শরত

কস্তুরী সেন

১.
শরত
আমাকে লিখতে হবে আসলে লিখতে হবে জল
আমাকে লিখতে হবে এখনও লিখতে হবে বায়ু,
গোপনে বার্তা লিখে, দিতে হবে, নিতে হবে, এখনও অজস্র, কত না...
অথচ লেখার হাত এসে, আমারও আঙুল ছোঁয় আজ --
গেলাস ভর্তি রোদে আজ এই ভাদ্র আর আশ্বিনচুমুক,
সেই তো যথেষ্ট লেখা, সেই তো যথেষ্ট হল কাজ।


২.
দেবীপক্ষ
তুমি যাচ্ছ তুমি যাচ্ছ পথ ফুরোচ্ছে না
তুমি যাচ্ছ পায়ে পায়ে ছত্রিশ মেঘ আর উনপঞ্চাশ বিখ্যাত পবন
তুমি যাচ্ছ নুন হলুদ, দুটি হাতে সবে নয়, অন্যটির পাঁচ
তুমি যাচ্ছ, পথ দিচ্ছে মহারণ্য, সসম্ভ্রমে, ভয়ে...
মধ্যরাতের পর ঘরে আলো জ্বলতে দেখলে আজ
জননীমেঘের ছায়া নেমে আসে, 'কত দেরি তোর'
তুমি যাচ্ছ নিরন্তর বসে থেকে থেকে
মাতৃপক্ষ ভোর হচ্ছে দেবীপক্ষ ভোর।


৩.
বোধন
লেখায় এড়িয়ে যেতে চাই,
যেমন আমাকে তুমি এড়াও জীবনে।
এত এড়ানোর মাঝখানে--
সহাস্য উঠেছে ফুটে, শত নয়, সহস্রটি দল
আশ্বিনে শারদপ্রাতে আজ, তোমার ঘুমন্ত মুখে
আমার পদ্মের বিল,
কানায় কানায় টলমল!