মধ্যরাত

তন্ময় ভট্টাচার্য

ষষ্ঠী

সকাল তেমনই আছে। দুপুরও।
চোখের নিচে সারারাত তেমনই কাজল

কিছুই আগের মতো নেই
ওরা মালিকের দেখার স্বভাবে অবিকল

থাকার মধ্যে হাত। পেটের সুলুকে
মৃদু আনাগোনা - বাছাটি কোথায়

বাছা শীর্ণ দেবদূত। দু'দিন মাতিয়ে
ঘরে ফিরে যায়

ঘরে চাপা শ্বাস...

খতিয়ে দেখতে এসে ঠাকরুন ছলোছল
মুখে তাঁর রোচে না গরাস

অস্থির

কাল বলে কিছু নেই; যদি কাল না ওঠে সকাল?
যাবতীয় ভূতে পাওয়া এক্ষুনি শোনাব তোমায়
কী ভয়ে শরীর কাঁপে, হাওয়ায় কাঁপছে খোড়ো চাল
কে এক দীর্ঘদেহী আলো হাতে দূরে চলে যায়

ও-আলো আমার চাই, যেমন তোমাকে, বাতিদান -
যত সন্ধ্যা হয়ে ওঠো তত পাই ছায়ারও প্রমাণ

চুপিচুপি

একটি বিশেষ ছাঁদে লেখা এই ঘটনা, কারণ
এর দগ্ধ তরুদশা সবাই দ্যাখেনি। ফলে
অপমান হতে পারে; হতে পারে এমনও, তোমার
সব লজ্জা ফিরে এল

তুলতে চেয়েও না-পারাটি যে দীঘিচোখ
এই চিন্তা ছিপ হাতে তোমাকে বসিয়ে দিল
সারাদিন, জ্বলে তাপ, জলে কি দরোজা

আজ, নম্র পরিসরে
প্রমাণ করতে হবে
এতদিনকার ভুল
আমাকে এসব সাড়া দেখিয়ে নিচ্ছে

বৃহৎ দাঁড়িয়ে আছে
কণাটি গুঁড়িয়ে দেবে, তাই

আসলে মদের নেশা এত কার্যকরী -
লিখি আর কেটে ফেলি, ইচ্ছে হয়, যেন
কোনও অতিরিক্ত বার এলে

দু'একটা কবিতা পড়াই!

মধ্যরাত

দুরারোগ্য নেই আর। রতিক্লান্ত, ভুখ্‌ শেষে
নেমে এলে সওয়ারি শরীর

আমি দৃশ্য মুদে রাখি। কোনওদিন পাশ ফিরে
পাব তীর্থ, বুড়িগঙ্গা-তীর

এত কি শ্মশানে মেলে
পড়ে আছে শীৎকার, আধিপত্য, ভুলে-যাওয়া নখ

তোমার ভিতরে কিছু মায়া ছিল
আজও যত্নে রাখি তার ক্ষয়াটে স্মারক