বেদুইন অন্ধকার

রাজীব ঘোষ

বয়স বাড়ে রাত্রির

চুল উড়িয়ে যে কৈশোর ছুটে চলে যায়
সময়ের বাঁকে ফেলে হলুদ নিশ্বাস রেশম
ধাপে ধাপে মেঘ পোকারা নিঃসঙ্গ ভ্রামক
উঠে আসে মেদিনী গ্রাসের কবল থেকে রথের চাকা
ধ্বজা উড়ছে , সবাই কেতাবি হাততালি মারছে
ত্রিবেণী সঙ্গম হন্যে হয়ে খুঁজে ডুব দেয় যত অজগর ।

ভাসান প্রক্রিয়া শুরু দেবীগর্জনে কাঁপে জ্যোৎস্না দেশ
কালপুরুষের রশি ধরে হাঁটে নবজাতক হৈচৈ জননী কোমরে
আহাঃ কতো ঋতুনা ভেঙেছে বিপ্রলব্ধ দরজা দেহে
চন্দননগর যতই সেজে ওঠুক বয়স বাড়ে রাত্রির
একটা স্নেহ নাড়ি ধরে আর একটা হাঁটে মৃত্যুর দিকে
বেসামাল দুধ যেভাবে গিলে নেয় তৃষ্ণার্ত আগুন ।

মাটির ভিতর থেকে উঠে আসে রোদেরখা
নতুন বৃক্ষের হাত ধরে পালটেফেলি স্টেশনের নাম
ভাঙা বন্ধুত্যের মঞ্চ গড়ে তুলি বৈষ্ণব কবিতা ঢঙে
বিদ্রোহ কড়া নাড়ে ধারাবাহিক মহুয়া কলসীতে
অক্ষরগুলি ভেসে যায় বর্ষা মেঘের করিডোরে
বয়স বাড়ে রাত্রির আঙুল ফেটে বেরয় নতুন জন্ম ।

ওগো নিঃশব্দ নীরব

অনন্ত নিঃশব্দ রাতে একা একা জেগে ওঠে চাঁদ
শিরীষ গাছের ডালে স্তব্ধ রাতজাগা পাখির ডানার পালক
বৈরেগী বাতাসে ভাষায় একা একা
একা নীল চরের ওপরে শান্ত ডিঙা চুপ করে থাকে
নিঃশব্দে নির্জন স্বরে কাকে ডাকে , সে ডাকে কে ডাকে
জলেরা ছুটে এসে পায়ে চেপে খুনসুঁটি করে
অনন্ত অনন্ত নীল আকাশসলিলে
চাঁদা মাছের রূপলি আঁশ ভেসে ভেসে দূরে চলে যায়
কখনো সেও কি জানে , সে কোথায় কোনখানে -
কোন দিগন্তে ঘর
শুধু চরাচর জানে স্তব্ধ নীরব একা একা
তীব্র এ ভালোবাসা , এই মাঠ দিগন্ত বিসারী এ আকাশ
এ সবুজ অরণ্য খেত সূর্য ওঠা ভোরের শালিখ
লিপ্ত অশরীরী প্রেম , এ দহনে এই তৃষ্ণায়
নতজানু হই আমি তারই কাছে শুধু তারই কাছে
সে আমাকে স্পর্শ করে , সে আমাকে মৃদু স্পর্শ করে
অব্যক্ত আনন্দে তারই শিউরে শিউরে ওঠে হিয়া
অখন্ড এ গভীর বির্তীর্ণ হৃদয়ে তারই ছায়া খানি
দৃপ্ত হয় গাড় অনুরাগ জানো তুমি !


বেদুইন অন্ধকার

সমুদ্রের পাড় ধরে হেঁটে চলেছে জোয়ানি রাত্রি
একটু আগেই রাজনৈতিক দিদিমনী এই আত্মজৈবনিক পথে
আঁচল ভর্তি জোনাকি উড়িয়েছে মেহফিলের মতো
ভারত পারে দিশাহারা ম্যাকবেথ
ময়ূরের চোখে জ্যোতিঃপাত অকাতর স্বপ্নগুলি
দিদিমনী ঋষিঋণে ভিজছে মাঝরাতে একা
বালিতে পায়ের ছাপ ধুয়ে দেয় আনাড়ি মন্ত্র
বির্সজনের আগে মেঘ ভরা বিদ্যুৎ জয়ধ্বনি দেয়
ঘন দীর্ঘশ্বাস জড়িয়ে নীল আলো তিমির চোখে
দূরে সমুদ্রের আকুল ডাক , দিদিমনী নোনতা হয়ে যাচ্ছে
এতো খিদে স্ক্যানারের নীচে টের পায়নি হস্তমৈথুনে
ভোররাতে হইহই করে ধেয়ে এলো জেলে পাড়াটি
তাদের দিদিমনী তখনো ধবধবে বুকে ফেনা জড়িয়ে
একটি দুর্গন্ধময় প্রিজন ভ্যান ছুটে আসে নগ্ন করতে
দিদিমনী থায়ের মাঝে চুপ করে হাত রাখে
আহাঃ রাত্রি এতো গভীর হাতে পারে আগে ভাবেনি
তিমির বমি বালিতে চাপা দিয়ে ভ্যানে যায়
ভোরের খিদেয় নৌকোয় নৌকোয় মিলিয়ে গেল জ্যোনাকি
দিদিমনীর ভূখা শরীরে আরো কয়েকশ সমুদ্র জল দাও
মেহনতী সমুদ্রের পাড় জেগে উঠুক বেদুইন অন্ধকারে ।

লোডসেডিং
রাজীব ঘোষ

কার জন্য পাহাড় থেকে ঝাঁপ দিতে চাও ?
সমস্ত উপত্যকার কনকন নীল বর্ণ ভ্রমণ
ছাদের ওপর চেরি রঙ গাড়ি বরফে ঢাকা
এই পৃথিবীর গন্ধ ভীষণ চেনা
আমার উকিলি কোটের নিচে আই লাভ ইউ মাই ডটার বলে
আবগারি মন্ত্রী ঢেলে দিয়েছিলেন তার মানবজন্ম
সেইদিন শীতের প্রথম কাঁপন ছুঁয়েছিল
আমার স্তনে হাত রেখে বলেছিলেন , এ-বিষয়ে
তুমি আমার ছোটো মেয়েটির মতো অ-স্নাতক
মদ্যপ রবীন্দ্রসংগীত চড়াম চড়াম করে কঁকিয়ে ওঠে
এখন আমি সাতমাস হাতের তালুতে নিয়ে লোডসেডিং
উকিল পাড়ার মোড়ে গুঁড়ো কানাকানি
সেই গন্ধ চা-ঢালা ভাঁড়ের গভীরে একটা নদী
আমার দীর্ঘশ্বাস নোঙর করে বোবা মাছের পিঠে ।