স্মৃতি

জয়দীপ চক্রবর্তী

স্মৃতি43

সম্পর্কেরও গোপন এক রাস্তা আছে,
দুধারে দেবদারু, কৃষ্ণচূড়া,পলাশ
আরোও আরোও গাছ আছে,পাখি
ফুল,প্রজাপতি,ফড়িং আছে, আর
আছে ছায়ার সংসার, আলোঅন্ধকার...
ভ্রমণের চলাচল বিষয়ক নিরীহ
অবশ্য তা জানে না !
দৃশ্যতই সম্পর্কের যে সাবেকি পথঘাট,
শূণ্যতার সঞ্চয়ে নির্জনতা নামলে-
হেমন্তর রোদেলা শিশিরের বিষণ্ণতার
প্রতি ঋণ বাড়ে, বাড়তেই থাকে ...
তখন পৃথিবীর সমস্ত ফেলে আসা,
মুখোমুখি সম্পর্কগুলো অন্ধকারে
ম্লান হেসে ফেসবুকে সক্রিয় হয়ে উঠে...

সময়

বনগাঁ বাগদা লোকাল বাস
আমাদের শব্দহীন আসাযাওয়া বারোমাস
মুগ্ধতা অন্তর্গত নির্বিকার দূরত্ব বেঁধে
কত স্মৃতির মান্দাস খুলে খুলে ।

এই ইচ্ছামতি,গ্রামে ঘেরা সীমান্ত শহর
ভীষণ চিৎকারে নিষ্ঠুর নীরবতার সাক্ষী
সাফল্য থেকে ব্যর্থতার জন্মদিন কিংবা মৃত্যুদিন
হাঁড়ির কাঁকড়ার নেশাতুর ধারণায় উড়ে যাওয়া পাখি ।

আমাদেরও আগুনে মোমের আভাসে পথের পাঁচালী
মনে মন জানে পথের পাঁচালী ভর্তি ধুলো জীবনী ।
নীলসাদাবেলা

কখনও কখনও বৃষ্টির পর মন কেমন করে।ইচ্ছের সুতোয় চাই মাঠটাকে ছোট,একদম ছোট করে ফেলতে। দৃশ্যতা চাপড় মারছে জীবনবোধের ঝুঁকে পরা স্বপ্নের ডানায়।অন্য দিকে ম্লান স্মৃতি সরে যাচ্ছে,তার জন্য আরোগ্য সমান ফুল লিখতে লিখতে।এক একটা উপাসনা এমন হয়, ছাইরঙা দিকশূন্যতা মনে হয় সব।ফেলে আসা আলোলাগা থেকে,একসময়ের ভরা খেলাঘর থেকে,আগামীর সম্ভাব্য আলাপন থেকে কিছু দেনা সঞ্চয় করার থাকে না যখন।সমাধির মতো স্কুলের কিসব করতে আসা হয় কিংবা কিচ্ছুটি হওয়া নেই। এযাবত্ ঋণের উদ্বৃত্তে তোমার প্রতি প্রিয়তম অনুসরণ নেই। তুচ্ছতার শ্বাসে নির্ভেজাল বুঁদ হয়ে থাকা তোমার ভারচুয়াল আনাগোনায়...

ঋণ04

আমি হেরে যাবার কথা লিখতে গেলেই-
একটি পাখি আমার স্বপ্নময় শব্দগুলোয় ঠিকানা লেখে !

বিষাদ সিক্ত শব্দেরা,ঝুরঝুর ঝরে যাই স্মৃতির ওপারে।
চাপ চাপ অমল অন্ধকারে...

স্মৃতি42

''না-র'' গভীরে নিহত ঘনিষ্ঠ লুকিয়ে,
সম্পর্ক তা জানে।
কত ভাত গন্ধের স্তব!
শস্যস্বপ্নে ভরা মাঠ,
তুমুল হেমন্ত দিনে-
মাটির সন্তানের আছাড়িপিছাড়ি...
অনন্ত প্রলেপেও এক ''না'',
মৃত্যুর মতো বিচ্ছেদে আর
বিচ্ছেদে একাত্ম আজ!
সম্পর্ক তা জানে।
আসলে তুমিও নগ্নতা ছুঁয়ে ছুঁয়ে
অবিরত জেগে উঠা শূন্যতা,
অন্তর্গত স্তরে বিস্তরে!
এখানে সম্পর্কও এক আভরণ,
ক্রমশই অক্ষরে অক্ষরে মৃত্যুঞ্জয়ী...

স্মৃতি96

হেমন্তর কুচিকুচি পরাগে জেগেছে যৌথবেলার তুমুল রোশনাই!
তন্নতন্ন শূন্যতায় সেইসব দিন। ভরা ছিল স্মৃতির মোহিত কানাই কানাই।
এসো হে বন্ধু শব্দ সাজাই, দাও ভীষন আবহে প্রিয়তম সরগম।
হারানো স্বভাবের সহজ ভাসিয়ে সমূহ মনখারাপের থমথম।
এখানে উপেক্ষার লিপিতে নীরব ছুঁয়েছে শব্দের সাধন শিবির!
আমারও বিশ্বাস, নিঝুম পাখিদের কাঁটাতার রোহিত চলাচল - খোঁজ শেষ হবে একদিন...

বিচ্ছেদসনদ01
একটি বিচ্ছেদ মধ্যকার অব্যক্ত বিষাদের রক্তাক্ত বাগিচায় সংকল্প বিষয়ক সম্ভাবনার সহিষ্ণু বীজপত্র আর লালনের পালক পালক গভীরতা'র উন্মুখ আগামীর সম্পর্ক।তাকে আবাহনের ধুলোমাটির উষ্ণতায়,শব্দের ভাঁজে অন্তরমহলের ক্যানভাস জলতরঙ্গে কভার,প্রোফাইল, টাইমলাইন রাঙিয়ে নিয়েছিলাম।মনের কোণায় সময়,শ্রম,আর প্রশ্নহীন মান্যতায় একটি বলয়ে চক্রাকারে ঘুরে ঘুরে রোদ,মেঘ,জল,হাওয়ায় জলবায়ুর সঙ্গে স্বপ্নময় ছোঁয়াছুঁয়ি খেলেছি, হেরেছি, ভেঙেছি,শিখেওছি।শুধুম ত্র বিকেল বোকাকথা, কত ঘাম, রক্তের, পরিশ্রান্ত রাতদিন কোথায়, কিভাবে কোন ফুল থেকে ফুলে। চেতনায় কোন স্রোতের অশেষে চেনা রঙ ধুইয়ে সময়ের ক্ষমাহীন নতুন রঙে।তুমিও রেনু রেনু হেমন্তে ধুসর লিখে বসন্তের আড় ভাঙা উচ্চারণে ভাসিয়ে দিলে পেশাদার বানিজ্যিক কুহু।প্রথম প্রেমের মা ও শিশুর অনন্ত টলোমলো ওমের ধারণায় এই ঠোঁট প্রথমবার নিয়েছিল উচ্চারণের স্বপ্নিল ব্যাপ্তি, সে ঋণ শোধ হয় না, সে ঋণ শোধ হতে নেই,এমনটাই আমার বিশ্বাস।অবনমন আর উত্তরণের দ্বিধাদ্বন্দ্বের আলোঅন্ধকারে এ সামান্য জীবন যে বড্ড লোভী।শুধুই এক পরিচয় থেকে অন্য এক পরিচয়ের লেনদেনে মশগুল হয়, হতে চাই।আসলে পৃথিবীর সব কান্নায় বহন বসে না, কান্না গুলি শুধু থেকে যায় নতুন পরিচয়ের গভীরে.....