বারীন দা কে সামান্য একটা চিঠি

উমাপদ কর




প্রিয় বারীন দা,
এই চিঠি আকাশে ভাসিয়ে দেব। এই চিঠি বাতাসে উড়িয়ে দেব। মেঘ একে উড়িয়ে নিয়ে যাবে, বাতাস দেবে দোলা। ওরা ঠিক পৌঁছে দেবে তোমার কাছে। আর তুমি যে দেশে আছো, চিঠিটা পেয়ে তোমার মুখ আলোকিত হয়ে উঠবে। তক্ষুণি তুমি খুলে পড়তে থাকবে আর জেনে নেবে আমাদের খবর। এ-কদিনে আমরা মোটেও ভালো নেই গো। থেকে থেকে শুধুই তোমার কথা মনে পড়ছে। স্মৃতিতাড়িত হয়ে পড়ছি সকলে। তারই প্রকাশ ঘটছে ফেসবুক নামক স্যোসাল মিডিয়ার পাতায়। কত অনুজ ভালোবেসে তোমায় স্মরণ করছে কথায় কবিতায়। সবার মুখে একটাই কথা দৈহিক তুমি নাই ঠিকই, কিন্তু মানসিক তুমি আছো তাদের অন্তরে। এবং অনেকের মনেই তোমার আসনটি ভালোবাসার আর আমৃত্যুর। সম্পর্কের মধ্যে ভালোবাসা ছিল তোমার পাসওয়ার্ড। তাই এত ভালোবাসা সে তোমারই অর্জন।
কত কবি গদ্যকারের পারস্পরিক বন্ধনের সূত্রও ছিলে তুমি। তুমি ছিলে কবিতার দূত। ভালোবাসতে কবিতা আর কবিতার আড্ডা। নিরন্তর কবিতা নিয়ে তোমার পরীক্ষা-নিরীক্ষা অনুজদেরকে করত প্রাণিত। আজ আমি এই ছোট্ট চিঠিটা লিখছি, আর তুমি তরুণ থেকে তরুণতরদের কত চিঠি যে লিখেছ তার অন্ত নেই। তোমার ভালো-খুঁজে-বার করা সেই চিঠি তাদের আরও কবিতা অন্ত প্রাণ করে তুলত। আজ তারাই জনে জনে তোমার কথা বলছে, হয়ত আমার মতো চিঠিও লিখছে তোমাকে, আর পাঠিয়ে দিচ্ছে তোমার উদ্দেশ্যে। হয়ত চিঠি লিখতে লিখতে তাদের চোখের কোণা চিকচিক করে উঠছে। আর তুমি নিজেও একটা টান অনুভব করছ আমাদের জন্য। একেই বলে বণ্ডিং। কবিতার বণ্ডিং।
তুমি ছিলে লিট্‌ল-ম্যাগাজিনের প্রকৃত পৃষ্ঠপোষক। সারাজীবন লিট্‌ল ম্যাগাজিনের ভালো চেয়ে এসেছো আর নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজও করেছ। লিট্‌ল-ম্যাগাজিনই তোমার সাহিত্যকীর্তির ধারক ও বাহক। আর লিট্‌ল-ম্যাগাজিনের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষজনের সঙ্গে তোমার ছিল আত্মিক বন্ধন। আজ তারাই তোমাকে স্মরণ করছে নানাভাবে।
শোক পছন্দ করার চেয়ে তুমি সামনের দিকে তাকাতে ভালোবাসতে বেশি। বলতে কবিতাই ভরে দিতে পারে সব শূন্যতাকে। বিষাদ নয় আনন্দের মধ্যে আছে প্রকৃত উদ্ধার। কবিতা শুনতে পছন্দ করতে খুব। তাই এই চিঠির শেষে একটা কবিতাও জুড়ে দিলাম, যা তোমাকে মনে রেখে এই তো সেদিন লেখা। পড়ে জানিও কেমন লাগল, যা তুমি করে গেছ এতদিন।
খুব ভালো থেকো। আমার প্রণাম নিও।
ইতি তোমারই উমা। ০৫/১১/২০১৭

নির্মেদ ভালোবাসা
(বারীন-দা কে মনে রেখে)

চলতে থাকবে, যতক্ষণ না তোমার নিঃশ্বাস আমার হয়ে ওঠে
যেভাবে সাজিয়েছিলাম, সেভাবেই চলে গেলে
কুন্ঠা ছিল না চন্দনচর্চিত হতে মৃদু হাত আমার যতই কাঁপুক

এসব তো ভাবনাবিশেষ, শুধুই সাজিয়ে তোলা ভেতরে ভেতরে
দাঁড়াও থমকে, তোমাকে রক্তে মাংসে মেদে মজ্জায় আরেকবার গড়ে তুলি
তুমি নাহয় হালকা হেসো

ফেরাবার কথা আমি তো ভাবিনা, শুধু ওজন কমিয়ে হালকা করে নেওয়া
যত নেব আশ্চর্য ততই হালকা হয়ে ওঠে ভার
এত জীবন ছিল একটা জীবনে ঠাসা

হুররে, সবই রেখে গেলে প্রেম ও তিয়াসা, হাল ও বৈঠা, পানি ও অকূল দরিয়া
যতক্ষণ এত আয়োজন ততক্ষণই সাঁতার
তারপর মহা সমারোহে একসঙ্গে বসে দেদার আড্ডাপেক্ষায় আমার তরল

তোমাকে জানি বলে এক ধরণের ভ্রম তোমাকে চিনি বলে আমার আয়াস
সবকিছু ফুঁড়ে তুমি করোটি সাজিয়ে রাখো যত্ন করে
আর আমি ফুলের রেণু একটু একটু মাখিয়ে দিই তোমার শরীরে…


৩০/১০/২০১৭