মৃত্যু মুহূর্তের

বেবী সাউ



এক।

ঘুমের মধ্যেই নিজেকে ঈশ্বর ভ্রম হল

সারাদিনের সংবাদ ভেঙে জেগে উঠল সেইসব মৃত ব্যক্তির ছায়া
অবিকল চলন
বলন

খ্যাঁকখ্যাঁক হাসি

আর আমরা নিজেকে মৃত ভেবে

জীবিত আসনটাই
ছেড়ে দিলাম

দুই।

এইযে নেই-এর মধ্যে বিশাল করে পালিত হচ্ছে জন্মের আবহ

পাঁচমিনিটের শক্তিশালী মৌণযাপন কিচ্ছুটি করতে পারছে না

কেননা, অন্ধ দৃশ্যপটে ঘুরে বেড়াচ্ছে অসংখ্য রেটিনার আলো বিন্দু

যারা এতদিন মৃত ভ্রমে বেড়ালের ওম খাচ্ছিল

তিন।

আসলে যাওয়াটাই কেবলমাত্র মুখ্য

নয় ভেবে

ফুলের গুচ্ছে জন্ম নিচ্ছে অসংখ্য কীট

বাজারকে দিচ্ছি মৃত ব্যক্তির এযাবৎ
জমানো বায়োডাটা

আর তাতেই কোন এক রূপকথার
গল্প
তৈরী হচ্ছে ভেবে

ঠিকুজি-কুন্ডলী জানতে চাইছে
তামাম নিস্তব্ধ জনগণ

চার।

ঠান্ডা বাতাস গায়ে লাগার ফলে

যেমন

হেমন্ত নামে কোন ঋতু
উপলব্ধ হয়

স্বর্গদ্বারে তোলার সময়

বারীনদাকে দেখে

অরিজিনাল কোন সময়ে দাঁড়িয়ে আছি

বোঝা যাচ্ছিল না

পাঁচ।

সমস্ত কথার মধ্যে
বেঁধে রাখতে চাইছি

অথচ, এতসব না জেনে

তিনি চুপচাপ

ধূপের গন্ধ বড্ড মৃত্যুশোক
বয়ে আনে

বোঝাতে চাইছেন

ছয়।

এইযে বুঝতে না-চাওয়ার মধ্যেও
ফুটে উঠছে

নিস্তব্ধ প্রহর

আর আমরা দাঁড়িয়ে পড়েছি
কিংকর্তব্যবিমূঢ়!

সাত।

তুমি যেতে চাওনি

আর

আমরা যাওয়াটা আপেক্ষিক ভেবে
আটকানোর কথা ভাবিনি পর্যন্ত

অথচ,
রজনীগন্ধা ধূপ চন্দন গুছিয়ে
কবিতা গুছিয়ে

ভাবছি

আসি বলার মুহূর্তে তো
দইয়ের চামচ তুলে ধরার নিয়ম

প্রয়োজন ছিল

আট।

ভাবছি, আরেকবার
যদি কোনমতে দেখা হয়

অনেককিছু জেনে নেওয়া যেত

এই আস্ফালনটিকে
আশা বলা হবে

নাকি অন্তহীন শোক!

নয়।

মেলে ধরা ধানের শরীর
গোপনীয় দেরাজের চাবি

ছেড়েছুঁড়ে

সহজ বেরিয়ে পড়ছে ভ্রমণে

দশ।

প্রথম পুরুষ গুছিয়ে তুলছে অংশবিশেষ
মৃত বাঁশ
দ্বিতীয় লোকটি খই থেকে তুলে
ধরছে দু'চারটে আধুলি

তিনিই উত্তম
আগুনকেই সত্য ভেবে
মেনে নিচ্ছেন

গীতাকে