ঠাকুমার কবিতা

কৃষ্ণ মণ্ডল

ঠাকুমার কবিতা

তোর দাদুরা তখন গান গাইতে যেত
রাতের পর রাত বাড়ি ফিরত না
সেই গানের দলে তোর দাদু সাজত রাধা
কার না কার হাত ধরে নাচত
রাতের পর রাত
এদিকে আমি একগন্ডা ছেলেপুলান নিয়ে
চাল মাগছি গুড় মাগছি এর তার ঘরে
এক রাতে সন্ন্যাসী দেখা দিলেন
বেলগাছ থেকে পা ছড়িয়ে দিয়েছেন আমগাছে
সে কী দৃশ্য ঘর নেই চালা নেই
সন্ন্যাসীর দীর্ঘ পায়ের ছায়ায়
অন্ধকার
অন্ধকারে হারিয়ে গেল আমার
একগন্ডা ছেলেপুলান
গোয়ালের গরু-বাছুরেরা সব গড় হয়ে
প্রণাম করছে হাওয়া বইছে সনসন
যেন তোর দাদু হাঁপাতে হাঁপাতে
ছুটতে ছুটতে ফিরে এসে আমাকে
জিজ্ঞেস করছে—
ছা-গুলান কোথায় বল মাগি ছা-গুলান কোথায়

সাক্ষাৎ রাধার ওই রূপ ভোলা যায়!



হা!

নিরক্ষরের পেট থেকে তুলে এনে ভাসাল। নদী নিল না। আগুন নেয়নি। পাখির বাসাদের
হাসি বাংলা ভাষায় ঢুকতেই পেল না। নিরিবিলি বটগাছের তলায় তাকে ফেলে গেছে।
পিঠের তলায় দিয়ে গেছে সাদা থান। থানের উপরে তার কান্না। হাত ছোড়া পা ছোড়া
হিসি আর উপর থেকে টুকটুকে লাল বটফলের ঝরে পড়া! হা! বেওয়ারিশ শিশু, তোমার
জন্মই কবিতা!