ধূসর উদ্যোগ , বিবর্ণ ভ্রান্তির মেঘ

জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়

উদ্‌যোগ পর্বের প্রায় শেষের দিকে এসে , মাতা ( রাজমাতা ? ) কুন্তী বাসুদেবকে স্পষ্ট বলে দিলেন , যুধিষ্ঠিরকে গিয়ে আচ্ছা করে দু’কথা শুনিয়ে দিতে ওনার হয়ে । বার্তা খুবই স্পষ্ট - “ পুত্র , তুমি মন্দমতি , শোত্রিয় ব্রাহ্মণের ন্যায় কেবল শাস্ত্র আলোচনা করে তোমার বুদ্ধি বিকৃত হয়েছে , তুমি কেবল ধর্মেরই চিন্তা করছ ... তুমি পিতৃপিতামহের আচরিত রাজধর্ম পালন কর , তুমি যে ধর্ম আশ্রয় করতে চাও তা রাজর্ষিদের ধর্ম নয়। দুর্বল বা অহিংসাপরায়ণ রাজা প্রজাপালন করতে পারেন না ... মহাবাহু , সাম দাম ভেদ বা দণ্ডনীতির দ্বারা তোমার পৈতৃক রাজ্যাংশ
উদ্ধার কর । তোমার জননী হয়েও আমাকে পরদত্ত অন্নপিণ্ডের প্রত্যাশায় থাকতে হয় , এর চেয়ে দুঃখের আর কি আছে ? ” যুধিষ্ঠিরের ধর্ম চেতনা এবং অবস্থানগত দার্শনিক দৃষ্টিকোণকে বাসুদেব কৃষ্ণ ছাড়া আর কেউ এই ভাবে তুলোধনা করেনি । এবং এত কিছুর পরে আবার ‘ বিদুলা নামনী ক্ষত্রিয়া জননীর উপাখ্যান ’ - রূপী ভোকাল
টনিক ! এবং তারও শেষে তীর্যক খোঁচার সঙ্গে বলা – “ কোনও রাজা শত্রুর পীড়নে অবসন্ন হ’লে তাঁকে তাঁর মন্ত্রী এই উৎসাহজনক তেজোবর্ধক উপাখ্যান শোনাবেন । ” একেবারে গীতায় একের পর এক জীবন-দর্শনের কথা এবং বিশেষ কর্মযোগের বৃত্তান্ত শুনিয়ে স্ট্র্যাটেজিক সারথী কৃষ্ণ , ধনঞ্জয়ের যে মগজ ধোলাইটি করেছিলেন , উদ্‌যোগপর্বে যুধিষ্ঠিরের প্রতি মাতা কুন্তীর এই বার্তা যেন তারই এক ক্ষুদ্র সংস্করণ ! দেবী কুন্তীর এই আকস্মিক নাতিশীতোষ্ণ বার্তা , একদম মেঘ না চাইতেই জল । বাসুদেব নিজেও এর থেকে ভাল করে নিমরাজী যুধিষ্ঠিরকে সোজা রাস্তায় আনতে পারতেন না ।

দুর্যোধন প্রথম থেকেই রনং দেহী ছিলেন , মহাভারতের অদ্ভুত প্রতিনায়ক , প্রতিষ্ঠিত দুষ্টু লোক । পাণ্ডবদের কাছে দৌত্য করতে আসা মহামতী বিদূরের মুখে কৌরবদের শাসানী শুনে যুধিষ্ঠিরও স্থৈর্য হারিয়ে সপাটে
বলেন , “ আমার রাজ্য ফিরিয়ে দিলে ক্ষমা করতে রাজী আছি , না হলে ময়দানেই ফয়সালা হবে। ” আর বাকি এদিক ওদিক কেউ যদি যুদ্ধটাকে এড়িয়ে যাওয়ার মত সামান্য প্রচেষ্টা করতে উদ্যত হ’ন , সেখানে প্রবল উসকানি দিয়ে মাথা ঘুরিয়ে দিচ্ছেন বাসুদেব কৃষ্ণ । এইরকম পরিস্থিতিতে , অন্য কেউ নয় ... স্বয়ং কুন্তী যুদ্ধের পক্ষে সওয়াল করছেন সরাসরি । সরাসরি কুন্তীভোজ সমেৎ নিজের পিতৃকুলকে স্বভাগ্যের এই দীর্ঘায়িত দুর্দশার জন্য দোষারোপ করছেন । একদিকে যেখানে আর এক বর্ষীয়ান কূলবধু মাতা গান্ধারী আসন্ন যুদ্ধের আশঙ্কায় সন্ত্রস্ত ... সেখানে বেপরোয়া ভাবে যুদ্ধের আবশ্যকতাকে আহ্বান জানাচ্ছেন আর এক ক্ষত্রিয়া , মাতা কুন্তী । যেন তিনি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী , কেশব তাঁর সন্তানদের হয়ে দৌত্য করতে এমনি এমনি আসেন নি ! সব দিক বেঁধেই এগোনো
হবে , কেবল ওই মিনমিনে বড় ছেলেটি বেঁকে না বসলেই হ’ল ।

এই উদ্‌যোগ পর্ব যেন মহাভারতের এক পর্দা সরিয়ে দেওয়ার পর্ব । উন্মোচনের পর উন্মোমোচন ঘটছে একের পর এক চরিত্রের ... কোথাও জোরালো ভাবে , কোথাও সূক্ষ্ম ভাবে । এই পর্বেই কিছু চরিত্রের মনের ভাব , অদ্ভুত মুনশীয়ানার সঙ্গে এক উজ্জ্বল আলোকে নিয়ে আসা হয়েছে , যা আগে সেই ভাবে ধরা পড়েনি । সেই এক আদিম প্রবৃত্তি উঁকিঝুঁকি দিয়েছে বিদগ্ধদের মনেও ... দশ জনের মধ্যে আট জন প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভাবে আসন্ন যুদ্ধের পক্ষে থাকাই সমীচীন বোধ করলেন । এমন কি কামাড়ের এক ঘা’র মত , স্বয়ং বাসুদেবও শান্তির প্রস্তাবের বকলমে পাণ্ডবপক্ষের হয়ে এমন আস্ফালনটি করে গেলেন ভরা সভায়, যে এরপর দুর্যোধনের মত রগচটা মানুষের ‘প্রেস্টিজ’ বাঁচাতে গেলে গলাফাটিয়ে বলতেই হয় ‘ বিনা যুদ্ধে নাহি দিবো সূচাগ্র মেদিনী ! ’ একটা দোতলা বাড়ির
বাড়িওয়ালা - ভাড়াটিয়া মামলায় কে ঠিক কে ভুল সেসবের ঊর্দ্ধে গলার শিড়া ফুলিয়ে তর্ক চলে ... কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি এমনি এমনি ছেড়ে দেয় না ... আর এ তো রাজায় - রাজায় কাণ্ড !

আসলে পরিকল্পনা , ষড়যন্ত্র , সিদ্ধান্ত ... এই জিনিসগুলো হয়েই এইরকম । স্কুলের বইয়ে ধরিয়ে দেওয়া পাঠ্যপুস্তকে একের পর এক ঘটনা আর সাল-তারিখ , এবং আর একটু কপালে ভাঁজ পড়া স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্বে
‘ কেন হইয়াছিল ... না হইলে কি হইত ... বিস্তারিত ঘটনা এবং ফলশ্রুতি ‘ ... এইটুকুই তো ইতিহাস
নয় ! বিভাগীয় গভীরতা বা পাঠ্যসূচীর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ধৃষ্টতা দেখাই কি করে ? ... কিন্তু তবু কেমন মনে হয় , পরীক্ষার নম্বরকে শেষ কথা ধরে নেওয়া ব্যবস্থার মধ্যে ইতিহাস শব্দের আসল সংজ্ঞাই ম্লান হয়ে গেছে । বর্তমানের দর্পনে অতীতের প্রতিবিম্ব দেখে ভবিষ্যৎকে খোঁজার যে নিরন্তর প্রচেষ্টা তাই হ’ল ইতিহাস । ঠিক যেমন ইতিহাসবীদ ই . এইচ . কার (E. H. Curr) বলেছিলেন , " It is a continuous process of interaction between the historian and his facts, an unending dialogue between the past and the present. " রাজাদের স্থাপত্য আর যুদ্ধ - বিগ্রহর গপ্পো নয় শুধু ; ইতিহাস এক নিরন্তর অন্বেষণ । যেখানে দাঁড়িয়ে আনন্দমঠের সেই ইন্ট্রোস্পেকশনও স্পষ্ট হয়ে ওঠে - “মা যাহা ছিলেন... মা যাহা হইয়াছেন ”। সেই দর্পনের দিকেই যদি দৃষ্টি
ফেরাই , উপমহাদেশের সেই প্রতিবিম্ব কেমন সময় তরঙ্গে খেলা করে । সেই একই রকম উদ্‌যোগ পর্বের মঞ্চাভিনয় চলেছে এক এক জায়গায় , এক এক ভাবে । সেই পূর্বপরিকল্পনা মত ঘুঁটি সাজিয়ে ফেলা , চিকের আড়ালে ষড়যন্ত্রের পাশা খেলা , সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এক আসন্ন যুদ্ধকে ইন্ধন যোগানো , যাকে এড়িয়ে যাওয়া খুব একটা কঠিন হ’ত না । সেই একই ভাবে রাষ্ট্রসংঘে উত্থিত শান্তি প্রস্তাবের অন্তরালে কালো ধোঁয়া উঠতে থাকে ... সে ধোঁয়া আকাশ ঢেকে ফেলে কখনও চেচনিয়ায় , কখনও গাজায় , কখনও ভিয়েতনামে , কখনও ইরাকে , কখনও লিবিয়ায় , কখনও পূর্ব ইয়ুরোপে । নিশ্চিতরূপেই , যুদ্ধ হ’ল স্বার্থের সব থেকে বৃহৎ এবং নৃশংস আত্মপ্রকাশ
( যার ভিত্তি প্রস্তর হয়ে থাকে স্বার্থ , ক্ষমতা আর অহংকার ) । সে দুনিয়ার যে কোণেই হোক , যে কারণেই
ঘটুক । সেই দর্পনের প্রতিবিম্ব ঠিক চিনিয়ে দেয় কে তখন ছিল , আর এখন এমন হয়ে উঠছে চোখের
সামনে । আমরা স্কুল-কলেজের পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়ে খালাস ... অথচ সময় যন্ত্রের নাবিক
ইতিহাস , ঠিক পাল তুলে অতীতের সমুদ্র থেকে বর্তমানের সাগরতটে ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে চলে । সবকিছুরই এক চিরপরিচিত প্যাটার্ন থেকেই যায় , আমরা যখন কিছুটা চিনতে পারি , বুঝতে পারি - সেই পরিকল্পনা ,
সিদ্ধান্ত , অবস্থানগত পক্ষপাতের মধ্যে কোথাও একটা গলদ থেকে গেছে ... ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে যায় । এদিক ওদিক থেকে শুধু চাপা দীর্ঘশ্বাস আর স্বগতোক্তি ভেসে আসে ‘ কি ছিল ... আর কি হয়ে গেল ! ’ মহাভারতের উদ্‌যোগ পর্বে যা ঘটে গেছে , তারই পুনরাবৃত্তি ফিরে ফিরে এসেছে ইতিহাসের পাতায় ... এক একরকম
আঙ্গিকে, আসন্ন যুদ্ধের দামামা রব নিয়ে । আমরা বার বার তাদের চিনতে ব্যর্থ হই , সতর্ক থাকতে ব্যর্থ
হই ... আমাদের নিশ্চিন্ত আত্মতৃপ্তির নাম ‘ ফার্স্ট ডিভিশন ’ অথবা ডিগ্রী ।

এই ‘ ভুল ’ শব্দটাও কিন্তু বিদ্রুপ করতে বড় ভালবাসে । শুধু পরিকল্পিত কিছু কাজের অপ্রত্যাশিত ফল পাওয়াই ভুল নয়, একদম সুপরিকল্পিত ভাবে ভ্রান্ত ধারণাকে প্রশ্রয় দিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং তেমন ভ্রান্তির ভিত্তিতে নেওয়া পদক্ষেপও সমান ভুল । সব আলোচনা বা বিতর্কের ঊর্দ্ধে , সেই সব ভুল অকাট্য ‘ ভুল’- ই থেকে যায়। সেই স্কুল থেকেই , কেউ ভুল করলে প্রতিক্রিয়া স্বরূপ সবার আগে আমরা হাসতে শিখে যাই । এক প্রতিষ্ঠিত ‘ সঠিক ’ - এর ধারে কাছে না আসতে পারা ভুলের প্রাপ্য বিরাট লাল গোল্লা ... আমরা বিদ্রুপ করে নিই খুব খানিক হেসে
নিয়ে , আর ভুলও হাসতে শিখে যায় আমাদের ওপর । আমাদের হাসির মধ্যেই ভুল হাসছে ঠিক এই
ভাবে । কখনও নেপোলিয়ান বা হিটলারের রাশিয়া আক্রমণের সিদ্ধান্ত এক ‘ ম্যামথ মিস্টেক , আবার একদিকে এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে অন্ধ ব্যক্তি - সিদ্ধান্তের ভুলই ঘটনার গতি-প্রকৃতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে ... ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে বাঁচিয়ে দিয়েছে শৈরাচারের কালো মেঘে ঢাকা অশেষ দুঃস্বপ্নের হাত থেকে । কারও মস্ত বড় ভুল , বোধহয় এই ভাবে কারও জন্য মস্ত বড় ঠিক হয়ে যায় । ঠিক সেই ভাবে প্রতিষ্ঠিত সংস্কার আর আজন্ম মেনে নেওয়া প্রথাগুলোও তো সব কেমন বিচার-আলোচনার ঊর্দ্ধে নিজের মত করে ভুল-ঠিকের প্রচলিত সংবিধান আঁকড়ে বসে থাকে । এক ব্যক্তি, এক গোষ্ঠী অথবা এক সম্প্রদায়ের কোনও ভুলই , বিস্তার পেতে পেতে সকলের মাঝে এমন এক ‘ মহাকায় ঠিক ’ - এর রূপ নেয় যাকে লঙ্ঘন করা সাধারণ মানুষের কাছে এক দুরূহ কাজ মনে হয় । একটা সামাজিক ঢেঁকির এক দিকে বসে একজন বলেন ‘বিশ্বাস কখনও অন্ধ হয় না’ আর একদিকে বসে অন্য একজন বলেন ‘ বিশ্বাসের আবার চোখ কি ? বিশ্বাস অন্ধই ’ । ভুল যেন গড়িয়ে গড়িয়ে একবার এর পক্ষ্য আর একবার ওর পক্ষ্য নিয়ে নিরন্তর ঢেঁকির ওঠা নামা চালু রেখে দেয় । আর এই রকম ছড়িয়ে থাকা ভুল ... বারে বারে চেহারা পালটানো বহুরূপী ভুল , জড়াগ্রস্ত প্রাচীন ভুল, স্বার্থ আর অহংকারের ভুল ... কিংবা নেহাত ভালো কিছু করতে গিয়ে ‘ ব্যাকফায়ার ’ হয়ে যাওয়া ভুলগুলো কখনও ডুব - সাঁতার দেয় আর কখনও মাথা তুলে ভেসে ওঠে বলেই
বোধহয় ... প্রবল ঠিকগুলো সেই ভুলেদের বিরুদ্ধে লড়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে
পারে । ভুলের অন্ধকার আছে বলেই , আলোর প্রয়োজন এত বেশি করে অনুভব করি আমরা । ভুলগুলোই কখনও সেই আলোর জ্বালানী , আবার ভুলের ফুঁ দিয়েই সেই আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে কত বার ! তবু যারা মনে - প্রাণে বিশ্বাস করতে ভালবাসি , যে ওই আলোই সার কথা; তারা ভুলের অন্ধকারকেও অস্বীকার করতে পারিনি। সেই আঁধারকে সমীহ করেই বার বার আলোর অন্বেষণ করতে হয়। সেই আলোর আভাস না থাকলে, কিংবা সামান্য ক্ষীণ হয়ে এলেও ‘ ক্ষুদ্র আমি ’ আর তার কাছে - দূরে সবকিছু কেমন বিপন্ন মনে হয় ।

আর তারপর ... আশ্রমবাসিক পর্বের অপরাহ্নে , শোকাহত প্রাক্তন রাজ - দম্পতির সঙ্গে রাজমাতা
( তখন নিশ্চিৎ রূপেই রাজমাতা ) কুন্তীও বানপ্রস্থের পথে উদ্যত হলেন । পুত্রশোকে অর্ধমৃত ধৃতরাষ্ট্র - গান্ধারীর পক্ষে যুদ্ধ - উত্তর কালে পাণ্ডবদের আস্ফালন অসহনীয় হয়ে ওঠায় , তাঁদের এই সিদ্ধান্ত অনুভব করা কঠিন
নয় । কিন্তু একদা ‘ পরদত্ত অন্নপিণ্ডের ’ প্রতি বিরূপ কুন্তী তাঁর সুযোগ্য ক্ষত্রিয় পুত্রদের বিজয়ের রাজভোগ হজম করতে পারলেন না কেন ? সে কি কর্ণ - বিয়োগের শোকে ? নাকি দ্বিধায় ? নাকি কুণ্ঠিত হয়ে ? পেছনে ফিরে যখন যুধিষ্ঠিরের দিকে তাকিয়েছিলেন , সেই উত্তর হয়ত সেই দৃষ্টির মধ্যে খুঁজে পেয়েছিলেন বিচক্ষণ ধর্মপুত্র , অন্দরমহলের সেই আখ্যান মহামুনি ব্যাস সযত্নে আমাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রেখে দিলেন ।

আর তারপর ... দাঙ্গাবিধ্বস্ত নোয়াখালীতে, ভাঙ্গা কাঁচের টুকরোয়ে জর্জরিত মেঠোপথে , কেমন করে এক মহাত্মা খালি পায়ে হেঁটে প্রাণক্ষয় রোধ করবেন ... কিছুতেই ভেবে পেলেন না ।

আর তারপর ... দিল্লীর কোনও এক হরিজন কলোনীতে মাথা নিচু করে বসে সাতাত্তর বছরের সেই বৃদ্ধ , অসহ ভারে ঝুঁকে পড়া কাঁধ আর চোখের দৃষ্টি নিয়ে মাটির মেঝেতে আঁকিবুকি করে যাচ্ছেন ... উত্তর মিলছে না , অঙ্কটা যে ভাবে শুরু হয়েছিল ... ধাপে ধাপে এসে এখন কেমন যেন হাতের বাইরে চলে গেছে ... কোন ধাপে যে হিসেবের ভুল ! পরীক্ষা শেষের ঘণ্টা বেজে উঠবে এখনই , ঠিক উত্তর কিছুতেই আর মেলানো হ’ল না । ঢং ঢং ঢং ... বারো বার ... মধ্য রাতের ঘন্টা ... “ At the stroke of the midnight hour, when the world sleeps ... ”