ইতিহাস

জয়শ্রী ঘোষ

ইতিহাস

পেরেক, আমায় গেঁথে রেখেছ যে কাঠে আমি তা নিজের কাঁধে বয়ে এনেছি দিদিমা-মায়ের থেকে, হ্যাঁ গো, তারা সকলেই ছিল গাছ, আমি দারুবংশজাত, তুমি আমাকে স্ত্রীরূপে পেয়ে বিদ্ধ করেছ, যন্ত্রণায় বলেছি, “ছাড়ো গো”, ব্যথাকে ওষুধ ভেবে জিভে চেটে খেয়েছি মরণ, তোমার আঘাতগুলি, ক্ষতগুলি থেকে
গড়িয়ে পড়েছে রক্ত, রস, হর্ষ, বিষাদ ... গাছের ধর্মমতে ফুল ফুটিয়েছি আর তা ছিঁড়লে তবে তোমার বিজয় ।
পেরেক, বিবাহ নামে তোমাদের আছে এক মাকড়সাজাল, পাতায় পাতায় জড়িয়ে রয়েছে ওই তন্তুগুলি, স্বর্ণতন্তুগুলি; আমি যত শ্বাস নিই দুলে ওঠে, বলো, “চুপ, ছিঁড়ে যাবে”, ভিতু আমি নড়াচড়া ভুলে যাই, বন্ধ করি শ্বাসক্রিয়া, তুমি ভাবো জয়।
পেরেক, একেক ঘায়ে তুমি আরো ঢুকে যাও, আরো । চামড়া চৌচির, মাংস টুকরো, হাড়ে ফুটো করে আত্মা অব্দি গিয়ে তোমার ডগায় লাগে আমার কলসি; আমি তো নিজেই ঢেলে দিতাম পানীয়, তুমি অধৈর্য, গোত্তা মারো, ভেঙে দাও পোড়া মাটি, মুহূর্তে খোলামকুচি বানিয়ে আমাকে তবেই তোমার সুখ, অশ্রু ছাড়া কি মেটে না তোমার তৃষ্ণা ? শরীরে ফাটল দিয়ে যখন পড়ছে জল, ফোঁপানির শব্দ হচ্ছে, তুমি তার নাম দাও সঙ্গীত।
পেরেক, মার্জনা করো, তুমি ধাতু, লৌহনির্মিত,জল লেগে তোমায় মরচে পড়ে আর আমি একখানি শুষ্ক পাটাতন; আমাদের ভালবাসা ইতিহাসে লেখা আছে পানিপথ বলে





ফুল

ধানগাছের কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম
সে মাথা ঝাঁকিয়ে আমার জন্য ঝেড়ে দিল তার বীজ
খোসা ছাড়িয়ে সেসব আমি ছুঁড়ে ফেললাম জলে
জল গরম হয়ে ফুটতে শুরু করল
সাদা সাদা সাদা সাদা ভাত, ভরিয়ে দিল খিদে
#
তুলোগাছের কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম
সে হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে আমার জন্য তৈরি করল সুতো
কাপড় বুনে নিজেই আমায় পরিয়ে দিল ঢেকে
#
সেগুনগাছের কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম
ডাল ভেঙে সে আমার জন্য পালঙ্ক বানাল
আমার ঘুমের তলায় শুয়ে রইল নিজে
#
সিঁদুরগাছের কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম
সে আমার রক্তে মিশে বইয়ে দিল লাল
কান্না পেলে গড়িয়ে পড়ে চোখে
তুমি যখন চাবুক মারো
চামড়া ফেটে বেরিয়ে আসে সিঁদুরগাছের ফুল















ঘর
জয়শ্রী ঘোষ


ঘর চারকোণাই হয়
#
চারটি কোণা
বাবা কান মুলে দিলে কাঁদা যায় একটিতে
দাদা বকলে কাঁদা যায় একটিতে
বর থাপ্পড় মারলে আরেকটিতে
আর শেষেরটি পুত্রের লাথির জন্য
#
চারটি কান্না
#
বাকি টুকরো টাকরা হাসি, চোরা চাউনি, হই হল্লা
দিয়ে দেওয়ালগুলো বানানো
#
আর ছাদে
মাথার ওপর পুরোটা জুড়ে শুয়ে আছে
মা