শৈশবের গান

উপল বড়ুয়া

শৈশবের গান

ঐ স্তনপাহাড়ে আজ ঘুরে ঘুরে মারা যাচ্ছে ঘোড়সওয়ার; দস্যু-তাতারের দল
ভোঁতা শরতের দিকে তারা ধেয়ে যাচ্ছে হুল্লোড়ে— থিকথিকে মেঘেদের দেশে
সম্ভাব্য সব ঘটে যাচ্ছে; বধ্যভূমির পাড়ে দাঁড়িয়ে ডাকতে ইচ্ছে হচ্ছে—‘কুহু’
একটা ‘প্রবেশ নিষেধ’ গেইটের সামনে দুইটা কুকুর শুঁকে নিচ্ছে নিজেদের
শেষ রাতের ঘ্রাণ— কড়া নিরাপত্তার ফটক পেরিয়ে ওগো শিউলি তোমাকে
খুব পেতে ইচ্ছে করে আজ কুকুরের মতো-ব্যাঙের মতো কোমরে পা তোলে
ঐ স্তনপাহাড়ের খাদে কাশবনে আমার আধখাওয়া লাশ পাওয়া যাবে কবে?



প্রস্থানপূর্বে< br />
দুঃখ ছুঁড়ে দিলে তোমরা সিম্প্যাথি দেখাও
আনন্দে থাকলে ভাবো কমিক্স হিরো
তামাশাপ্রবণ লোক।
রাগ দেখাইলে নিশ্চয় মনে করো গোঁয়ার
অভিমানে অভিমানে কেমন চাইল্ডিশ আমি
মাতলামির পরে রাস্তাকেই দিলাম ব্যবহার।
প্রেমের পরে মনে বিরহ জাগে মারাত্মক
যৌনতা কাছে চলে এলে ইচ্ছে করে এবার
ছেঁউড়িয়া যাওয়া হোক।
শনি থেকে শুক্রবার নিকোটিনে পুড়ে ছাই
সন্ধ্যার নিচে বসে কতোবার যে ভেবেছি
ট্রেনে চেপে কোথাও চলে যাই।




ধৃতঃপূর্বে

শুনেছি, উঁচুগ্রীবার হাঁসেরা নেমে গেছে র‌্যাম্প মডেলে
শুনেছি, নগর জুড়ে সাফ হচ্ছে কুকুর ও ঝঞ্জাল
শুনেছি, আমিও এবার পড়ে যেতে পারি টার্গেটে
শুনেছি, আমার পেছনে তারা আমারে ডাকতেছে—আবাল।

কতোদিন আমারে কেউ ভালোবেসে নাম ধরে ডাকে নাই
এই মর্মে মাকে মনে পড়ে। মা ক্ষেত থেকে তুলে আনে কচু
শুনেছি, প্রতিভা হারায়া আজ পথে পথে নাচেন প্রতিভা বসু
শুনেছি, যা কিছু সুন্দর তা কেবল দাদাদের দিন ও মন
শুনেছি, চোরা টাকা বেড়ে গেলে দেশ জুড়ে বাড়ে ধর্ষণ।