রিক্সা-ঈশ্বর

শতাব্দী দাশ

মহুয়া সিনেমাহলের সামনে অটো থেকে নামতে নামতে সন্ধে হল। এবার খানিক এগিয়ে আবার পাটুলির অটো। অহনা লোকজনকে জিজ্ঞেস করতে করতে এগোয়। সেপ্টেম্বরের সপ্তাহান্ত । প্রাণ বাজি রেখে কেনাকাটা চলছে। উপচানো পশরায় ফুটপাথকে চেনা দায়। দোকানদারের হাঁকডাক, দরাদরি, গায়ে গা ভিড়। কাচঘেরা বিপণীর বাইরে পুজোর সাজে ম্যানিকুইন, ভেতরে একই ঠেলাঠেলি।

ভ্রু রিক্লেক্সেই কুঁচকে যায় অহনার । এই স্রোত ঠেলে সেই পাঁচ নম্বর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত হাঁটতে হবে ! একেই উইকেন্ডের বিকেল। পারতপক্ষে সারা হপ্তার খাটুনির পর বেরোনো এড়ায় সে শনি-রবিতে। এ সপ্তাহটা যেন অশনি হয়ে এল! শুক্কুরবার অফিসে ওভারটাইম। আর আজ পাখির বাড়িতে নেমন্তন্ন। পাখিকে ‘না’ বলবে কী করে? বললেই না শুনবে কে? রক্তিম, প্রতীক, আশিয়া- পাটুলির ফ্ল্যাটে আজ আরও সব পুরোনো কমরেডরা জড়ো হবে। দেখাসাক্ষাৎ হয় না তাদের সাথে কত বছর ! কিন্তু একটা ঝিমঝিমে ক্লান্তি আর আধো অনিচ্ছে তার পাগুলোকে ভারি করছে।

-যাবেন নাকি দিদি?

পিছনে হঠাৎ রিক্সার হর্ন।

রিক্সাটাই নজরে এল প্রথম। বাহারী, চওড়া সিট। হেলান দেওয়ার জায়গার উপরে নক্সাকাটা লোহার চুড়ো। বেশ সিংহাসন সিংহাসন ব্যাপার। হাসি পেল অহনার।

-যাবেন?

দ্বিতীয় ডাকে রিক্সা থেকে গড়িয়ে নজর আটকালো রিক্সাওয়ালায়। বয়স পঞ্চান্ন ছাপান্ন হবে। নাকি ষাট? বাবার বয়সী মানুষ। অহনা ইতস্তত করে। এদিকটায় অবশ্য এখনো সাইকেল রিক্সা চলে। মানুষের ঘাড়ে চেপে যেতে হবে হাতে-টানা-রিক্সার মতো- ঠিক তেমন ব্যাপার নয়। পাখি বলেছিল, ‘তারপর অটো নিয়ে নিস।’ রিক্সাও যায় কি ওদের ওখানে ? কতক্ষণ লাগবে কে জানে!

-চলেন না! কদ্দূর যাবেন?

‘চলেন না’-র আকুতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে যায় অহনার।

-পাটুলি থানা। যাবেন?

-যাব না কেন? পঁচিশ টাকা। পুরোনো থানা তো?

-না মনে হয়। নতুন থানার দিকেই এগোতে হবে আরো খানিক।

-অ। কতটা এগোতে হবে?

-ঠিক জানিনা তো।

-খানিক এগোলে কিন্তু পাঁচটাকা বাড়তি। আর যদি একদম সেই নতুন থানাই পৌঁছে দিতে হয় , তাহলে কিন্তু দশটাকা এক্সট্রা লাগবে- মানে পঁয়ত্রিশ।

-বেশ বেশ।

অহনা অল্প লাফে উঠে বসে রিক্সায় । অনেক দিন পর। রিক্সা খানিক এগিয়ে পাঁচ নম্বর বাস স্ট্যান্ড পেরিয়ে গলিপথ নেয়। পুজোর ভিড় পাতলা হয়ে আসে। লোকটার বয়স হয়েছে, প্যাডেলে পায়ের ওঠাপড়ার শ্লথতাতে বেশ বোঝা যায়। মন্থর রিক্সা অহনার ঝিমঝিমে ক্লান্তিকে একমুঠো প্রশ্রয় দেয়। এ’গলি সে’গলি বেয়ে, সন্ধের হাওয়াকে পাউডারের মতো অহনার গায়ে থেপে দিতে দিতে প্যারামবুলেটরের আয়েশে রিক্সা চলে। অহনার ইন্দ্রিয়রা ঘুম দিতে চায়। জোর করে জাগিয়ে রাখে তাদের সে। সান্ধ্য বিরিয়ানির সস্তা আতরগন্ধ, ল্যাম্পপোস্টের নিরাসক্ত আলো, পুরোনো ইস্কুলবাড়ি, মন্দিরের ঠং ঠং ঘণ্টা- সব তারিয়ে চাখতে চাখতে সে এগোয় । পথঘাট অচেনা । কোন জায়গা? গুগল ম্যাপ খুলে চটজলদি বুঝে ফেলতে ইচ্ছে করেনা ।

মন্দিরটার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ই, বোধহয়, হঠাৎ রিক্সা কথা কয়।

-এবার ঈদে এদিকে অনেকগুলো ‘পড়ল’, বুইলেন কিনা?

অহনা চমকে তাকায়। বয়স ছাড়া আর কিছুই তো খেয়াল করেনি রিক্সাওয়ালার। এবার আরো খানিক জরিপ করে। হাঁটু পর্যন্ত গোটানো প্যান্ট, সস্তার টি শার্ট- যেমনটা হয় আর কি! মাথার চুল পাতলা হয়েছে, কাঁচাপাকা। খোঁচা দাড়ি। ধর্মচিহ্ন কিছ খুঁজে না পেয়ে, কে জানে কেন, শেষ পর্যন্ত লোকটাকে হিঁদুই ঠাওরায় অহনা। অস্বস্তি হয় তার। একটা শিরশিরানি পিঠ বেয়ে দ্রুত সরে যায়।

এক ঝলক দেখেই কেন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল সে? বরং ছোট থেকেই তো শুনে আসছে, ‘দেখে তো বোঝা যায় না!’ ক্লাস ফাইভে রোলকলের সময়, গোপা ম্যাম অবাকপানা মুখ করে বলেছিলেন- ‘অহনা আলি? দেখে তো বোঝা যায় না!’ কলেজেও বন্ধুরা বলেছিল - ‘তোকে দেখে তো…!’ সান্নিধ্যর মায়ের সাথে যেদিন সে আলাপ করিয়ে দিল , খানিক ইতস্তত করে তিনিও… ‘তোমায় দেখে কিন্তু বোঝা যায় না!’

‘দেখে তো বোঝা যায় না’-তে বিব্রত হয় অহনা অহরহ । যেন ছদ্মবেশ ধরে অনভিপ্রেত ঢুকে পড়েছে অন্যের পরিধিতে ! চিহ্ন বা ছাপ কী কী খোঁজা হয় তার মাথা থেকে পা তক- সে জানে। তাদের ধারণ না করার মর্জিতে,অথচ, কোনো ছদ্মতা নেই। নকলনবিশিও না।

দেখে যদিও ‘বোঝা যায় না’ সবসময়, তবু রিক্সাওয়ালাকে হিঁদুই ঠাওরায় অহনা । কেন? অনধিকারপ্রবেশের সেই পুরোনো অস্বস্তিটা রিক্সাওয়ালার কথায় ফিরে এল বলে? যেন আড়ি পেতে সে শুনে নিচ্ছে যা শোনা উচিত নয়! যেন ‘স্বজন’ ভেবে ‘অপরের’ নিন্দে করে ফেলছে কেউ যেন তার কাছে, ভুল করে। তার জায়গায় পাখি থাকলে কী করত ? সপ্রতিভ ভাবে বলত- ‘পড়েছে’ না হয়। তাতে কী?

কিন্তু অহনা পারেনা। তার গলার কাছে কথা দলা পাকিয়ে যায়। ফাঁকা গলিতে হঠাৎ ভয় করে তার। এবার সত্যিই লোকেশন বুঝতে মোবাইল খুটখুট করে সে। গলি ছেড়ে বড় রাস্তায় পড়বে কখন রিক্সাটা?

-কিছু মনে করলেন আজ্ঞে? দিদি?

- না তো! না না!

- আমি একটু বেশি কথা বলি, না? সব সওয়ারি পছন্দ করেন না। আসলে রক্তারক্তি দেখতে পারিনে। বেদে গরু মারা নিষেধ, জানেন তো? আপনেরা পণ্ডিত মানুষ। এসব পড়েছেন নিশ্চয়।

- বেদে এমন কিছু বলেনি তো । কে বলেছে বেদে এসব আছে?

‘ছদ্মবেশের’ সুযোগ নিচ্ছে কি সে? খানিক থমকালো অহনা। তাই সই। ভুল তো বলেনি কিছু।

-বলেনি? ঠিক জানেন আপনে?

খানিক সন্দিগ্ধ শোনায় রিক্সাওয়ালাকে।

-হ্যাঁ । ঠিক। পুজোর কেনাকাটা হল আপনার?

-কই আর? চড়া দাম দিদি। নতুন ট্যাক্সো বসেছে।

-সেকি ! আচ্ছা বড় দোকানের বাইরে...মানে ধরুন ফুটপাথে যেসব…

-সব, সব! নতুন ট্যাক্সোর নাম করে সবাই আগুন দাম হাঁকতেছে ।

- ওহ্! তা ছেলেমেয়ে কজন?

- তিন ছেলে। সব লায়েক হয়েছে। নাতিনাতিনও আছে। তাদের এবার কিছু দিই নাই। জামাকাপড়ে হাত দেওনের উপায় নাই !

- নাম কী আপনার?

- অভিমন্যু। খালপাড়ে থাকি।

- জামা না পেলে নাতি-নাতনি ঠাকুর দেখতে যাবে কেমন করে?

- সে ওদের বাপেরা দিক নে! আমি গতরে খেটে দোবো। ছাওয়ালগুলারে রিক্সায় চড়ায়ে প্যান্ডেল প্যান্ডেল টিরিপ দে দোব । দাদুর রিক্সায় চড়ে ঠাউর দেখবে খনে। ইয়াব্বড় সব প্যান্ডেল!

ছেলেমানুষি অহঙ্কার অভিমন্যুর গলায়। অহনা আশ্বস্ত হয়। কত কিছু ভেবে ফেলেছিল সে গত দুয়েক মিনিটে!

-নবমীর দিন , দিদি, পাঁঠা বলি হয় এখানে ওখানে। সেও আমি দেখতে পারিনে। পাঁঠার মাথাটা এক কোপে নামিয়ে দেয় যখন...ধরেন ছিটকে পড়ল মাথাখান...হুইখানে...দেখব েন তখনও চোক দুইখান মিটমিট করতেছে! সে কি যন্তনা চোকে!

নড়ে চড়ে বসে অহনা। এহ্! কত সহজে দাগিয়ে দেয় তারা ! হিঁদু- মোসলমান, শিক্ষিত- অশিক্ষিত, প্রগতিশীল- পশ্চাৎপদ...বাইনারি কত অপ্রতুল মানুষকে জানতে!

অভিমন্যু বলে চলে,

-বউ এই শ্রাবণ পুন্নিমেতে গুরু ধরেচে। দীক্ষা নেছে। সে কি পীড়াপীড়ি আমায় ! দুইলোকে একসাথে দীক্ষে নিলে নাকি সংসারের মঙ্গল হবে। এত মানি টানি না!

-ঈশ্বর মানেন না?

-তা অত ভেবে দেকিনি। হয়ত মানি। হয়ত মানিনা। এই যে ধরেন পৃথিবী ঘুরতিছে, ছিটকে তো পড়ে যাচ্চেন নে আপনি আমার রিস্কা থেকি, এই যে আমার হাঁপ ধরচে শ্বাসে, তাও প্যাডেল মারতেছি- কেরামতি হয়ত আচে কারো ! নাকি? সেই কথাই বলতেছিলুম বউটারে।

-কী?

-বলতেছিলুম, দীক্ষে আমার হয়ে গেছে । চোখ দেছেন যিনি-যে চোখ দিয়ে তারা গুনি আকাশের, খালের উপর সকাল হওয়া দেখি- তাঁর কাছে দীক্ষে কবেই সারা ! অবশ্য যদি তেমন কেউ থেকি থাকে। আর যদি সে না থাকে,তবে অত ভেবে কী হবে ? রিক্সা টানতে টানতেই ঝুপ করে মরব একদিন।

-অ্যাগনস্টিক!

-কিছু বললেন আজ্ঞে?

-নাহ্। আপনি আসলে আমারই মতো। তাই বলছিলাম।

-আমার স্যাঙাত নুর ভাই, রিস্কা চালায়, তার বাড়ি ঘুটিয়ারি। শ্রাবণ মাসে ঘুটিয়ারিতে যে মেলা বসে, সেখানে ফকির পয়গম্বরেরা আসেন ।সুফিয়ানা মেহফিল বসে। গ্যাচেন কোনোদিন?

-না তো!

- শরিয়তিদের চোখে খচখচানি সে মেলায়। হিজড়েরা এসে সেখানে দরগায় মানত করে। তারপর পাগলপারা নাচে তারা! সে কি নাচ! সে কি নাচ! ওইখানে গেলে মনে হয়, তিনি আছেন। মনিষ্যির মনের এত আনন্দে আছেন।

-তাই নাকি? পুজোগন্ডার দিনে, ঈদেও তো আনন্দ!

-সে আর বলতে! যেমন ধরেন, আমার নাতি-নাতিনদের কথা! বেলুনওয়ালাই তো ভগমান সে শালার ছাওয়ালদের। দ্যাখেন নি? লাল-নীল-হলদে বেলুন উড়িয়ে যে লোক যায়? নাতিনাতিনদের কাছে তো সেই তো ঠাউরদেবতা !

- বেলুন-ঈশ্বর!

হা হা হেসে ওঠে অভিমন্যু। তারপরেই বড় বড় শ্বাস নেয়। কথায় আর প্যাডেলিং-এ হাঁফ ধরে তার।

অহনাও মৃদু হাসে। ফোঁস করে দম ফেলে অভিমন্যু আবার বলে,

- কী আর বাড়া-কমা হয়, বলেন দিদি? সেই তো মানুষ মরবে এখানে ওখানে...মরলেই সব শ্যাষ!

-তার আগে পর্যন্ত সেই একাই প্যাডেল মেরে যাওয়া, তাই না?

-বটেই তো! দাঁতে দাঁত চেপে রিক্সা টানতেছি দিদি, জোয়ান বয়স থেকি! তবে আর বলতেচি কী?

-একটা কথা বলা হয়নি তোমাকে...আপনাকে…

- কী কতা?

- আমার মা-বাবা দুই লোকই মুসলমান। আমিও এসব মানিনা। কিন্তু আমাদের বহরমপুরের বাড়িতেও ঈদে ‘পড়ে’ টড়ে !

আবার হা হা হাসি। আবার হাপরের মতো শ্বাস টানা।

-এই হল গে পুরোনো থানা,দিদি। এবার কতটা এগোতে হবে নতুন থানার দিকে, ফোন করে জেনে ন্যান।

অহনা ফোন লাগায়। ডায়রেকশন বোঝে খুঁটিনাটি। যে ভিড়টা আজ পাখির বাড়িতে, কেমন বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো তারা। ঘেরাটোপের বিপ্লব, স্বাধীনতা। চারিদিকে নোনা সমুদ্দুর ছাড়া আর কিছু তারা দেখতে পায়না যে! অহনাও পেত কি ? অথচ পাওয়ার চেষ্টা করা খুব দরকার ছিল। দ্বীপটা ছোট হয়ে আসছে। তার পাড় ভাঙছে মুহুর্মুহু।

পাখির অ্যাপার্টমেন্টের সামনে রিক্সা ব্রেক কষে। নেমে, পার্স হাতড়ে পঞ্চাশের নোট বার করতে করতে অহনা দ্যাখে- অভিমন্যু টলছে, টাল খাচ্ছে।

- মাথাটা এত ঘুরতেছে ক্যানো? মাথাটা…

ও পড়ে যাচ্ছে।

পঞ্চাশের নোটশুদ্ধু হাত বাড়িয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে অহনা। ঘেমো অভিমন্যু সিঁটিয়ে যায়। অহনার পার্স ঠক করে মাটিতে পড়ে। তারই রিক্সার পাদানিতে অভিমন্যুকে বসায় অহনা। বোতল বার ক’রে জল এগিয়ে দেয়।

-লাগবেনা দিদি, আছে।

রিক্সার বাহারী সিট টেনে ভেতরের খুপরি থেকে নিজের দু লিটার বের করে সে। হাসে।

- আজ বড়ই আনচান গরম। তাই...

এখনো হাঁফাচ্ছে অভিমন্যু। অহনার ইচ্ছে করে তার কপালে হাত রাখতে। সঙ্কোচে পারে না। ল্যাম্পপোস্টের মায়ালু আলো তার হ’য়ে হাত বুলিয়ে দেয় অভিমন্যুর বলিরেখায়।

- ঠিক আছেন আপনি? এটা আমার বন্ধুর বাড়ি। ওপরে গিয়ে একটু বিশ্রাম নেবেন?

অভিমন্যু হাঁ হাঁ করে ওঠে।

-একদম ঠিক আছি, দিদি। এতটা রিক্সা টেনে মাথাটা ঘুরে গেসল। বয়স হচ্চে তো!

পঞ্চাশের খুচরো দিতে এলে অহনা হাত জড়িয়ে ধরে অভিমন্যুর।

- বেলুন কিনে দিও ক’টা ওদের। বোলো, মাসি দিয়েছে।

শেষবেলায় আর চেষ্টা করেও ‘আপনি’ বেরোয়না অহনার । কী এক প্রগাঢ় প্রতিবাদ অভিমন্যুর চোখে আর মুখে এসেও থমকে যায় শেষ পর্যন্ত। টাকা হাতে নিয়ে সে দাঁড়িয়ে থাকে নির্বাক।

তিনতলায় কোনো এক ফ্ল্যাটের রাস্তার দিকের ব্যালকনির দরজা খুলে যায়। পাখির গলা পায় অহনা।

- ইজ দ্যাট ইউ, অহনা? কাম আপস্টেয়ার্স। দিস ওয়ে! তোর কথাই ভাবছিলাম আমরা টিভি দেখতে দেখতে। অ্যান্ড ইউ নো হোয়াট? আরেক র‍্যাশনলিস্টকে মেরে ফেলেছে। শট ফ্রম পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ। দিজ টাইম ইন বেঙ্গালুরু!

একটা ধাক্কা। যা তেমন নতুন কিছু নয়। যেমন ধাক্কা আজকাল প্রায়ই লাগে বুকে। ফ্রম পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ।

-আসছি!

উপর থেকে চোখ আবার রাস্তায় নামে অহনার । অভিমন্যু ততক্ষণে প্যাডেল মেরেছে। সার দেওয়া ল্যাম্পপোস্টের আলোদের ছুঁয়ে ছুঁয়ে তখন আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাচ্ছে জীর্ণ,ক্লান্ত এক রিক্সা-ঈশ্বর।