মাংসদোকান

শুভম চক্রবর্তী


ঋতুরক্তে ভেসেছে চৌকাঠ
মায়াঘোর ঝিম হয়ে আছে
সবুজাভ নিষিদ্ধ ছায়ায়
সেতুগুলি ভীষণ ছোঁয়াছে

কবিতার দেহজ বিকেল
ফিকে হয় দারুণ আগুনে
হাতছানী গুমোট বাতাস
ভোর হয় তারা গুনে গুনে

ঋতুরক্তে তোমার শরীর
পাথরের শোকগাঁথা জানে
আদরের ছেঁড়াখোঁড়া স্তন
গলে নামে পাতাল সন্ধানে

অপ্রাকৃত প্রেমে পড়ে যাই
প্রকৃতির ঘন প্রেম হয়
ছিন্নভিন্ন এই ঋতুদিনে
মুছে গেল অনেক সময়

মুছে গেল কবিতাবঞ্চনা
খিদে খিদে তরল ভাষায়
কামড়ের ক্ষয়াটে কলাপ
স্বগোতক্তি খুলে খুলে যায়

খুলে যায় নির্জনকামনা
পুরুষের তুরুপের তাস
ভোরসন্ধি নেড়েচেড়ে হাওয়া
শেষাবধি অক্ষম প্রয়াস

ঋতুদিন ছুটে এলে মাঠে
সেতুহীন আড়ালে কাঁপন
রোদমুঠি খোলা হাত দুটি
আমাদের সমস্ত যাপন

আমাদের যাপন কি শেষ ?
গলে নামা শরীরের বিষে
যেভাবেই মরে যেতে শেখা
প্রেমগন্ধ বাইশে-তিরিশে

সব পথ পথ সেজে থাকে
থাক পথ পথের নিয়মে
পথশ্রম ধোয়া চারাগাছে
জল ঢালে শরীর প্রথমে

শরীরের শেষ ধুলোবালি
উড়ে যায় গুড়ো গুড়ো মেঘে
সব যোনি আকারেপ্রকারে
সব স্তন ভেসেছে আবেগে

নদীস্মৃতি ফিরে আসে জলে
জল মানে অপার মহিমা
কসমিক সেতু ভেঙে দিয়ে
ট্যাবুহীন ভেঙে ফ্যালা সীমা

সীমানার বাঁধ ভেঙে যায়
ভাঙনের বাঁধন থাকেনা
শ্যাওলার গলিত অভ্যেসে
কবি তুমি কিছুই বোঝোনা

ঋতুরক্তে ভেসেছে চৌকাঠ
মায়াঘোর ঝিম হয়ে আছে
সবুজাভ নিষিদ্ধ ছায়ায়
সেতুগুলি ভীষণ ছোঁয়াছে. . .

শিহরন

আর্তনাদ স্পষ্টতর হয়
স্তন-যোনি ভাবার সময়
তুমি আছো আর তুমি নেই
মধ্যে জাগে কুয়াশাকোলাজ
সন্ধ্যামেঘ ঘন হয়ে এলে
বন্ধ্যামেঘ আগুন গর্জায়
অভিজ্ঞতালিপ্তভাবে বুঝি
মারাত্বক যুদ্ধ হবে আজ
ছিন্ন হবে যেকোনো পরীর
হতাশাজারিত সানুদেশ
অঙ্গারের অর্ধভুক স্নেহে
সান্ধ্যভাষ তোমার স্বদেশ
অতয়েব যত আতুপুতু
চিন্তারাজ্যে আপাতত স্থির
স্তন-যোনি ভাবার সময়
কেঁপে ওঠে মাটির শরীর. . .


মাংসদোকান

তোমার স্তনের দিকে
ছুটে যায় আমার আঙুল
বাতিল করেছো. . .বেশ !
একান্ত একার থাক
চন্দ্রাহত ভুল
প্রাকৃতবিষুবে জ্বলি
খোলাখুলি গরলপ্রণয়
নিতান্ত কামের ঘোরে
ছুঁই চিতা আর মারিভয়
আমাকে বেষ্টন করে
নাচে প্রেত-প্রেতিনী সকল
শরীরে আগুন জ্বলে
যোনিতটে খিদের জঙ্গল
রাক্ষসখিদের মন্ত্রে
দীক্ষিত যে অনাসক্ত প্রেম
খুলে দাও ঢুকে পড়ি
খুলে দাও সাবেক হারেম
কুপিয়ে কুপিয়ে মারি
কিউবিক জয়ধ্বনি হয়
অবচেতনের সিঁড়ি ঘুম নেই
ত্বকে ঘাম নেই
অনন্ত কণার দিকে
অফুরান প্রাণশক্তি ছোটে
জিভের চাবুক দিয়ে
মারো আর ঘেন্না যাক উঠে
জিভের চাবুক দিয়ে
ছালচামড়া সার করে দাও
রাক্ষসবীজানু যাবে জলে ভেসে
শরীর উধাও
তখন প্রেমিক হবো
এসো আজ খিদে পেয়ে যায়
মৈথুনদিনের আলো পড়ে থাকে
সহজ রাস্তায়
আমাকে ধর্ষক বলো
আমি তাই,অষ্টাবক্র ভ্রূণ
বিষাদআবহ মেখে বেঁচে থাকা
খ্যাপাটে তরুণ
আপত্তি করিনা এই দাবিটুকু রক্তমাংসসার
আমার জিভের মাঝে
মাংস থাক তোমার একার

কবিতা লেখার নয়
কবিতা তো সতত দেখার. . .


নৈঃশব্দ

এতোটা চাওনি তুমি
দৃশ্যের ভেতর তবু
ঢুকে বসে আছি
ক্যানভাস রাঙানো আলো
বিপন্নতা এতোটা রঙিন
অন্ধকার গাঢ় হয়
জলের আয়না জুড়ে
রুদ্ধশ্বাস নীরবতা ভেঙে ভেঙে পড়ে
মুহূর্ত গলেছে যাতে
সে আর আমার চেনা খুবই
শ্বাসসর্পিলতা মেখে
নয় আর কিছু নয়
উপত্যকা ছুঁয়ে ছুঁয়ে
ঝরে পড়ছে পিন. . .