গৌরী

সমরজিৎ সিংহ

গৌরী

লিখিবার দিন চলিয়া গিয়াছে । ইহাতে বিস্মিত হইবার কিছু নাই । প্লেটো যেমন তাহার রাষ্ট্র হইতে কবিকে বিতাড়িত করিতে একদা চাহিয়াছিলেন, এতদ্দেশের রাষ্ট্রনেতাগণ আজ তাহাই চাহিতেছেন । গৌরী তাহার প্রমাণ ।
লিখিতে চাহিয়া তিনি প্রাণ হারাইয়াছেন । আমি লিখিব না । প্রাণভয়ে নয়, লিখিব না, লিখিবার দিন চলিয়া গিয়াছে, এই সত্য প্রমাণ করিতে ইহা ব্যতীত আমার পথ নাই । তরুণ কবিকে বলিব, ও তরুণ, কলমের দিন শেষ । এক্ষণে তোমার কাজ নেতাদের গালে চপেটাঘাত করিয়া সুর সৃষ্টি করা । সেই সুর নিদ্রাজড় মানুষের মস্তিষ্কের কোষে কোষে নীল জবা ফুটিয়ে তুলুক । আর সেই ফুলে ভাষার অঞ্জলি দিয়া বলিব, ও গৌরী, প্রসন্ন হও ।


২.
সাত দিক থেকে এল সাতটি বুলেট ।
বাকি তিনদিক থেকে আসেনি এখনও ...

তার আগে লুটিয়ে পড়লে ?

বাকি তিনদিক থেকে আসবে না আর,
তিনটি ব্রহ্মাস্ত্র যাবে বিপরীত দিকে ।

তা দেখে গেলে না কেন, গৌরী ?



৩.
প্রতিটি শব্দের নাম আজ রাখি গৌরী ।
দশ দিকে ছুটে যাক তারা,
উদ্ধত ত্রিশূল হাতে । তারপর, পালা
শুরু হবে অসুর বধের ।


আবাহন করি, এস, গৌরী,
পুনরায় জন্ম নাও, জন্ম দাও আজ
রুদ্রভৈরবীর মত শব্দ...


. ফাঁক থেকে যাচ্ছে ।

এই দেখো, ফাঁক দিয়ে ক্রমে
ঢুকে যাচ্ছে এক কেতুরেখা ।
রেখাটির শেষ মাথাটির দিকে, দেখো,
একটি নকশা ।
এটা কি গোপন মানচিত্র ?

ফাঁক রয়ে গেল ।
মানচিত্র উদ্ধার না করা গেলে, গৌরী,
কি করে চক্রান্তসীমা পার হয়ে আজ
হানা দেব গোপন ঘাঁটিতে
যেখানে রচিত হচ্ছে অন্ধকার সেতু !