খাবনামা

আসমা অধরা

খাবনামা

নিয়মের চাবি দিয়ে আমরা বন্ধ করে রাখবো সব। ভালোবাসা বন্ধ করে দেব, ঘৃণা দিয়ে মুড়ে রাখবো নিজেকে যেমন করে সৌখিন জামায় করে মুড়ে রাখি একাকীত্ব। দিন দিন পচে যাবো, কিন্তু ইস্পাত হয়ে একজন আরেকজনের বুকের ভেতর ঢুকে যাবো না; ঢুকে গেলেই যদি দায়িত্বের বোঝা চেপে ধরে।

বড্ড ভয়, তেমন হলে তো বোঝার চাপে গুড়িয়ে যাবো, বস্তু ভেঙ্গে যেমন ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন হয়ে যায়। আমরা বাড়িয়ে দেব রক্তের মধ্যে এলকোহল, জেলীর মতন থকথকে হয়ে গেলে শোণিত হারাবে তার গতি, মুখ থুবড়ে পড়ে থাকবে শিরার ভেতর। তাতে আমাদের টগবগে গতি স্তিমিত হয়ে গেলেই স্বস্তিকর শ্বাস ফেলবে আততায়ী।

পিওর সুতীর মতো হলে তাকিয়ে আরাম হতো। কিন্তু সিক্সটি/ফর্টি মিক্সড পপলিন চাঁদ কেবল পিছলে যাচ্ছে চোখ থেকে। যেন তার গায়ে কেউ ঘষে দিয়েছে সার্ফ এক্সেলের পুরো কৌটো। ঠোঁটের মধ্যে জোনাক পোকার মতন এক শলা ডানহিল গুঁজে দিয়ে যখনি চাঁদ দেখতে যাই, তখনি মনে হয় এই যে বিধবা আলো- তাকেই কেন এতো ভালোবাসতে হবে! শীত নেই, গ্রীষ্ম নেই, বর্ষা নেই মন পড়েই থাকে সুতো ছেঁড়া ঘুড়ির মতন তার আশপাশে। বড় অন্যায়!

আমরা নাহয় একটা নতুন খাবনামা লিখে ফেলি চলো। তারপর খামে খামে বিলি করে দেবো সমস্ত আগুন। প্রজাপতির ডানা ভরে দেব কাঠকয়লার রঙে। পৃথিবীর সমস্ত ব্ল্যাক স্পাইডার এনে ছেড়ে দেবো গোখরো গুহায়। রাজজ্যোতিষীর জটা কেটে ঝুলিয়ে দেবো বাবুই পাখীর বাসার মতো উঁচু ডালে।

বদলে দেবো বেঁচে থাকার সমস্ত মেকানিজম, সুখ সুখ মুখ করে মাঝরাতের জেগে থাকার ব্যথাসকল। সমস্ত অনুচ্ছেদ পরিচ্ছেদ উলটে পালটে দেখি, কিছুই আগের মতো নেই। তবে কেনইবা শুধু শুধু মুখ ফেরানোর ছল, প্রমাণ করতে চাওয়া সবাই ব্যতিক্রম...


ক্যানেস্তারা

বজ্র তো আজীবন পতনোন্মুখ, হৃদশুমারির পাশে যে ভাঙ্গা ক্যানেস্তারা বোনা ছিল সেখানেই পতিত ও প্রোথিত এসমস্ত বজ্রকাল। প্রতিদিন রাতে বটলগ্রীন পর্দার ঝালর থেকে ভেসে আসে জলপাইঘ্রাণ।

পৃথিবীর সব সত্যগুলো একে একে মিথ্যা প্রমাণ করে তারাই শ্রেষ্ঠতর হয়ে ওঠে। তারপর ফোন থেকে মুছে যায় পরিচিত রিংটোন। যে ঝালর থেকে হতো প্রফুল্ল বিকিরণ, সেখান থেকে চুইয়ে পড়ে সর্বনাশ।

কবিতা নামের আলো লিখতে গেলেই কলম ঝরায় অন্ধকার, সে অন্ধকারকে সোনালী মলাটে মুড়ে রাখাই নিয়ম। আর তখন গভীর রাতে প্রবল নিশি ডেকে নিলে চোখ গলে গলে ঘোর নেমে আসে, প্রলুব্ধ রাত্রি প্রেমে।

রাতের যৌবন ফুরোয় সকাল হতেই। গড়িয়ে চলা ঝরা পাতার সাথে বৃদ্ধ দীর্ঘশ্বাসেরা। পাঁজর থেকে ফিনকী দিয়ে বের হয়ে আসে কালচে শোণিতের যন্ত্রণা, বের হয়ে আসে রূহমুকাররমের আহাজারি। তখনই সিঁড়ির প্রথম ধাপে সূর্যোদয় হয়।

বিষপিঁপড়ের দল স্নান সেরে নেয় সোনালী আলোয়, আত্মগোপনকারী অন্ধকারের শ্লেষা জড়ানো কণ্ঠ রহিত হয়।

বেদনা পান করার সঠিক পদ্ধতি কি জানো বজ্রসখা?


তৎসম্পর্কিত

আগমন বা প্রত্যাগমনে হেসে ওঠে কি হর্ষ বিষাদ
বহুদিন বহুদিন এমন নিস্পৃহ দিনরাত
মধ্যমা বা ললাটে কালচে ছোপ কি বয়ান করে
এঁদো নর্দমায় তপসী মৎসের ঝাঁকে
কৈশোর পালিয়ে যাওয়া কোকিলের ডাক
ঘুঙুর ছিঁড়ে কেটে যায় নৃত্যের শাখা

আফিমের পাতা বুঁদ হয়ে থাকে আকাশে
সীমান্ত পিলারের নীচে বেওয়ারিশ গুপ্তধন
তুঁত ও তাঁত শিল্পে সাদৃশ্য নেই কোন
নির্বিকার বুনে যায় মারিজুয়ানা হাত
ল্যাভেন্ডার বৃক্ষ জানেনা স্বর্ণলতার পাঠোদ্ধার
পাপ এবং ঘ্রাণেরা পরস্পর সম্পর্কিত

মনের যথার্থ আকৃতি জানেনা নীলকন্ঠ
তন্তু চাষী স্বপ্নে ঝড় ওঠা বাবুই শিল্প
ধারণাগত পার্থক্যে ফ্লুরোসেন্ট পিদিম
মুদ্রাযাপ কাল শোনেনা মাছ বা কাঠবাদামের কান্না
উত্তর-পশ্চিম ঈশান কোন সর্ব-স্বত্ব ত্যাগ করার পর
মাটিগড়া পুতুল খুব নড়েচড়ে সর্বনাশের বিভূঁই।