নিধির জন্য হৃদখঞ্জর

মাজুল হাসান


নিধির জন্য হৃদখঞ্জর

মেয়েটা বড় হচ্ছে। চামচদানিতে পড়ে আছে ছুরি। ছুরি বড় হয় না কখনো—উপরন্তু মরিচা পড়ে, বুড়ো হয়। মরিচা গুপ্তজিঘাংশার নামান্তর। মেয়েটা ওর মা'কেও বাবা বলে ডাকে—এমন কোকিল। দিনদিন ছোট হচ্ছে জামা-জুতো; পাচিল। ওপারে বাজার, ফলপট্টিতে শতচোখ আনারস, আতাফল। দেখতে দেখতে চোখের কর্নিয়া ছাড়িয়ে যাচ্ছে মেয়ে। ছুরিতে বাড়ছে মরিচা। একদিন চেরিফল ভেবে মেয়ে তুলে নেবে বাবার চোখ, অ্যাভাকাডো ভেবে ফালি করবে কলিজা-ফুসফুস। ভীষণ চৈত্রে পাঁজরের বাতাস ফুঁকে বড় করছি তোকে, কোনো বর্ষায় তোর ছুরির মরিচা মাখব বলে। যেমন আমি আমার বাবার চোখ উপড়েছিলাম ভোঁতাপাথর দিয়ে


নঞ মানুষ

শেকড় পুড়েছে। অদৃশ্য ঘর পিঠে করে পাড়ি দিচ্ছে নাফ। নাফ আগুনে নদী, তদোপরী পিঠে চেপে বসা ঘরটাও আঙ্গার। উটপ্রধান অঞ্চল থেকে তেল আসছে, তা-ই দিয়ে নেভানো হবে আগুন। হিন্দু-সাঁতালের ওপর শাদা-আগুনের কথাও আমাদের জানা। তেমনটা লিখে চিরবরফের দেশে পাড়ি জমালেন হুমায়ূন আজাদ। রোহিঙ্গার কোনো দেশ নাই, ওদের স্বপ্নের ভেতর শুধু সার-সার শাদাতাঁবুর মতো থান পরে মা কাঁদে, মা নঞ-মানুষ, দেশের ভেতরে দেশহীন। মা, আকাশ তোমার ছেলে, ও কখনও তোমাকে ঘর থেকে বের করে দেবে না



কুতুপালং: সেপ্টম্বর দুই

পেছনে আগুন সামনে দরিয়া—আকাশ সেও কারাগার
এতোটুকু শিশু, শরীরে এত বড় গুলি, ছুরি ন-জানে ধর্ম

কোথা থেকে আসে সেপ্টম্বর? প্রলম্বিত বর্ষা? খসে গেছে
পেট এমনি শ্বাপদ-জঙ্গম, পথ কি ফুরায় কখনো?
শুধু পেটভর্তি মেঘ নির্বাপিত ছাই, সর্বত্রই আর্তনাদ-মুখর
রাইফেল চেনে না পোয়াতি, প্রৌঢ়

বিসর্পিলতা বাজে। নাফ যেন বা পুলসেরাত

ষষ্ঠ দোজখ থেকে সপ্তম দোজখের পানে ছুটে যায় অষ্টম ট্রলার
এই পাহাড় রোজ হাশর—কবরে জ্বেলে দেয়া সবুজ-পিদিম


লালপীড়িত

গোলাপ—ঘ্রাণদম্ভ নয়, তোমার কাঁটা ভালোবাসি
কাঁটারা পষ্ট—চড়ুইয়ের চিৎকারে ঝলসানো দুপুর
চাইলেই ফিরে যাওয়া যায়, পাঁচিলও নয় অলঙ্ঘ্য
তবু ভালোবাসা—গগনচূড়, পুকুর, পিতলের বুদ্বুদ

আমার নাম লালপীড়িত


জলগম্বুজ

অহল্যা দ্ব্যর্থহীন প্রীতিগোলাপ নিয়ে সমুদ্রে যাচ্ছো, যাও
নীল তাতে খুশি হবে, মেঘদল নেমে এসে শুধাবে
বালুর ঝুরঝুর। ঢেউ শুধু ক্রুদ্ধ, তেত্রিশ গুনতে পারে না
অন্ধ ঢেউ গিলে খায় সূর্যের ধক
চিবুকের লালিমায় কোনো সূর্যাস্ত নেই অহল্যা;
কেশরাজিতে তৃতীয় প্রহর...
অহল্যা আমার ঢেউ'রা উন্মাদ ও উড়ালে সক্ষম
ওরা সায়রেন ভালোবাসে, শরীরী অপেক্ষায় বানায় বাতিঘর


ছৌঁ

ক্রমশ আপেলের দিকে যেতে যেতে ছায়া-হরিণ
হরিণী খুঁজে ফেরে প্রীতিবৃক্ষ—ছৌঁ
আমার শব্দের আলজিভ কেটে বলেছ—'তাম্বুল'
মলমূত্র-কৃমিসহ ফেঁদেছ ভাষার উৎসব
পাখি নয় সে, নেই কশেরুকা, তবু ওড়ে
বিমানের মতো—ফেউসা—যেমতি তুমুল গর্দভ
কলেজ স্ট্রিটে কনডম ভেসে ভেসে যায়,
ছাতাগাছে তোতাপাখি, ডালিম দোলাবে মৌ...



চাবুক

আমার বস একটা জিরাফ
সবসময় গলা উচিয়ে থাকে
জিরাফ উঁচু প্রজাতির
জিরাফের শরীরজোড়া মানচিত্র
আমি একটা জেব্রা
আমি নিচু শ্রেণি
আউট ল’
আমার কোনো দেশ নাই
আমার শরীরজোড়া
চাবুকের কালশিরা দাগ