ঘূর্ণি চক্র......

ঋতুপর্ণা সরকার

ঘূর্ণি চক্র......


মাঝরাত।


একটা জীবন শুরু হল মাঝরাতে
ফ্ল্যাশব্যাকের মৃত্যুর পর!
ফলে,
নবজাতকের হৃদপিণ্ড স্থির...
মুখে বলিরেখা।

ভোর।


আজ ভোরের রঙটা মেটে
দোসর নেভা সূর্য।
ঢেউ খেলানো ভ্রু যুগল
রোদের খোঁজে স্থির সানগ্লাসে।

সন্ধ্যা।


আজকাল তুলসীতলায় নিয়ন জ্বলে!
তোমাকেও একটা টর্চ কিনে দেব
আর চশমা।
লুকিয়ে আলোর সংকেত দিও
আমার অনুচ্চ অন্ধত্বে।




পরজন্ম

দিন শেষ হয়ে এলো রাইকিশোরী!
অশ্বত্থ গাছের ছায়ায় হাঁটু মুড়ে বসে সূর্যাস্ত দেখি
আর হ্যালুসিনেট করি জীবনকে।
আমার হাতের লেখাগুলো ডালপালা মেলে ,
মেলে শিকড় বাকড়ের অসংখ্য জট
শুধু আয়ুরেখা বড় স্থির...
শেষ প্রান্তে তার জীবন মৃত্যুর মোহনা।
এসব জেনেও কেন কাছে আসো
কেন ধানের বুকের দুধে আমায় বাঁচিয়ে রাখো রাইকিশোরী?
তোমার হাত ঢোড়া জীবন পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছি অনেক,
ছাই রঙা শরীরে বৈতরণীর খোঁজ
পদাবলীর সুরে পাই হরিণ নাভি গন্ধ!
তবুও মন ভাঙা বিকেলে খুঁজেছিলে আমার বাঁশী?
তাও দূরেই থাকি রাইকিশোরী...
কথা ছিল জীবনকে খুঁজব একসাথে
ডালপালা মেলা বটবৃক্ষের কোটরে
ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমীর গল্পে...
বাউলের একতারায়, শালুকের হৃদস্পন্দনে!
তাও দেখো কেমন একাআ বসে গুনছি দিন দামোদরের পাড়ে বসে
কুশের আসনে ধ্যান মগ্ন হয়ে
প্রতিটি বৎসর পেরবো রাইকিশোরী
পরজন্মের আশায়!



।আবর্ত।

১।
চারটি সুদৃশ্য হালকা নীল চায়ের কাপ পিরিচে রাখা। তাতে সযত্নে ধীরে ঢালা হচ্ছে সুগন্ধি সোনালী চা। ঢালার সময় যোগ হল চুড়ির রিনঝিন শব্দ। পাশের ঘরে ছেলেটি ও মেয়েটি পড়ছে জোরে জোরে। শাঁখ বাজছে কোথাও। বাইরে কলিং বেলের টিং টং। জানে এই সময়ই ফেরে।
২।
তিনটি সুদৃশ্য চায়ের কাপ পিরিচে রাখা। সাদা রং এ তিনটি স্ট্রবেরি আঁকা। তাতে সুগন্ধি চা ঢালা হচ্ছে। সঙ্গে শাঁখা আর বালার ঘর্ষণজনিত শব্দ। পাশের ঘরে মেয়েটি তার দাদার সাথে লং ডিসট্যান্স কলে ব্যস্ত। সামনে ছড়ানো বই খাতার স্তুপ। শাঁখ বাজছে কোথাও। বাইরে কলিং বেল বাজল। ও ফিরল।
৩।
দুটি চায়ের কাপ পিরিচে রাখা। সাদা রঙ। কাপের ভেতরে হাল্কা বাদামি চায়ের ছোপ। সুগন্ধি চিনি ছাড়া চা ঢালা হচ্ছে। শাঁখা পলারা এদিক ওদিক করছে হাতে। পাশের ঘরে দুটি ফ্রেমে বাঁধানো ছবিতে মেয়ে ও ছেলে তাদের পরিবারকে নিয়ে হাসছে। শাঁখ বাজছে কোথাও। ও ফিরল।
৪।
একটি কাপ রাখা। পিরিচটা আর নেই। সাদা রঙের কাপ এ সোনালী দাগ টা প্রায় মুছে গেছে। কাপের ভেতরটা বাদামি। কিছু ফাটা দাগ দু এক জায়গায়। তাতে চিনি ছাড়া চা ঢালা হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। ঠাণ্ডা চাএর কাপ পড়ে আছে অনেকক্ষণ। ধোঁয়া আর ওঠেনা। চামড়া ঝুলে যাওয়া হাত শূন্য। কোথাও কোনও আওয়াজ নেই। পাশের ঘরে তিনটি ফ্রেমে বাঁধানো ছবিগুলো ধুলোয় ঝাপসা হয়ে যাওয়া কাঁচের ভেতোর দিয়ে বিবর্ণ হলদে হাসে। কোথাও কি শাঁখ বাজলো? আজকাল কলিং বেলও আর বাজেনা।



শঙ্খিনী

এসো আমাদের প্রেম আজ পন্য হোক।
দুটো ভিন্ন স্পেস আমরা মিলিয়েছিলাম যেখানে,
সেখান থেকে একটা ছিমছাম কবিতা জন্ম নিক।
শব্দ যোগাক চিরকুট অনুভূতি
যা খোয়া গেছে অসংখ্য নাছোড় অধিকারবোধে!
কবিতা পড়ুক অসংখ্য চোখ......
খুঁজে নিক নিষ্কাম রতিক্রিয়ার পোর্ট্রেট।