বারীনকে কতটুকু চিনি ?

সমরজিৎ সিংহ



কমল চক্রবর্তীর সঙ্গে পরিচয় ছিল, বারীনের সঙ্গে নয় । সত্তরের দশকে কৌরব যখন জামশেদপুর রৈ রৈ করে বেরুচ্ছে, আমি জানতাম, এ কমলেরই কামাল ।
আমার এই জানা এক ধরনের অজ্ঞতা, কেন না, কৌরব মানে একা কমল নয়, আরও অনেকে ।
এই আরও অনেকের একজন বারীন, বারীন ঘোষাল । সম্ভবত, ২০০৫ সালে, দিল্লীতে, অরুণ চক্রবর্তীদের উদ্যোগে আয়োজিত বহির্বঙ্গ সাহিত্য উৎসবে আমাকে ডাকা হয়েছিল । এটা অরুণদার জন্য হয়েছিল ।
ঐ অনুষ্ঠানে, বারীনের সঙ্গে পরিচয় হয় । রাতে, অরুণদার বাড়িতে, ডিনার পার্টিতে, সে পরিচয় গড়ায় বন্ধুত্বের দিকে ।
সেই থেকে, বারীনের সঙ্গে, প্রায়ই, কথা হত ফোনে । একদিন, বারীন জানাল, তার জন্ম ত্রিপুরায়, সোনামুড়া তার মামাবাড়ি । যাবেও বলল ।
এর মধ্যে কখন যে তাকে বাপ বলে ডাকতে শুরু করেছি, খেয়াল নেই । হলদিয়া উৎসবে, হোটেলে ফিরে, রাতভর আড্ডা দিয়েছি বাপ-পোলা । কিন্তু, সেরাতে, কখনও আমরা লেখালেখি নিয়ে মত বিনিময় করিনি । পরেও না ।
আসলে আমাদের সম্পর্ক লেখার ছিল না । তবু, দ্বাদশঅক্ষর যখন করতাম, তার লেখা ছেপেছি । বারীন তার বই পাঠাত । কাগজপত্র দিত । বইমেলায় গেলে, ধরে নিয়ে, কৌরবের স্টলে নিত । এটুকুই ।
আমরা, কোনোদিন, কেউ কারও অন্তর খুলে দেখিনি । দরজা থাক, জানালাও খুলিনি বোধ হয় ।
এ কেমন সম্পর্ক ? একবার, তাকে বলেছিলাম । হেসে, উত্তরে, বলেছিল, বাপ-পোলার সম্পর্ক এরকমই হয়। হয়ে থাকে ।