পাকা কাউনের ঘ্রাণবুকে তুমি

জয়দেব কর

পাকা কাউনের ঘ্রাণবুকে তুমি

এসো হে দেবী, জ্যোতির্ময়! শ্রাবণদিনের শেষে
আমাদের বিষণ্ণ-অসুখের মাটি পেরিয়ে গিয়েছে সাগর;
ফলের ভারে নত বৃক্ষটির মতো আকাশ নামুক
শাদা মেঘ হয়ে আমার সহজিয়া বাংলায়।

বহুদূরে কোথাও শীর্ণ নদীর পারে
শাড়ির জমিনের মতো মায়ের হাসি নিয়ে
ভীষ্মের প্রতিজ্ঞায় ছোঁড়ো তির আমার আফ্রোদিতি !

আমাদের ফুল ও ফলের গাছে ভ্রমরের আনাগোনা
বেড়ে যাক বহু বহু গুণ, চপচপ চুম্বনগুঞ্জরণে
খসে যাক ধপ ধপ রাষ্ট্রমোল্লার নিষ্ঠুর বল্লম।

প্রেমের বাঁশীর মতো বেজে উঠুক লোকালয়
পাকা কাউনের ঘ্রাণবুকে তুমি শবরীবালা
জেগে ওঠো চর্যার মতো একবুক কাহ্নপা-সময়!


প্রিয় যশোধরা

মরণের তীব্র গন্ধ উড়ে, মড়ার বেদনা জানে কেউ?
আকাশ ফেলেছে কার জাল, কার জালে এতটা জীবন
ছটফট করে মৎস্যেরর মতো, শূন্যে ভাসে হলুদের ঢেউ?
আমি তার যশোধা-বালক, হলুদ হলুদ তমালের বন।

তাকে বলো ভালোবাসি আকাশ-পাতালজুড়ে থাক সব খরা
গৈরিক চোখের ভেতর রয়েছি আমি, প্রিয় যশোধরা।


ভাসাও! ভাসাও! মিটাও খরা!

আমায় আবার ডাক দিয়ে যাও, আমায় আবার ফিরিয়ে নাও
মাথার ভেতর ঘুরছে কেবল তুমি তুমি জুয়োর আসর
আমার আমানিশা, আমার পুর্ণিমা রাত ডুবছে কেবল
আমার ডিঙি ভাসুক, হাসুক কেবল ছল-ছলা-ছল জলের আচল!

তোমার রোদের ছোঁয়ায় সোনার ঝিলিক অন্ধ করুক
বন্ধ করুক দূরের দুয়ার সান্ত্বনাতে ডুবে থাকার মিথ্যে হিসেব
আমায় ফুল এনে দাও, আমায় রাত এনে দাও চন্দ্রিমাভর ব্যথায় ভরা
আমায় শীতল করো আমায় ভালোবাসো, আমায় ভাসাও! ভাসাও! মিটাও খরা!