এক যোদ্ধা ও সবুজের অভিযান

তমাল রায়




জেলা বিক্রমপুর, গ্রাম বজ্রযোগিনী। আলো কিঞ্চিৎ বেশিই হয়ত! অতঃকিম প্রিজম। ভাঙা আলোর দর্শন থেকে বিজ্ঞানকে নিষ্কাশন করলে, কিছু অস্পষ্টতার যে পথ, চলাচলে যা কিছু, তাকে সাথে করেই এক পর্যটনযাত্রায় দেখা হয়ে যায়, জ্ঞান তাপস দীপঙ্করের সাথে। কিছু পর,হয়ত অনেকটা পর পথে আর এক পর্যটক, ঘোষাল। জল না অশ্রু জানিনা তবে বারীন। মন্থনে, নিবিড় আত্ম অন্বেষণের সাথেই জুড়ে যাচ্ছে এটমিক থিয়োরির বম্বার্টমেন্ট। আলো থেকে অন্ধকারে, কোয়ার্কের দিকে...এ যাত্রা আসলে শরীর নয় বৈজ্ঞানিক মননের, বোধির ইলেক্ট্রিসিটি থেকে করোনা বৃত্তের, যা স্পর্শ করে আলোকিত হয় অতিকেন্দ্রিক চেতনা, কেন্দ্রের বিপরীতগামী এ যাত্রায় অন্ধকার থেকেই নিকষিত হেম, আলোর পথে যাত্রা, এক নিরঙ্কুশ কবিতা যাত্রা এক দুঃসাহসের, স্পর্ধার যাত্রা এক সিন্ধবাদ নাবিকের...

জাহাজডুবির পর এ সমস্ত হয়। যখন জনহীন দ্বীপে এক ভাসমান মানুষ খুঁজে পেয়েছেন এক আশ্চর্য সিন্দুক, যার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে করোনা, কোয়ার্ক, অতিকেন্দ্রিক চেতনার আলো আর ভ্রমণ...আর, অবশ্যম্ভাবী আবিষ্কার।
মাথাভর্তি জ্ঞানের সম্ভার, মণিবন্ধে কম্পাস নিয়ে এ বেরিয়ে পড়ায় তবু কোথাও লাল চাঁদ, আর জ্যোৎস্না, অথবা শত সহস্র বছরের পিঁপড়ে জীবন,ছুঁয়ে ছুঁয়ে,বিনিময়ে,কড়ি ও কোমলে,সিঁড়ি ভেঙে সিঁড়ির উত্থান আর আলোর বিচ্ছুরণ... হাতে তুলে নিচ্ছে তীব্র কুঠার, আর অচলায়তন ভেঙে চলেছে একা পরশুরাম... সোনাডি ওয়েস্টের চেয়ার টেবিল, আর বই বই অজস্র বই এর মাঝে মাথা গোঁজা এক সাধক, মাথার ওপর জ্বলছে এক অদৃশ্য আলো, যা তিনি ছড়িয়ে দেবেন আগামী তিন দশক ধরে...

মৃত কবিতার খোলশ ছাড়িয়ে , ম্যাগট পোকাদের তাড়িয়ে, পচা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্গন্ধ সরিয়ে একা গ্ল্যাডিয়েটর পথ আঁকছেন, দিন আঁকছেন, রাতও। অথবা সমস্ত আকাশ পরিব্যাপ্ত করে তুলছেন শব্দ না'কি লিপি সম্ভারে। কাব্যপ্রতিমা নয়,কবিতা লিপি,ব্যক্তিকে নির্মুল কর,কিল ইওর ইগো,আর অভিকেন্দ্রিক হও,স্পার্ক মারবে। আড়াল কর অন্ধকার। যতদূর অন্ধকারে একলা সফর, ততটাই আলো! দ্বিতীয় জীবনে অপর সত্বার সন্ধানে বেরিয়ে যা কিছু পুরনো,আবহমান, তার বাইরে পথ চলতে গিয়ে যত সে একা, ততটাই ঘুম আর তন্দ্রার মাঝে, জাগা আর ঘুমনোর মাঝে, বাঁচা আর মৃত্যুর মাঝে একটা পথ, যে পথে হাঁটবে ভাবী প্রজন্ম। যা কিছু চেনা তাকে অস্বীকার কর, ছুঁড়ে দাও চ্যালেঞ্জ নইলে নতুনের অভিধান, সবুজের অভিযান তৈরি হবে কি করে? কাদা আর ময়েস্ট সরিয়ে ঝাপসা অপ্রতিভাত থেকে আপাত এক অপ্রীতিভাজনেষু সফর জন্ম নিচ্ছে, মায়াবী সিমুম থেকে প্রণয়ধ্বনির সফটওয়্যার এ যাত্রায় গাছে, পাতায়, নুড়ি পাথরে ছড়িয়ে রয়েছে ভালোবাসাই, আদ্যন্ত এক গ্ল্যাডিয়েটরের। দূরে ওই পুবের পানে এ যাত্রায় তিনি একা নন, সঙ্গী ঊষর পুরুলিয়া বাঁকুড়া থেকে গ্রামবাংলা, বিভিন্ন ভারতীয় প্রদেশ, এমনকি কাঁটাতার পেরিয়ে পড়শি দেশের মানুষও। ঐহিক অনলাইনের এই সংখ্যা আদতে কোনো স্মৃতি উদযাপন নয়, এক মৃত্যু ইকোলজি। এক বিপ্লব, বিপ্লবের নভেম্বরে আমরা ছুঁয়ে থাকতে চেয়েছি এক আজন্ম বিপ্লবী কে, তিনি বারীন। লিটল ম্যাগাজিনের লাস্ট সামুরাই। তাই পুবের পানে এ যাত্রা, আজ ,আগামী অনন্তের...

চোখ রাখুন,লক্ষ্য করুন, এ সংখ্যার পাতায় পাতায় ভেসে চলেছে সময় - মাস্তুলের ছায়া, কিছু অশ্রু অধিকন্তু,বিনির্মাণ - নির্মাণে তিনিই বারীন। বঁ ভয়েজ।