কে - একজন আগুন আজ

ফজলুররহমান বাবুল

আমি স্বপ্নের অঙ্গীকার

সন্ন্যাসী-শব্দের গহনে সৌম্য-কারুকাজে
আমূল কলঙ্ক এসে কৈতব-খবর দিলে
গৌণ-আন্দাজে চলে রাত, আর––
সুরুজরঙে মিশে যায় অর্থিত বাতাস।

ঋণী আছি বলেই থাকি নিতান্ত হা-সুখে।
হয়ত-বা থেকে যাব অনন্তকাল।

এটুকু ত্যাগ হলে, কার হয় নিপুণ-প্রভাব?

আমি স্বপ্নের অঙ্গীকার ধ্বংসের উচ্ছ্বাসে।
কে ভাঙে কার হৃদয়-বাড়ি খেয়ালি-খাদে?

কথা যদি না-থাকে সুখের, স্বপ্ন কি জড়ায় পাঁজরে?
আমি তো কলঙ্ক বুঝি না কোনও অন্ধকারে।
আছি স্বরচিত স্বরে, আদতে অহংকারে।


ওরকম কী আমার

প্রতত শব্দ-ফুল...হৃদয়ে আমার।
বাহারি বাগান... এছাড়া কী?
ওরকম কী আর––এতটা সুখের?

বসে থাকি তৃষ্ণার্ত কাক...
কত-যে পথ প্রিয়-পথে!


সুজনেরা আছে, আর আছে
জ্যোৎস্নাজলে আমার বন্ধুরা...

শব্দের ভিতরে মোহন-মাঠ
মাঠের ওপর পড়ে থাকে তাগিদ।

আমি কখন-যে তলিয়ে যাই!


যাই

ক্যাম্বিসে ঘুমাও। ওদিকে কূজন। কুহক নিয়ে যাবে কুসুমের বাড়ি। রোদ গেল গ্রামের কাছে।...আমি তো ভুলে আছি পুরনো গাথা... ভুলে আছি পুরনো জীবন...

আহা, একটা সময় ছিল... ঝড় ছিল... রোদ ছিল...রোদাশ্রিত হৃদয় ছিল... বেশ, আর না... পথের ওপরে কত-যে হাসলাম... কাঁদলাম... এগিয়ে গেলাম... সত্যি, সত্যি এবং সত্যি। ...এরপর তৃতীয় দরজা। ঢুকে পড়ি... খোলাই তো আছে সেই কবে থেকে... ঢুকে পড়ি। হায়! বড্ড দেরি... এরকম... পথ ছেড়ে যাই... কিসের শব্দ আসে! হ্যাঁ, হ্যাঁ, রেলের শব্দ... খুব লম্বা যান... চড়ে চড়ে যাই (অদৃশ্য হই)... আর হ্যাঁ, বেয়াদবি ক্ষমা করো... যদি বসার কিছু পাই... জায়গা রেখে যাই;... যাবার জন্য যাই... অদ্ভুত সময়ে যাই... এক দুই তিন করে যাই... ধন্যবাদ... সোজা যাই... বাঁকা যাই। যাবার স্বপ্ন নিয়েই এসেছিলাম। যাই...


কে-একজন আগুন আজ

মানুষ যে-আগুন জানে-তার রয়েছে বিস্তর পরিপ্রেক্ষিত। আমাদের জীবন-ছায়ার ভিতরে আগুন কি শুধুু আগুন?

আগুনের ভিতরে নদী... কে-একজন আগুন, কে-একজন আগুন, কে-একজন আগুন... কেন-যে এই আগুন, এই আগুন-আগুন-খেলা! কেন-যে মানুষ আগুন হয়ে যায়...আর, আগুন কেন-যে মানুষের কাছে যায়... আমি তার কিচ্ছু জানি না... জানি না জানি না জানি না... মানুষ আগুন যানে... ছেঁড়া পাতার মতো জানে... চোখের জলের মতো জানে... চন্দ্র-তারার মতো জানে... অচেনা আগুন আমার একদিন পুরনো লুঙ্গির মতো ফুটো হয়ে যাবে... প্রপ , মায়া ভুলে যাবে... আনন্দ-বেদনা ভুলে যাবে... আগুনের ভিতরে নদী জানে... কে-একজন আজ আজ... কে-একজন আগুন... আগুন... আগুন...আজ...


চাষিবিরহ

ছেড়েছ নাও যে-সখারে তুড়িয়া––
সে-ই আপন ছিল রঙিলা-নাইয়া...

হৃদয়ে আজ হাসি ওঠে না
ওঠে শুধু দুরন্ত-তুফান...
বিরহে নিখোঁজ ছন্দ, গান...

তুমি ছাড়া নেই কোনও চাষবাস
তুমি ছাড়া ফুল নেই, ফসল নেই
জমিনে পড়ে থাকে শুধুু দুরাশা...

তোমার বিরহে আজ আর
কোনও বীজও বোনা হয় না...
নির্গুণ পড়ে থাকে সুখদুখ...
তুমিও তার কিছুই জান না।


ফুল নেই, তুমি গ্রহ

ফুল নেই, তুমি গ্রহ।
বাড়ির ভিতরে নীরবতা, তুমি ছাড়া।

তুমি ছাড়া কী থাকে?

একটু বায়ুঝড়...
সময়ে সময় ঝরে।

অদ্ভুত মৌসুমে মন বসন্তহারা।

তুমি কবিতা
তুমি অনুপ্রাস...

একটু ফেরালে দীর্ঘ-শূন্যতা।

ফুল নেই, তুমি গ্রহ।
তুমি ছাড়া কী থাকে?


উষ্ম ও...

স্বপ্নে উষ্ম ওড়ে, ওড়ে অনল।

ঋজু-ক্রীড়া বুঝে বুঝে তাই
সমূহ সুখ হয়ে যায় নকল।

সি ত সৌরভে তুমি জানাও
মায়া কার নাম

দীপ জ্বেলে জ্বেলে আমি
ছিঁড়ে যাব তৃষ্ণার গান

ভিতরে প্রবাল-পাথর তুষার কাটে
বাতাসে যখন চয়িত রং হাসে।


হেঁটে যাই

কেউ না-ফেরালে হেঁটে যাই...
হাঁটতেই এসেছিলাম...

নরকের কাছে শিল্পের উঠানে হাঁটি
সময়ের পুথি পড়ি রৌদ্রচ্ছায়ায়...

স্থিতি তবু শূন্যতা আমার...

হেঁটে যাই কিছু পেরিয়ে যাবার আশায়

হাঁটতে-হাঁটতে স্বপ্ন-কথা, আর
যদি কেউ কোথাও দাঁড়ায়––
তবে তার থাকে না কোনও দায়

হাঁটতে-হাঁটতে দেখি সুন্দর
কত-যে প্রেমিক-প্রাণে, আর
সুন্দর-কিছু থাকে শুধু রহস্য নিয়ে

তাই আমি কিছু পেরিয়ে যাই

হেঁটে যাই... হেঁটে যাই...

জলেতে নিবাস থাকলে কিছু...
হাঁটায় কি নাই?



এসেছি অতীত

সীমানা ছেড়ে আসি, আগামী-সমাচার।

সোনার নাও, অন্ধ-রোদ্দুর, সবকিছু আমার––
আকাশ বাতাস মাটি পানি।
আরও পেয়েছি কবিতার দ্যুতি-বিস্তার।

আর, আমি তো অন্য-আলোকে...জন্মপ্রাণ

কেউ ভাবে, লুকিয়ে যাব রাত্রির কৃষ্ণ-ফুলে।
কেউ খোঁজে সুখের হ্রস্বধ্বনি নদী¯œানে জলের কিনারে।
আশা না-মিটে সুখস্বপ্নঘোরে।

আমি এসেছি যখন––
জলকেও শোনাব গান।

এসেছি অতীত-আমি, এসেছি আগামী-সমাচার।

সময় আছে কি আমাকে চেনার?

--------$--------