আমি রাষ্ট্র নেবো না, মঞ্জরি

রুবেল সরকার

আমি রাষ্ট্র নেবো না, মঞ্জরি

ঘোর কাটে না মঞ্জরি। এ কি সেই রঙপেন্সিল?

দূরপাল্লার জাহাজ, কাটা কাটা ঢেউ
সিঁদুরমাখা জল...

চিতার কাষ্ঠ থেকে তুলে আনা দহগ্রাম---
অচ্ছুত শব, নাঙ্গা অবয়ব;

চন্দনে পোড়া, যজ্ঞ-আহুতি-শোক
আর দেবদারু হাওয়ার অঞ্জলি...

আমি রাষ্ট্র নেবো না মঞ্জরি; শুধু তোমাকেই নেবো।

বোকা বোকা ভোর---নগ্ন বিকেল
আর কিছু আততায়ী রাত...

ওখানে সীমানা নেই, নেই মিহি সেলাই;
দগদগে ঘাঁ---কুৎসিত!

যুগল প্লাবন---দূর বনপাংশুল
আর কিছু ছোপ ছোপ লাল

কোথাও জাগে না কোনো সুর;
দলছুট স্মৃতির গিঁটে আধফোটা চোখ।

ফের ঝরা কথাকলি---প্ল্যাকার্ড, ব্যানার
কিছু নন্দিত দ্রোহের স্লোগান...

আমি রাষ্ট্র নেবো না প্রিয়; নেবো তোমার
অঙ্গুরীয়।


এ আয়ু নৈর্ব্যক্তিক-০২

...তবু একা কোনো রাজহাঁস দৌড়ে পালালে ভাবি, উত্তর গোলার্ধে আজ তুষার পড়বে খুব অথবা শিকার না পেয়ে, নিজেই শিকার হবে চিতাবাঘ। এসব ভাবতে ভাবতে, কালো আয়নার ভিতর ডুব দিয়ে বসে থাকি অজস্রকাল। বক্র ছায়ার পিঠে ক্রমশ বেড়ে ওঠে কয়লামন্দির; আহুতিসমেত জ্বলে মরণকাঠি। কে যেন মরতে মরতে বলেছিল, 'বাঘের মাতৃভাষা ক্ষুধা; আমার পিতৃভাষা শিকার।' পাখিদের কটাক্ষ করে সে আরও বলেছিল, 'এ ওঙ্কার পেরিয়ে চতুর্দিকে কালো কালো তুষার... খুব শীত করছে, আহ্! আর তোমরা ভাবছো অন্ধকার।'
আমি শোকের বারান্দায় কথার কবর খুঁড়তে খুঁড়তে এক দীর্ঘ দৌড় আঁকি, ছায়াকে শেখাই পাতাল-সন্তরণ, গুমকৌশল। তবু একা কোনো রাজহাঁস দৌড়ে পালালে ভাবি, দক্ষিণ গোলার্ধে কেবলই বরফ আর বরফ অথবা এ আয়ু নৈর্ব্যক্তিক।
রুবেল সরকার
নাভি


হাঁটতে হাঁটতে, একদিন ঠিক তোমার গভীরে যাবো
এপ্রিল ঝরে গেছে ভুলে। ডুবে গেছে মাতাল নভেম্বর
আমায় প্রশ্ন করো না, এ আটমাস কোথায় ছিলাম।
জুতো জোড়া হারিয়ে ফেলেছি কবে! হাঁটতে হাঁটতে
পালাতে চাইনি আমি---নাভি কেটে কে বা পালায়?


মৃত্যু

পৃথিবীকে টানতে টানতে
আমি তোমার দিকে নিয়ে গেলাম।
তুমি মানে কবর---নিষিদ্ধ বোতামবাগান!
ভুল ল্যান্ডস্কেপে একবার দণ্ড, আরেকবার দক্ষিণা।
রক্তের মেটাফরে ভেসে ওঠা 'তুমি'---ঘোরের এস্রাজ।
তুমি মানে ঘুম তাড়িয়ে দেওয়া চোখ
অথবা চোখ ডুবিয়ে দেওয়া ঘুম---
নিভৃতে পুড়ে যাওয়া হাওয়াই সিগারেট; বনসাই পাহাড়।
তাসের রানওয়ে ছেড়ে 'তুমি'---শ্বাসকাটা ঘর
পৃথিবীকে টানতে টানতে
আমি তোমার দিকে নিয়ে গেলাম...