আলো

সাগরিকা ঘোষ


আলো মানে ভীষন নতুন থানকাপড়।

আড়ালে ভাতের গন্ধ সমেত মুছে যাওয়া সিঁদুরের দাগে

অবিচল ঢেউ ওঠে,

শরীরে কাঁচপোকা হাঁটে, মননে গোটা একটা সহজপাঠ পড়ে ফেলা দুপুর

ফুরিয়ে গেলেই,


আলো নিভে যায়।

*

এমব্রডয়ারী

ফাঁকা টিফিনবক্স বুনে বুনে আমি পর্দা বানাই।

ফুলকারি কাজ , জমিতে কচি ঘাস ওঠার দিনগুলো ফুটিয়ে তুলি।

অ্যানিমিক সম্পর্ক ছেঁচে আনা কিছু প্রাইমারি রঙ, সম্বল।



এসব দিয়ে বাহারী একটা ওড়না বানানোই

মনোটোন বলতে বুঝি একরঙা কালোঢেউ, একা ফিরে আসা সাইকেল, বিকেল।

সেই বিকেলগুলোকে ফ্রেমে আটকে, আমি ‘কেউ নেই’ নক্সা আঁকলাম।

নক্সা জুড়ে হারিয়ে যাওয়ার গল্প,আর হেমলাইনে জ্বলজ্বলে



শেষবার স্কুল-ইউনিফর্ম গায়ে তোলার দিন

*

স্মৃতি

একটা সুতো

ছিঁড়ে চলে যাচ্ছে একটা পাখি

একটা গান

ভুলে যাওয়া একটা-দুটো সুর

মনে পরে যাচ্ছে অঝোরঝরঝর বারিশ

চোখের ভিতর

আস্ত একটা শহর

স্মৃতি পদবী গলায় ঝুলিয়ে স্কুল থেকে ফিরে আসছে

*

মা

তোমার চোখের কোলে যে কাজল জমেছে তার থেকে একটু, আর
তোমার ঠোঁট জুড়ে থাকা লাল অবধি

যাতায়াত বিভ্রাট কেন বলো? রাস্তার দিকে তাকিয়ে বসে থাকা মিছিমিছি। সুসময় আদতে
পাখিদের আসার মতন চুপচাপ, উড়ে যাওয়ার মত বিহ্বল, বুঝতে পারলেই
ডানা নিখোঁজ।

মা, যখন সাঁতরাচ্ছিলাম, তুমি কোথাও ছিলে না। তুমি জানতে মেয়ে তোমার ভিতরে, ভালো আছে।

নাড়িভুঁড়ি তে পেঁচিয়ে পরেছি কত কত বার.... জাল কেটে বেড়িয়ে আসা শিখতে ইচ্ছে ছিলো না এতটুকু
তবুও, ডটডট দিয়ে সব না-বলা গুলো ভাসিয়ে দিয়ে, তোমার গর্ভ থেকে এই হাঁড়িকাঠে এসে পড়লাম

*

কঙ্কাল

কেউ না থাকা জমাতে জমাতে, তৈরি হল
নুন ভর্তি দরিয়া।
ভালো না লাগা জমে, ক্ষোভ। ক্ষোভ মানে কি? দেশলাইকাঠি। দেশলাইকাঠিতে কানের ঝুমকো জুড়লেই সৃষ্টিকর্তা হয়ে গেলেন একজন আদ্যোপান্ত
মসিহা।
যার কাছে মায়ের আদর আছে,মলমের মতন,

ক্ষতের উপর ক্ষোভের উপর আলতো ক'রে পরলে মনে হয়, আমার সারাটা শরীরে যেন শিশির জমেছে
সুন্দরীর হাসির জন্যেই দাঁড়িয়ে থাকা,
নাহলে, মায়ের আদরও নেই, রবাহূত ঘাসের গায়ে পীরের চাদরও পরে না

লিপস্টিকের নীচে পুলিশের লাঠির দাগটাই পরে আছে। মুছে ফেলতাম।