মনোবিদ

সিদ্ধার্থ বসু

যার জন্য
যার জন্য কষ্ট নেই, তাকে ভেবে কষ্ট লাগে খুব
আমাকে যে কষ্ট দেয়, তার কথা কখনো ভাবি না
কেননা নিজেকে ভাবি, ক্লিষ্ট যে আমিই সে সময়
যার কাছে লোপ--সে না, ভাবি তাকে--যে লুপ্ত, বেকুব

ভুলে গেল যে আমায়, তার জন্য প্রস্তুত বাসর
তার শোকে দীর্ণ আমি কাটাই না রক্তহীন দিন
ভুলে গেছি আমি যার অবজ্ঞাত মুখের আদল
তার থতমত চোখ, একা হাসি, ঘাম, শীত, জ্বর

যেতে যদি হয় সত্যি, যে ভুলে গিয়েছে যাক সে-ই
যাকে ভুলে গেছি আমি, সে যেন না যায় ছেড়ে চলে
ছেড়ে গিয়ে যাকে আমি করেছি বিমূঢ় বিচলিত
সে ছাড়া আমার আর অন্য খেদ অবশ্যত নেই



বাহির
ঘর ছেড়ে বেরোতেই, বাহির
আমার খোলা কাঁচা ক্ষতগুলোয়
চুমো খেল
উধাও প্রেমিকের মতো শিহরিত, তার ভিজে ঠোঁটদুটো আমায় ফিরিয়ে নিল তোমার বাহুবন্ধে

আমি ঈশ্বর মানি না
এই মহাবিশ্বকে মানি
আকাশে ওই তারার অক্ষরে আমার বানী লেখা
আর, মাথার চুলগুলোকে উষ্কখুষ্ক করে, বয়ে-যাওয়া বাতাস হল আমার পরম সত্য

কাঙাল প্রার্থনায় তারপর,
আমি দুহাত তুলে ধরলাম
আর আমার ফতুর হাড়-মজ্জা
গোল চাঁদটাকে সম্পূর্ণ গিলে নিল

মূল: Christopher Poindexter

ফিজিক্স

চিবিয়ে ছিবড়ে করা রবারকে জানি
তুচ্ছাতি মধুর রস গোড়াগুড়ি হয় রাহাজানি

কতদিন? মাস, কি বছর?
ছিল বুঝি? রক্তিম রগড়

অদম্য লাটাই কুঁদে প্রাণপণ টেনে চলি সুতো
কাটা ঘুড়ি নেমে আসে য়্যাসফল্টে, নিউটন প্রসূত


আজও আমার

আজও আমার হাত পা চালু আছে
মাংস পেশি হয়নি হেজে অসাড়
স্নায়ুরজ্জু আজো অসাবধানী
এখনো রসে উছলে আছে এ ভাঁড়
আমাকে করো নিযুক্ত সেই দায়ে
শরীর মন না পায় কোনো রেহাই
খনন করো খনন হাতে পায়ে
গভীরতম প্রবিষ্ট হোক অস্ত্র
আপাদমাথা করো হে সাব্যস্ত
আকরমধ্যে মিশিয়ে যেতে চাই


মনোবিদ
কথা বলবার আগে ভাবতে হবে, বিরোধের ঝোঁক আছে কিনা
রাস্তায় নামার আগে দেখতে হবে সেই পথ কেন্দ্রমুখী কিনা
আঙুল তোলার আগে মনে রাখতে হবে যেন প্রতিস্পর্ধী না হয়
সমস্ত প্রবাহ যেন অনুদানগ্রাহ্য সোঁতা হয়
প্রতিটি বিকল্প যেন নিজগুনে মেলে প্রতিষ্ঠানে
যেকোনো আগুন দূরনিয়ন্ত্রিত, নিভে যেতে জানে
যেকোনো বিক্ষোভ যেন সোজা দামে কিনে নেওয়া যায়

অবসাদ থেকে সুস্থ হতে এই একটাই উপায়

পরতত্ব

প্রতিষ্ঠান বাস্তবিক আছে এ-আমার আমি হয়ে
এই কথা বেজে ওঠে মনোমাঝে দ্রিমিকি-দ্রিমিকি
ভাঙব যদি কেন্দ্র আমি, দু-কলম পরকথা লিখি
পরচর্চা করি যদি নিজেকেই ক্রমে ক্ষয়ে ক্ষয়ে
অথচ পরকে দেখি নিতান্ত আমারি চোখ দিয়ে
কোন ঘুঁজি বেয়ে যাব সে অপরে নিজেকে বাঁচিয়ে?
ক্ষমতার বাসা ভাঙব, দাঁড়ালাম চোখে চোখ রেখে
নিজেকে ভাঙতে চেয়ে নিজেরই আকন্ঠ চেখে চেখে
অহং ভাংবো বলে, মুছে ফেলতে শুধুই অহং
নিজের চারদিকে আমি পাক খেয়ে মরি,-- ‘আহা ঢং!’--
সাধের আরাম গাঁথি সাধনার ছিপ ফেলে ফেলে
বাইরে কে হাঁকেঃ ‘আর ঘুমোস না, দ্যাখ চক্ষু মেলে’