও পতন কালে
লেগে থাকে ব্যবহৃত ঘোড়ার নাল
শিসা রঙের বিকেলে সন্ধান করা
রুটি ও মাংস

উত্থান বা সমাপ্তি আসলে এক দীর্ঘ ভাষাবদলের খেলা

এক সভ্যতার পুড়ে যাওয়া শব্দ
পল্লবিত বিদ্যুৎ নতুনের ছায়া ব্যকরণে



যে কোনও মুহূর্ত যখন আগেরটার চেয়ে দামি
লাফিয়ে উঠেছে চোখের পাতা
খোলা
আলোর মধ্যে বিঁধে রেখেছে
কালো পাথরের কর্কশ প্রাচীর শীর্ষ – আসন্ন বার্ধক্য



যে মুহূর্ত প্রিয়তম – ঠিকরে ওঠে অচেনা পাখির ডাক
দিগন্তের সুগন্ধ
আমরা কি এভাবেই সবকিছু
পূর্ণতর কোনও বৃষ্টির ভিতরে রেখে আসব?
অনন্ত লালার জন্তু – দীর্ঘ আসমান
আমাদের আচ্ছন্ন করবে আর আমরা নিজেদের
খুঁড়ে ফেলব সিক্ত বীজের সন্ধানে
অথবা দেখব – চৈত্র শেষের হালকা তুলোবীজ বসেছে আমার বুকে
যেভাবে রয়েছে মুরশিদ
আমাকে স্তন্যহীন জানার পরেও



নিজেকে বলি বিপজ্জনক হয়ে ওঠো
সুলতান বা মোহের সামনে
এভাবেই প্রয়োজনীয় হয়ে উঠবে তুমি
পরমুহূর্তেই দেখি তন্দুর থেকে বেরিয়ে আসছে রুটি
সূর্যের শরীর থেকে আরেক সূর্য
সে তো বিপদ জনক নয়
স্পষ্ট হয়ে ওঠে স্মৃতির পাহাড়ি নদী
পরিষ্কার ধারার নিচে
নীল ধৌত উপলখন্ড – আমার হজরত!

১০

মরুবিকেলের আলো, স্পষ্ট মেঘে
ভেসে আছে কয়েকটা প্রিয় শব্দ
তাদের ধ্বনি প্রতিফলিত কমলা রঙে
উশকে দিয়েছে উচ্চারণ; যদিও জিভে মরশুমের
প্রথম আঁধির বালি আমাকে বাধা দিয়েছে –
তারপর জলকণা আমাকে উন্মুক্ত করে
সামনে খুঁড়ে দিয়েছে শব্দটির আত্মরক্ষা পরিখা
শব্দটি বৃক্ষসম্ভব – ছায়াসম্ভব বিকেলের দিকে
মিলিয়ে গিয়েছে
তখনও না ভেজা জেনানা মহলের পর্দার দিকে