প্রেম ও বহুবিধ নির্জনতা

সুজন সুপান্থ


শায়রা বানু
সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও বৃষ্টি নেমে আসছে কারো ফিরে আসার পথে। এই অর্ন্তভেদী বৃষ্টির ভেতর পুড়ে পুড়ে যাচ্ছে পুরোনো হরফ, হাওয়াকলের ভেতর দিয়ে ছুটে আসা চাপা চাপা সঙ্কেত। ফ্রিজ হয়ে আছে বিষণ্ণ²কাকেদের কা। এসবের ভেতর রিল কেটে কেটে দীর্ঘ বিরামচিহ্নের দিকে উঁকি দিচ্ছে শায়রা বানু। মা, মা বলে ডাকতে ডাকতে যে কি না অসমাপ্ত রঙ হয়ে গেল। যা কিছু সম্ভাব্য হাসির পূর্বাভাষ জমিয়ে রাখার কথা ছিল, তা অনায়াসে গড়িয়ে গেল বৃষ্টির টিউন বাড়ানো ভোরে। শিখে নেওয়া হরফ, আজ বলতে না পারা কথা হয়ে ঢুকে যাচ্ছে সমস্ত আয়নার মাঝে।

হরফ ও হাওয়াকলের ধোঁয়ার ভেতর দিয়ে দেখো, কীভাবে ক্রমশ মুছে যাচ্ছে অসমাপ্ত রঙের হেসে ওঠার সমুদয় পুরনো ভঙ্গিমা। আর বলতে না পারা কথার ভারে মাথায় ফুল আঁকা ছুরি ঠেকিয়ে বড় রাস্তার বিপরীতে হেসে উঠছে হরতনের রাজা...


লেবুতলা রিসোর্ট
এখানে ঘ্রাণটুকু ছাড়া আর কোনো লেবুফুল অবশিষ্ট নেই। তবু কি-না সেখানেই ঠিকানা বদল হলো। তার ছায়ার কাছাকাছি যত আয়োজন, যতটুকু রাত্রির সাজ, সেতারের সুরে সুরে সেদিকেই ডুবে যাচ্ছে গাঢ় অন্ধকার, মশগুলে বলে ওঠা যাবতীয় ফিসফাস। এ ঘরে বেজে ওঠে নিত্যদিনের ধুন। তার কোলাহলটুকু নিয়ে কী মিহিন ডুবে যেতে থাকে রাত! পুরনোর কাটাকুটি ধরে রেখেছে যে প্রেমিক, এইখানে তার অভিমানে ঢুকে পড়ছে লেমোনেড হিম।

লেবু ও লবঙ্গের উপমা নিয়ে জমে ওঠে রাত, যা কিছু মাখা মাখা কথা। কথায় কথায় আবছা আলো থেকে উঠে আসে প্রেমিকার মুখ। বিষাদ জয়ের কৌশলটুকু নিয়ে লাল কাঁকড়ার ঝোপ পেরোলেই ভেসে যাচ্ছে পুরনোর বিকেল, বিগত দিনের শোক। ক্রমশ এই রাত ফুরিয়ে গেলে বহুদূর প্রাপ্তি ধরে রাখে আমাদের এঁটো চোখ।


প্রেম ও বহুবিধ নির্জনতা
স্মৃতিস্মরণি পেরিয়ে বাঁকা হয়ে যে পথটি চলে গেল শৈশবনগর, তার মধ্যবর্তী স্টেশনে বসে কী যেন ভাবছে শুষ্কঠোঁটের মেয়ে। তার মন খারাপের নিবিড়ে জমে উঠছে হরিণসন্ধ্যাকাল। এমন সন্ধ্যার ভেতরও কেমন ব্যথা জমে থাকে, ঘন কুয়াশার মতো। তবু দূর থেকে মশগুলে চেয়ে আছি তার ধূসরতার দিকে। এই ধূসরতার ভেতর থেকে জেগে উঠছে বহুবিচ্ছেদি প্রেমিকার মুখ, হাসি ভুলে যাওয়া শুষ্ক শুষ্ক ঠোঁট। স্মৃতি থেকে দুলে উঠছে আকরকণ্ঠ, তারামণিলতা। জেনো, এতটুকুই প্রেম, যার বহুবিধ নির্জনতা।

ও প্রেম, ও নির্জনতা, দেখো প্রেমিকের অভিমান থেকে কী করে জেগে উঠছে ঠোঁটের গোপন আর ছকের মতো মুছে যাচ্ছে সম্মুখ পথ; গভীর থেকে ছলকে উঠছে- না বলতে চাওয়া সমুদয় প্রাচীন কথা।

ও মেয়ে সন্ধ্যা পেরোনোর আগে জেনে নাও, এই দিকবদলের দিকে জমে আছে কতখানি শীতকাল। ভুলে যাও বিগত ফাটলের দিন। ধূসরতা ভেঙে বিপরীতে আসো, খুঁজে নাও ঠোঁটের শিরীন।