ত্রিকোণ ষড়কোণ

কাজল সেন

ত্রিকোণ ষড়কোণ

ক্রমান্বয়ে নেমে আসছিল তোমার চমৎকারী শীৎকার
পাতার ভেতর
নতুন ডুরেশাড়ি
উৎসুক পুরুষ
ফষ্টিনষ্টি
তুমি কি সেদিন প্রথম ডেকেছিলে
আমার কাঙ্ক্ষিত নামে
আমি স্বপ্নে ছিলাম
প্রতিভাবান সশস্ত্র মানুষেরা উঠে আসছিল যুদ্ধজয়ের পর
চারিদিকে উৎফুল্ল ডালপালা
বাসরঘরের পূর্বাপর স্মৃতি

আর এই যে আমি উন্মুক্ত করে রেখেছি আমার নাভিস্থল
একটা নিবিড় টপ্পার গেরস্থালী
একবুক দুধের ভাঁড়ার
তুমি যতই গোপন কর তোমার ব্যক্তিগত মুদ্রাদোষ
তোমার চমৎকারী শীৎকারে ক্রমান্বয়ে নেমে আসছে
ত্রিকোণ ষড়কোণ

পদাতিক সবাই

এই শহরের একটা দিন একটা রাত সারা নলবন জুড়ে
পায়ের পাতায় জল পলিমাটি আর সামুদ্রিক জাহাজ
কেউ কি ভেবেছিল কোনো রণতরীর কথা
শুদ্ধ আবেগে রাগ শুদ্ধকল্যাণ
এভাবেই কখনও কোথাও পথের রাজা রাজপথ
পথের রানী রানীপথ
অশ্বারোহী নেই গজারোহী নেই রথারোহী নেই
পদাতিক সবাই
সব জনপথ জুড়ে

সময়ের বাজী যথা সময়েই
কিস্তিমাৎ
অসময়ের শুধুই অসময়
চৌধুরী বাড়ি আজ অবাক ভুঁইফোর শপিংমল
পাপিয়া বলেছিল দেখা হবে সেই শপিংমলের চারতলায়
হাতে থাকবে ডোরাকাটা সুতির রুমাল

দিনের শহরে এই নলবন
রাতের শহরে সেই নলবন
শেষ রাতে নলবন রাজার হার্দিক আমন্ত্রণ
একাদশী পূর্ণিমা আর অমাবস্যায়
সবাই থাকে যেন নলবনে
দিনের তরঙ্গকণা রাতের শেফালি
পায়ের পাতায় জল পলিমাটি আর সামুদ্রিক জাহাজ

পদাতিক
পদাতিক সবাই
অশ্বারোহী নেই গজারোহী নেই রথারোহী নেই
একটা গোটা দিন একটা গোটা রাত সারা নলবন জুড়ে
পাপিয়ার সাথে দেখা হয়েছিল সেদিন বারবেলায়
ভুঁইফোর সেই শপিংমলের চারতলায়


এই নির্জনতায়

আরও একটু নির্জনতা সামলে উঠে
এখানে বসবাস করা হয়তো যাবে একদিন
তখন দরজায় লাগানো হবে কি রঙের পালক
আর দক্ষিণ দেওয়ালের জানালায় কোন্‌ লতাগাছ

অথচ একটা উটকো ধড়িবাজ কাঁচা ঘুম থেকে উঠে
সদর রাস্তার মোড়ে চটপট বসিয়ে দিল নামের ফলক
সেই ফলকে ছিল না আমার নাম

নির্জনতা আরও ছিল প্রশস্ত বিছানায়
ডোরাকাটা চাদর বেয়ে উঠে এসেছিল পাকা ধানের শীষ
আলিঙ্গনের অজুহাতে পানপাতা সাজিয়েছিল তোমার মুখ
ধারাপাত বেয়ে তখন অনেক অরণ্য অনেক বাহার
অনেকটা রোদের বাহার

বসবাস করা হয়তো যাবে একদিন এখানেও
যখন আরও একটু নির্জনতা সামলে উঠে
টেক্কা হবে আমার হাতের তাস
আর তুমি হবে তোমার চর্চিত মুদ্রাদোষে
রঙের গোলাম

যদিও সদর রাস্তার মোড়ে বসানো হয়েছিল যে নামের ফলক
সেই ফলকে ছিল না তোমারও নাম

একটা খোলা আকাশ

আরও একটা আকাশ একটা খোলা আকাশ
যেমন তুমি চেয়েছিলে তোমার অভ্যাসবশত
সাদা কালো
দেখতে দেখতে দেখার গভীরে যেমন একটা উন্মুক্ত বন
রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে যেমন অনেকের গান শোনা হয়েছিল
মাথায় রাংতার মুকুট পরে হেঁটে গেছিল ঘোষ বাড়ির স্বর্ণলতা
অনেকটা রঙ গোলা হয়েছিল
আবীরের রঙ
নতুন বউ বসেছিল হাতে পানপাতা
জামবাগানের ঠিক মাঝ বরাবর

একটা রাস্তা এখান থেকে এভাবেই চলে গেছে আনপাড়ায়
তুমি মাধবীলতা খেলতে খেলতে এভাবেই নিপুণ হলে আরও
কতটা সময় আর অতিরিক্ত থেকে গেল বেহাতের ছক্কা পাঞ্জায়
স্কুল ছুটির পর আর কতটাই বা উদ্বৃত্ত পথ
মনে করো একটা দরজা খুলে শুরু হলো দিন
জলের মেয়েরা নক্সা মেরে দাঁড়ালো বর্ষামুখে
আর পায়ের ডিমে মাখিয়ে নিলো রাঙাবৌদির গায়ের আলো

একটা খোলা আকাশে তুমি আরও কতটা নিরাবরণ হবে বলো
একটা উন্মুক্ত বনে আরও কতটা হতে চাও সম্ভোগ উন্মুখ