রেট্রোস্পেকটিভ

শাশ্বতী সান্যাল

বেশ সিনেমার মতো দুপুর এখন
রায়সাহেবের কুঠি মনে হচ্ছে পাশের বাড়িকে
স্মৃতিতে বটের চারা। ঝুড়ি নামে।শেকড় ছড়ায়।

কাঠামো শুকিয়ে আসে। রোদে বসে মুন্ডহীন দেবী
ধ্যানস্থ মুদ্রায় তার প্রথম যৌনতা শিখবে
কিশোর বয়স

হে দৃশ্য, অমর হও
দীঘল সেপিয়া টোন যেন ছোঁয়ামাত্র ভিজে যায়...


২.

ক্যামেরার উল্টোদিকে দেবীর বোধন হচ্ছে
লং শটে... গাঙিনীর জল
নতুন রেলপথ বসছে, সহযাত্রিণীর মুখে
চালচিত্র, দুগগার আদল

শহরে ভ্রমণ এলো। চরিত্রেরা তুলে নেয়
সাজানো সুটকেস বন্দী স্মৃতি, ধুলো, কাঁকড়ার ডিমে
ভরা নেগেটিভ। মিথ্যে বকখালি, দীঘা, রায়চক...

ক্যামেরার উল্টোদিকে সবুজ বেড়েছে। এইবার
ভেজা আলপথে
ঠাকুরকে অজ্ঞান করে উড়ে যাবে সাদা কোঁচবক।

৩.
বিন্ধ্যবাসিনী দেবী একদা থেটার করতেন
প্রতিভা জনমোহিনী ছিলো তা এখনও বোঝা যায়
অনেক ঘাটের জল দশহাতে পান করে
আজ তিনি প্রৌঢ়া হয়েছেন

ক্যামেরার জুম বাড়লে বলিরেখা স্পষ্ট লাগে
গর্জনতেলের মান নেমে গেছে আক্রার বাজারে
হলুদ কেশর মাখা নিত্যসহচর সেক্রেটারি
তারও তো এগিয়ে এলো বিশ্রামের দিন

মঞ্চমধু আর নেই। অধিকারী নেই
পুজোর দিনের বায়না ইদানিং স্বপ্ন মনে হয়
রাংতার সাজগোজ, সিংহের মুখোশে ঢেলে দেন
স্মৃতিগন্ধ মাখা ন্যাপথলিন

অন্ধকার কাশীপুর ঘাটে কারো তরণী ঠেকেনা
তবু, পাঁজিতে কে লিখে রাখলো
দেবীর নৌকোয় আগমন?

৪.
রয়েছে। যেমন থাকে বহুব্যবহৃত জীর্ণ
কাঠামোরা, গলে গেছে মাটি
পাঁজরে ক্ষতের দাগ, তবু বামহাতে ধরা
বরাভয়, নিখুঁত ক্ষমাটি...

শিকড় ছড়িয়ে বুঝি পরিত্যক্ত দেবগৃহ ধরে রাখতে চেয়েছো সবলে?

বোঝনি নিরঞ্জন হয়ে গেছে, স্মৃতি জুড়ে
আয়না ভাসানো ছিলো জলে।