চার নম্বর মৃত্যু

জব্বার আল নাঈম

চার নম্বর মৃত্যু

মানুষের হাতে খবরের কাগজ পৌছার পূর্বেই আমার মৃত্যু হবে
প্রবল বর্ষণের দিনে
ধুয়ে-মুছে যাবে নরকের গন্ধ
টিনের চালে দারুণ বৃষ্টি-শব্দে যখন আহত হবে চর্তুদিক
আনন্দে উদ্বেলিত আমার তৃতীয় স্ত্রী
পরকীয়ায় মজবে
এরপর রাজকোর্টে বিয়ের মামলা করবে
মাইকে মৃত্যু সংবাদের পরিবর্তে-
নির্বাচনী প্রচারণায় নামবে মোয়াজ্জেন
ততক্ষণে আমার সকল উপার্জন ভাতের প্লেটে নিয়ে
খেতে বসবে প্রথম স্ত্রী

দ্বিতীয় স্ত্রী গর্ভপাত ঘটিয়ে বলবে
খোদা আমাকে বেশ বাঁচা বাঁচিয়েছে

অথচ তিন স্ত্রী মিলে আমাকে চার বার খুন করল!


কুকুর

একজন শিল্পপতির সঙ্গে কথা হয়
তার শখ একটি দেশি কুকুর পালবে
বিদেশি কুকুর পালতে খরচ খুব বেশি

বাড়ি পাহারা দেবে
শত্রু তাড়াবে
এবং লেজ নাড়াতে নাড়াতে তাকে সম্মান জানাবে।

কারো সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই বললাম
আমিই সেই কুকুর-
খুব অল্প বেতনে নিয়োগ দিন আমাকে।


মুহূর্তের কথা

বাতাসের শরীরে পাঁচ হাজার বছর আগের কথারা ধুতি পরে দাঁড়িয়ে আছে। দশ হাজার বছর পরের কথার সঙ্গে মিলিত হবার কোমল ইচ্ছায়। মধ্যস্ততার টেবিলে শুধুই কালক্ষেপণ; অচেনা যুবক দেখছে, শহর ঝুলছে সময়ের বারান্দায়।

একদল পূর্বেকার কথা—সুঁইসুতায় মালা বানিয়ে অনর্গল শুনিয়ে যাচ্ছে বোকা সংসারের চামচাদের। হাততালি আর মুচকি হাসিতে স্বাগত জানায় সভাসদগণ।

অতপর সামনে থাকা সকল পুস্তক আগুনে পুড়িয়ে বারবিকিউ আয়োজন করলাম। পুড়তে থাকল মগজ আর সমালোচকগণ; নগরে উঁচু ঢেউয়ের বিষণœতা। হিসাব শেষে দেখলাম শরীরে বহন করা হাড়ের বয়স বড়জোর পাঁচ হাজারের বেশি নয়!

তন্দ্রাচ্ছন্ন চোখে দেখি মায়ের কক্ষে যিনি বসে আছেন তিনি আমার মা নন; দশ হাজার বছর পরের একজন, না নারী না পুরুষ। বোধে চিমটি কেটে তপস্যার ঘুমে অনাহুত হাত টেনে বললাম, কেবল আমিই মধ্যযুগ

অথচ আগের পাঁচ হাজার বছর আর পরের দশ হাজার বছরের জাঁতাকলে আটকে আছি এখনও। নতুন করে শূন্যতার সমান কিছু ভাবছি...