নিষিদ্ধ সময়জাত

অনিন্দিতা ভৌমিক

দূরত্ব, আর এতোটুকু যথেষ্ট হলেই আলো নিচু হয়ে থাকছে। সন ও তারিখ উৎকীর্ণ করে রাখছে ঘরের দেওয়ালে। আমি ওর পরিচয় নিয়ে ভাবছি। সীমান্তের গায়ে লেগে থাকা গ্রাম অথবা কাগজের বৈধতা নিয়ে ভাবছি কতো অনায়াসে। যারা অক্ষরের কাছে নিষিদ্ধ। শব্দের আড়ালে জারজ ফসল তুলে রাখে।

শুখা হাওয়ায় আমাদের ঝান্ডা উড়ছে তখন
লিখিত বাণীর গায়ে ছড়িয়ে পড়ছে বহুরূপ
যত্রতত্র কিছু জল

জনশূন্য এই উপত্যকা। অথচ রঙের কোনো অনুবাদ হয় না। শুধু নীরব উৎকন্ঠার ভেতর বিবৃতি ফুটে ওঠে। কাচের ফ্রেমে শাদা হয়ে ওঠে জীবন্ত চোখ। আর সময় তাকে প্রশ্ন করে। তার চোখের ভাষা নিয়ে ইঙ্গিত করে। কালো একটা স্বচ্ছতার ভেতর পা ডুবিয়ে বসে থাকে আজীবন।

মেঝেতে ছড়িয়ে থাকার বৈধতা নিয়ে কথা হয়
সদৃশ থেকে ভাগ করে নেওয়া হয়
ত্বকের মতো বিবরণ
গঠন ও উপাদানের প্রকৃতির উপর যেটুকু সমানভাবে নির্ভর করে


তথ্যের এই মোড় এড়িয়ে চলে যাচ্ছি
কিছু বলতে চাওয়া হয়েছে যে বয়ানে
তার শুভেচ্ছার গায়ে
দেখছি ভালো হয়ে ওঠা
পরমুহূর্তেই যা স্বচ্ছন্দে ফিরে আসতে পারে
ঘড়ির শব্দের ভেতর ঝুলিয়ে রাখতে পারে
তাল, লয় ও বিলম্বিত পাহাড়ি রাস্তা

অন্যকারো আদলে বসে থাকছি এবার। সামান্য মাথা ঝুঁকিয়ে জানিয়ে দিচ্ছি অবচেতনের প্রতি এই আনুগত্য আসলে তো রাসায়নিক বিক্রিয়া বিশেষ। নিজেদের তৈরি অনীহায় যাকে মুছে ফেলা যায়। যথেচ্ছ সমাবেশের কথা লুকিয়ে রাখা যায় চোখের ভেতর, মজ্জার ভেতর, হাড়ের তীব্রতার ভেতর।

হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার আগে বসে পড়ছি মুখোমুখি টেবিলে। সমান্তরাল উক্তির সামনে মেলে রাখছি দুটো অন্ধকার কাটার ছুরি
শীতের বাতাস লাগছে গায়ে
ঊরু থেকে অক্ষ থেকে আনুগত্য থেকে
ছড়িয়ে পড়ছে ঘোলাটে হওয়ার প্রবণতা

ক্ষয়জাত করেছ যে অবস্থান
সামান্য আর্দ্রতায় তুলে দিয়েছ
যে অসামরিক প্রস্তাব
আমি তার ফাঁকফোকর আলোচনা করছি
দীর্ঘ সময়ের উপাদান
ভাগ করে নিচ্ছি
তার আগামী বৈঠকের শুরুতে

নূন্যতম বয়স চল্লিশ অথচ জরুরি অবস্থায় এই মেয়াদ
পাঁচ বছর খুলে নেওয়া যেতে পারে

নির্বাচিত থিওরেম হাতে নিয়ে

বলা যেতে পারে...

আমাদের একটা সিরিয়া থাকুক
শরীর থাকুক মৃত শিশুদের আদলে