নীল তিমি

বর্ণশ্রী বকসী

মোহ

ফেলে আসা দিনের থেকে ভেসে আসে
সুগন্ধি লেবুর ঘ্রাণ
পূর্বা বাতাসে ,
মেঠো পথ হেঁটে যাওয়া -
আংরাভাসার স্রোতে
ভেসে যাওয়া স্নানে
যে মাধুরী মিশেছিল
তার রূপ ছেনে স্বপ্নেরা সবুজ হয়ে ওঠে!
হিন্দু পাড়ার গাছে ফুলেদের সমাহার
প্রাতঃভ্রমণ শেষে
সংগ্রহ করা ফুলে উপচানো ঝুড়ি ,

বড় মায়াময় সেই সব দিন
মোহপাশে বেঁধে রাখে
চির-বাল্য মনের আঙিনা
শান্তির কোলে ফেরা নস্ট্যালজিয়া।


নীল তিমি

ক্রমশ আন্তর্জালিক হাতছানিতে
বিভ্রান্ত মানব সত্তা -
প্রলোভনের মায়াজাল বিস্তারিত
ক্যান্ডিক্রাশ হয়ে খেলা চলে
কালো হাত অলক্ষ্যে পরোয়ানা পাঠায়
নীল তিমির রূপকে মৃত্যুদূত কড়া নাড়ে,
সম্মোহনের যাদুকাঠির ছোঁয়ায় অবসন্নতা!
ধাপে ধাপে চ্যালেঞ্জ জিতে নেওয়া
এক পা দু পা করে মরণের কাছাকাছি
বিষের নীল তীব্রতায় আচ্ছন্ন
তিমি হয়ে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে
খুঁজে ফেরা জীবনের অর্থ ,
আড়চোখে দেখে নেওয়া স্রোতের
উল্টো পিঠ , তারপর
তিমি আঁকা হাতের রক্তে নেশা ধরে
ছাদের কার্নিশ জানে রহস্যের মৃত্যুকে।

ওয়াইপার

দুরন্ত গতিতে ছুটে চলা গাড়ির
উইন্ড স্ক্রিনের গায়ে ঝরে পরে
টুপটাপ বৃষ্টির জল-
ভিজে ভিজে মাটির আঘ্রাণে
ফুসফুস ভরে ওঠে,
দরদিয়া বাতাসে কার চুপি কথা?
ওল্টানো জামাটার গায়ে
ও কি লেখা স্বর-সন্ধানে
শব্দ ব্যবহারে বেহিসাবের ভুল
রঞ্জিত বুকের মাঝে দৃঢ় হয়
দু 'হাত দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার ক্রিয়া!
কচি মনে অজানা গুঞ্জন
ব্যথারা ডিগবাজি খায়
ললিত রাগের অনুরণনে।

হরিণীর চোখ

মেহগনি বৃক্ষের গায়ে আঁকা স্বপ্ন বিলাস
অনেকটা রোদের গায়ে উড়ে যাওয়া মেঘ
সৃজনের নৃত্যের তালে খসে যায় শুকনো
পাতার দরবারি , ন্যূনতম চাহিদা ছুঁয়ে
জীবনের ওঠাপড়া ! শুষ্ক নদীর খাতে
প্রবহমানতা আর দুপাশের বালিভূমিতে
জেগে ওঠা এক অলৌকিক মানচিত্র !
অরণ্য প্রান্তর জানে নতুন ভাবের কথা
হরিণীর ডাগর চোখে বিস্তীর্ণ চারণভূমি
তবু ছুটে বেড়ানো মাটির আকুল স্পর্শে
অনন্ত রূপজ মোহে কিংবা সংকেতময়তায় ।