বারীনদা আপনাকে

সৌমনা দাশগুপ্ত



বারীনদা, আপনার সঙ্গে আমার কোনো ছবি নেই। সেই অর্থে আড্ডাও হয়নি কোনোদিন। কতবার ভালপাহাড়ের কবিতা উৎসবে যেতে বলেছেছেন। আমার যাওয়া হয়নি। প্রতিবার ভাবতাম এর পরের বার যাব। সেই পরের বার আর আসবে না কোনোদিন এটা ভাবতে পারি না। অনেকবার কলকাতায় এসে কফিহাউসে যেতে বলেছেন। আমার সেখানেও যাওয়া হয়নি। শুধু আজও ভুলতে পারি না হলদিয়ায় কবিতা উৎসবে সেই প্রথম দেখার দিনটি। আমি তখন সদ্য লেখালিখি শুরু করেছি। কিন্তু প্রথম আলাপেই সেই অর্বাচীনকেও আপন করে নিয়েছেন। তারপর লিটল ম্যাগাজিন মেলায় কতবার দেখা, টুকরো টাকরা কথা। একটু আধটু গল্প। সবসময়ই মনে হয়েছে খুব কাছের একজন মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। আপনার লেখা বা কবিতার ধারণা নিয়ে কথা বলা আমার পক্ষে বাতুলতা। আমি শুধু কবিতার একজন হোলটাইমারকে দেখেছি, যিনি ইজম মত নির্বিশেষে সকল কবিতা-শ্রমিককে কাছে টেনে নিতেন। দেখা হবে বারীনদা কোনো এক অলৌকিক কফিহাউসে। আজ কেবল আপনার জন্য আমার এই ছোট্ট চিঠি

ক্যারাভ্যান

এই দীর্ঘ এবং অবসাদগ্রস্ত সুড়ঙ্গের শেষে যে মেঘ বসে ছিল, তাকে অস্বীকার করবার কোনো উপায় তোমার ছিল না। গত সাতদিন ধরে তোমার ঘুমের ভেতর কোনো স্বপ্ন আসছিল না। তুমি কিন্তু প্রতিদিন ঘুমের সঙ্গে কিছু ওষুধ মিশিয়ে নিতে আর অপেক্ষা করতে। এই অপেক্ষার শেষে ছিল কালো এবং হাওয়াবিহীন চৌকো একটা ব্যাপার। তুমি শ্বাস ধরে রাখছিলে আর তোমার বিছানা ভিজে যাচ্ছিল। জল পতনের শব্দ শুনতে শুনতে তুমি ঘেমে উঠছিলে, তোমার পক্ষে আর শ্বাস ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। এবার তুমি বিছানায় কিছু পাত্র বসিয়ে দিতে পার আর জল পড়ার এই অদ্ভুত শব্দে তুমি কেঁপে উঠবে আর কালো এবং চৌকো এই জানলা একদিন ভেঙে যেতে থাকবে।তোমার বাড়ির সামনের রাস্তায় ততক্ষণে একটা পরিবর্তন ঘটে গেছে। রাস্তা এখন আর রাস্তা থাকতে পারছে না। একটা কালো এবং লম্বা মরুভূমি শুষে নিতে নিতে কংক্রিট ক্রমশ বালি হয়ে উঠছে। উটের দীর্ঘ একটা সারি সেখানে হাঁটতে শুরু করে দিয়েছে। ওঠো এবং রাস্তায় নেমে এসো। এই ক্যারাভ্যান তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। বালিয়াড়ি তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। তোমার পা হাঁটু থেকে দুমড়ে আসছে। তা সত্ত্বেও বলব, উঠে পড়ো। এই সেই উজ্জ্বল এবং আলোকিত সময় যখন তুমি একটা জাহাজ নিয়ে বেরিয়ে পড়তে পার