অন্যের স্ত্রীর প্রতি

সারাজাত সৌম

অন্যের স্ত্রীর প্রতি
ষোল বছর বয়স—পাখির সমান। এই যে, আপনি অন্যের স্ত্রী—আমার ভালো লাগে। আপনার গাছের ফুল—পাখিদের মৃদু ডাক, এটা একটা ব্যথা। যেন মাথার ভেতর পুরো দুনিয়ার চিৎকার। মেশিনগান...
ডালিমের রক্তে ফুটে থাকা সুন্দর। সকল শাড়ির কুচি থেকে ছড়িয়ে পরা প্যানডোরা! আমি আঙুল দিয়ে এঁকে রাখি আমার ঘর—বিস্তর শরীর, একা একটা রাক্ষসের।
অথচ কোথায় যেন আপনার ঘুম—তেতত্রিশে এসে পরীটি জাগে!
আমি উঠছি না—নামছি না। তবু দু’টি আপেল—ছবির মতো লাবণ্য ধরে হাঁটে। ঘুরেফিরে তাকাই। এফোঁড়-ওফোঁড় করা আপনার একান্ত দৃশ্য—এই মনোহর জগতের। অদ্ভুত! আপনার স্বামীটি এখন বুড়ো ঈগল—আকাশ ও মৃত্যুপুরীতে।
জানি—এখনও আপানার চোখের ভেতর ডুবে থাকে সেই সব ষোল বছর বয়সের সমবেদনা...


মানুষ
মানুষ—একটি গাছের মেজাজের মতো সুন্দর। অথচ পাখিরা ফুরিয়ে যায় হেলায়—সাপের হিস্ হিস্ শব্দের নিচে—বৃষ্টির ভেতর, রঙিন পশমের জামায়।
যেন লিখে রাখা বকের স্মৃতি—ভালো-মন্দ হাওয়া। পরে আছে দুপুরের সমস্ত জ্বর—প্রেম ও পরিখার নিচে, এই ঋতু—টঙ্কারের ভাষায়।
অথবা মৃত্যু নিরাপদ—শালুকের হাসির ভেতর, সে এক জাদু জীবন! আমার নিদ্রা গেঁথে আছে—না সময়ের নিচে—এক বৃদ্ধ আলো তার, শুধু জামা পাল্টায়!


কবি, তিনিও চলে যান
যেন মাস্তুলে দাঁড়িয়ে আছে আকাশ। আমাদের শরীর এমনই ছোট যে, তার ছায়াগুলো পাখিরা ঠোঁটে নিয়ে উড়ে যায় হাওয়ায়! হে জল তরঙ্গ—ডাকার জন্য মানুষ তো মানুষের দিকেই তাকায়। যেন এই আলোড়ন ফুলের মুখ থেকে আসে। পাটখড়ির শব্দের ভেতর থেকেও আসে—আলোর মৌরি। প্রতিটি ঋতুই যার যার—অমর হোক। আর আমার জীবন মেয়েদের বানানো বস্ত্রের ভেতর ঘুমিয়ে থাকে—যার আঙ্গুলে ফুটে ওঠা এই জীবন। অথচ দ্যাখো—চর্মচক্ষু এই ফল। ফসল—সঙ্গীতের মতো কতো মৌলিক—নেচে যায় স্ফীত মুদ্রার ভঙ্গিমায়। বুঝি একটু আগেই চন্দ্রবিন্দু তার পোশাক খুলে বলেছিলো, এখানে শুয়ে থাকা ধ্যান একটি ব্যাধের মতো—আর মৃত্যু কেবল বিন্দু বিন্দু ধারণা বিশাখার! এবার আঁকো সব। প্রেম—হত্যাযজ্ঞ, বাড়ির পাশে বাড়ি। যারা চলে যায় আকৃতি ছেড়ে—তারা শব্দহীন প্রেমিকসমূহ। এখানে-সেখানে নম্র ছায়া, মায়ার গতি—প্রকৃতি যেন একটি আয়ুর হ্রদ বেয়ে তিনিও চলে যান...