যখন এমন করে বলো

সুমন মান্না

নতুন কবিতা লিখি

যদি স্তব্ধতা লিখি?
ফিসফিস বৃষ্টির মধ্যে মানুষটি ফিরছিল ঘরে
একা একা, ছায়ার মতো পিছু নেয় চাকরি যাওয়ার ভয়,
ধার দেনা বেড়ে বেড়ে গলা চেপে ধরে।

যদি চুপ থেকে থেকে দেখি উন্মত্ত ষাঁড়ের মতো চেঁচিয়ে
রাষ্ট্রের নেতাকে দাঙ্গায় উসকানি দিতে
ইশারায় দু’পক্ষ আলাদা করে দিয়েছে লেলিয়ে
ভুখা পেট মরে গিয়ে পাখির বিষ্ঠা খায় শহীদবেদিতে।

যদি লিখি মানুষের কথা
সাধারণ প্রেম ভালোবাসা ইস্কুলে কলেজে
হাটে পথে ঘাটে নির্জন ঝুলবারান্দায়
যে সময় কাছে টানে, পক্ষপাতিত্ব অযথা
দূর থেকে ভালোবাসে পাঠান শুভেচ্ছায়।

তাই হোক, স্তব্ধতা নয়, ভালোবেসে যা লিখব তা
নিজে নিজে পথ খুঁজে নদী হোক নতুন কবিতা।


যখন এমন করে বলো

যখন এমন করে বলো, হে অমৃত
সুর ভেসে আসে যুগান্ত পার করে
পাখির পালকে, জুঁইফুল ডালা ভরে
ফুটে ফুটে উঠছিল, অযথা নৃত্যরত।

যখন শুনেছি ওম এল শীতরাতে
গ্রীষ্মবিকেলে কালো কালবৈশাখি
উৎসব দিনে দিগন্তে চোখ রাখি
বর্ষায় ধারা, ভরা পেট ভাতে ছাতে।

সেই স্বপ্নের নদী যায় অভিসারে
চাঁদ সদাগর তখন জ্যোৎস্না মাতাল
পাক খায় তার সাতডিঙি ভাঙা হাল
ঢেউ গুণে রাত জাগে কালিন্দী চরে।

যখন এমন করে বলো, হে অমৃত
জুড়িয়েছি গ্লানি, অসময় ক্ষতবিক্ষত।


তাসের আসরে
এইবার কোন তাস দেবে, কোনটি বা রাখবে তফাতে
বাকি তিনজোড়া চোখ অন্ধের মতো হাত রাখে হাতে
সব্বাই জানে বাকিদের, ফারাকটি ঊনিশ আর বিশ
ছোট তাস খেলাও ঘোরাবে, বড় তাস ভুল দানে বিষ।

দমকা ঠান্ডা স্রোতে কেঁপে ওঠে ইস্পাত স্নায়ু
বাজি রাখা ইহকাল, সাম্রাজ্য অথবা অক্ষয় পরমায়ু
শক্ত চোয়াল, পাশে কোঁচকানো কপালের অমিত্রাক্ষর
এক দানে ভিটে মাটি চাঁটি, খেলা চলে জন্মজন্মান্তর।

খেলাতেই বেলা বাড়ে, খালি হয় ক্রীড়াপ্রাঙ্গন
হেরোরাই চলে গেছে, শেষকালে এই চারজন
এইবার শেষ দান শুরু, যে যার পরম কৌশল
চালবেই এইবার জানা এতদিন ছিল ভাতজল।

জেতা নয়, হারা নয়, শেষ চালে শিং দাঁত নখ
খেলাতে রাত্রি নামে তাস খেলে অপলক চোখ।


জঙ্গলে

জঙ্গলের কতটুকু আর যায় দেখা
যে যার নিজের মতো বাড়ি তুলে গেছে
রোদ্দুর, বৃষ্টির ফোঁটা শুষে নিতে যত
দামড়া দামড়া পাতা, কালচে সবুজে
মাটিতে চিরস্থায়ী রাত্রি নামিয়েছে।
সেখানে ঘুমন্ত গাছেদের শৈশব গাথা।

লোকজন এলে, টের পায় ওরা, বলে
খড়মড় শব্দ যে যার নিজস্ব ভাষায়
আধুনিক পাখিরা কিছুটা ক্ষুণ্ণ হয়েছে
তাদের আলাপচারিতায় বাধা পৌঁছলে-
কেউ কারো কাছাকাছি পৌঁছে গেছিল
সঙ্গীটি লাজুক আওয়াজে পালিয়েছে।
আধিপত্যের বয়স্ক মৃত যত আত্মীয়জন
মুখিয়ে রয়েছে শুরু করতে সাতকাহন।