বদলে যাবার দিন

জুনান নাশিত

বদলে যাবার দিন

ঘরেও থাকবো না আর
এমনকি বাইরেও
পথিক স্বভাবে পথ চলেছি এতোদিন
গৃহের অনাদরে দিন কেটেছে অকাতরে
এবার বদলে যাবার দিন
হয় প্রেম না হয় মৃত্যুতে।


কাল থেকে

আমাকে আমার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছি কাল
এতোদিন শকুনীর ঠোঁটে ছিন্নভিন্ন হতো
আমাদের অভিন্ন সকাল।

মুদ্রার কাহিনী নিয়ে বাদামী বৃষ্টিরা ছুটে যেতো
চন্দ্রিমা গহ্বরে
নীল বিষে সুর ভরে কন্ঠনালি ডুবে যেতো
পাখিরা নীরব হতো ঢেউ হতো নড়বড়ে।

কাল থেকে প্রেমের কাহিনী নিয়ে ছোটেনি উল্কার রথ
তবু চেনা পথ ঘাট লোকায়ত চাঁদ
শোনাতে এসেছে ঘরে
দ্বিধা কেন তবে? বাজুক হাজারো পথ
তুমি হেঁটে যাবে তোমার নিশানা ধরে
রূপান্তরে রূপ ক্ষয়ে যাক পৃথিবী কাঁপুক
উড়ুক উড়ন্ত নীলে, জেনো
অন্তর তোমার কাঁদবেই যেভাবেই ওড়ো
সবুজ পোড়ানো ঝড়ে।

বিরোধ
সপ্তসিন্ধু দশদিগন্তের মলাটটা ছিঁড়ে গেছে
লাগাতে পারোনি
আজ কাল না হয় পরশু....
চুপসানো সময়ের পিঠে চড়ে
ধারালো ছুরির গতিস্নিগ্ধতায় জীবনের বাঁকগুলো শুধু বদলালো
চোখের কোটরে স্থিত হলো মৌলিক বিরোধ
ভৌতিক প্রচ্ছদ জুড়ে পরষ্পরে সঙ্গচাতুর্যের যে খোলস
এতোদিন দিগন্তবিস্তারী ছিলো
তা-ই আজ গভীরতাকামী; ভূমির অতল খাঁজে অন্ধকারমুখী।

অশ্রুত কান্নার মেঘে কী ভীষণ ভারী আমাদের ইচ্ছেমায়া
ছেঁড়া মলাটের মতো নিবীর্য নিরন্ন
বুকশেলফের কোণে পড়ে থাকে স্পর্শহীন
জমে থাকা বেখেয়ালী ধুলোর মতন।

কথা
কথা জেগেছিল
কাল সারারাত
ঋতুর বাঁকানো স্বরে
অগভীর রাতের মতোন
যে কথারা ঘাইমারা বেদনার বোধে তীক্ষ্ন করে
নিচু জলে নুয়ে আসা
জীবন জড়ানো মৃত্যুর দুকূল
সে কথার পিঠে নিশ্চুপ বিদ্রুপ
সময়ের কণা বেয়ে ধূ ধূ শূন্যতায় মিশে যায়
মিশে থাকে চলমান পায়ে
দিনানুদিনের অমার্জিত ব্যস্ততায়
সেসব ছাড়িয়ে জিজ্ঞাসার বিরতিতে
কেবল একটি কথা চাঁদ বেষ্টিত মেঘের মন্দিরায়
তির তির কাঁপে
ঘৃণা কিংবা পাপ অথবা ধিক্কার যা কিছু থাকুক
কথার শরীরে কথারাই বেজে যাক।

মাধবী মুকুট

ডুবন্ত সূর্যের কাঁধে অচেনা নদীর স্রোত!!

আমার দুচোখে দিগন্ত উৎসব
দৃষ্টির তালুতে রক্তবর্ণ ঘোর
আমি দাঁড়ালাম তোমার নিঃসঙ্গ তর্জনীর কাছে
স্বাদ গন্ধহীন সময়ের মতো নিঃশব্দে
তুমি ক্লান্ত জলাশয়ে মেলে দিলে বিভীষিকা রাত
ভেজা ভেজা দীর্ঘশ্বাসে জুড়ে দিলে অতিবৃষ্টির ধার।

আমি ঠায় দাঁড়িয়ে তোমার তর্জনীর কাছে
কাছাকাছি, তবু দুজনের মাঝে গ্রহান্তরের ঢেউ

গভীর ঘন রাতে
তুমি তর্জনী ঢেকে দিলে মাধবী মুকুটে।