অপেক্ষা

ফারহানা রহমান

অপেক্ষা

যে ব্যথার নির্জন ছায়ায় ডুবে থাকে কথার আলো
তাকে শব্দে নয় বেঁধে রেখো অনুভবে...
সন্ধ্যাবাতি নিভে গেলে কেমন ছমছমে আঁধার জড় হয় চারদিকে। তুমি তখন পথ বু্নে চলেছো শূন্যপথে। নীল হাহাকার ছড়িয়ে মেঘের ডানায় যে শঙ্খচিল শুয়ে থাকে - । ঝাঁকঝাঁকে বুনোহাঁসের মতো সাজানো সর্ষেফুলের হলুদাভ আলোতে অবিরাম থোড়ের খোসা ছাড়ায় মেঘের পাপড়ি ! এতোটা আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে নদী হয়ে যখন তোমার কাছে গেছি , কী এক অচেনা বিস্ময়ের গল্প শোনায় তোমার দুচোখ !
বলো কী দেখেছিলে তুমি ? ঐ দূরের নীলে...? নকশার মতো মিশে থাকা সুতোর সাথে সুতোয় বোনা তারকাঘচিত রাত । নাকি ময়ূরশয্যার আহ্লাদে ভেসে থাকা কল্পনার দিনগুলো ? অথচ কখনো কখনো তোমার কাছেই শুনেছি জীবনের সব আলো নিভে গেলে ধূধূবালু মরুভূমিও অরণ্যের মতো লাগে ।

আর আমি? তখনো অপেক্ষা করে আছি জলের অতলে ডুববো বলে...


নারীর মুদ্রা

নারীর মুদ্রায় নেচেছে যে জীবন প্রগাঢ় আনন্দের কোন গল্পের নায়িকার মতো । ধুসর শূন্যতায় চাকার মতো ঘোরে সে স্বপ্নঘুড়ি । উড়ে উড়ে পাড়ি জমায় মেঘমল্লারের দেশে। শুভ্রতার মলিনতা আত্মস্থ হয়ে ধুলিজমে সেখানে। যেভাবে পরিত্যাক্ত কোন রেস্তোরাঁয় শূন্য নৌকার দেহলিতে নিথর হয়ে ভেসে থাকে জল ভেঙ্গে ভেঙ্গে জেগে ওঠার বাসনা। নিখাদ ইন্দ্রধনুর বেশে ।
নেপথ্যে রয়ে যায় দেবদারুর ঘন অন্ধকার ও নির্মমতা। কখনোবা ফিকে হয়ে আসে, নিভে যায় সব আলো দূর নীলিমায় ;

অথচ এমন কোন ব্যর্থ গল্প না হলেও হয়তো হতো ।