আমারেও নিয়ে যাও, ঢেউ

মিসবাহ উদ্দিন

আমারেও নিয়ে যাও, ঢেউ

আমারেও নিয়ে যাও, ঢেউ
বহুদূরে পড়ে থাকি
না চিনুক কেউ
সুজলা সুফলা কোনো
রেটোরিক দেশে
আমারেও দিও ফেলে
মুসাফির বেশে
না হয় ভাসায়ে নিও
যতদূর যাও
তোমার শেষের শেষ
যে সায়রে পাও
তবুও আমারে নাও
ও আমার ঢেউ
বহুদূরে নিয়ে যাও
না-চিনুক কেউ

গভীর ঘুমের তল
এরূপে দাঁড়িয়ে রও,
স্থির––
অনির্ণেয় শূন্যতার মতো
প্রশান্ত, গম্ভীর!

নিদ নেমে আসে চোখে স্বপ্নবিহীন, বেবাক––
পৈত্রিক জলপাই গাছ পুড়ে পুড়ে খাঁক।
হে সঙ্ঘাত, ক্ষমা করো, নিয়ে যাও তার ছাই,
জলপাই-পোড়া স্বপ্নবিহীন দেবার কিছু তো নাই।
ডানাহীন মাছ জলে থাকে তাই আকাশ হয়েছে জল––
এরূপে দাঁড়াও কাছে, জলে আর মাছে, গভীর ঘুমের তল।



তখন

তখন আমার শনির দশা
তখন আমি অনেক দূর
তুমি তখন শীতের বিকেল
চাঁদর গায়ে অচিনপুর।
তখন আমি পাগল পাগল
তখন আমি যাচ্ছেতাই
তোমার তখন তুফান তুমুল
জ্বলছো ভীষণ মীরাবাঈ।


ইভ ১

শাশ্বত কান্না বলে কিছু নেই
তবে অবিরাম ক্ষরণ আছে
নিশিদিন দহন আছে…
তামসিক রাত্রির গন্ধ মগজে ধাক্কা দিলে––
কী যেনো হাঁটতে থাকে
ঘুরতে থাকে খুঁড়তে থাকে
কাঁদতে থাকে হাঁকতে থাক
আদতে আদ্যন্ত একা
কখনো অখণ্ড
কখনো বা খণ্ড খণ্ড।

ইভ ২

এ দেহ কার্পাস ঘুড়ি,
লোনাঘুম, ঘুমপোড়া ছাই—
এ প্রসাদ ওঙ্কারসম—
হাওয়ার মিঠাই।