রাতের বল্গা

মণিশঙ্কর


তোমার অলিন্দে ঠাঁই চেয়ে রাতের পর রাত ডাকিনী সেধেছি
পঞ্চমুণ্ডির আসনে নগ্ন হয়ে
যেমন কোনো আত্মহারা নদী রোদচশমা খুলে ধরা দিতে চায়
কিশোর বাতাসের আঁজলায়
তেমনি ক’রে বকুলজন্মের কথায় একটি নাও-এর গলুই-এ
দু’টি স্বপ্ন সাজিয়ে দিয়েছি নদীজন্ম নারী হবে একদিন
শুধু এই আশায়

আজ যখন নটী-ফর্ট্টীর ঘরে আমার ব্যবচ্ছেদিত শব ঘিরে
স্বজন হয়েছে মাংস লোলুপ কীটের দল
তখন হঠাৎ আকাশজুড়ে শ্রাবণ ঘনালো
তোমার চোখছানির আস্কারার মতো

এবার শুধু দেখতে চাওয়া বৃষ্টিস্নাত ছাত ছেড়ে
নারী আরেকবার নদী হয় কিনা...


ফুল যদি পরাগহীন পাপড়ি হয় জেনে রেখো
ভ্রমরের পায়েও থাকে না আকর্ষ
এখন পরাগ আর আকর্ষ দুই মিলে খুনশুটি করলে
জন্ম নেয় যমুনা
বকুলের ডালে বসে কোকিল
আর একটি দুয়ার জুড়ে যে চৌকাঠ-বারান্দা
তার মধ্যিখানে গাভিন হয় মেঘ

তখন মেঘের বাসরে ফুলের দান আর ভ্রমরের গ্রহণ
ভ্রমরের গ্রহণে রাই আর কানু
মানে নদী আর বাতাস একযৌবন ভালোবাসা গড়ে...


এসো আলুথালু তোমাকে সাজাই
বাবুই আজ ঘর বুনবে বলে আঁশ তুলেছে
খেজুরের ডালে

এসো সাজ তোমাকে আলুথালু ক’রে
বীজতলা জতরানোর প্রতিশ্রুতি বিছিয়ে দিই
রহিনীর গান কণ্ঠে ধ’রে

পলাশের মাস চেয়েছিলে তুমি সর্বক্ষণের জন্য
কিন্তু একটি ধানের শিষ যে চেয়ে আছে
তোমার অচর্চিত খোপার দিকে
আজ না হয় আঁধারের আলোতেই ধরা দিক
একটি অশিষ্ট যাপন
পলাশ চেয়ে মেঘকে আর আসহায় কোরো না
লক্ষ্মীটি...


খাতা তোমায় যখন আঁকিবুকি কাটি খেয়ালিপনায়
তখন একজানালা বৃষ্টি নামে টাপুরটুপুর
আর আমি হয়ে যাই আস্ত একটা কিলবিল

এমন সময় কথার উপর কথা সাজাতে গিয়ে দেখি
আমার জিভের নীল চিরে গেছে
প্রিয় প্রাণীটি হয়ে
তারই বিষবাষ্প জলদাগে মিশে
সোঁদা বুনছে আমার হার্টের চিনচিন

ওহে প্রাণী, এবার ব্লক খুলবে তুমি
বিনিময়ে না হয় এক আলিঙ্গন চাপ নিও
শঙ্খচূড়ের শঙ্খজোড় হয়ে...