মিথ্যে

রাজদীপ রায়

মিথ্যে
সত্যের আঘ্রাণটুকু শুধুমাত্র টের পায় পথের কুকুর
পাওয়ামাত্র আকাশের দিকে
মুখ তুলে ডেকে ওঠে

তখন নিশুতি রাত,
মানুষ নিদ্রার ঘোরে সুপ্রাচীন স্বপ্নে দেখে
স্বর্গ থেকে নেমে এসেছেন যুধিষ্ঠির
বলছেন: এবার থেকে কুকুরের কথামতো
চলতে হবে তোমাদের

বাধ্য শ্রমিকের মত ঘাড় নাড়ছে বীরুৎ-পুরুষ
আর এ ওর গায়ে চিমটি কেটে ভাবছে
কেন এই স্বপ্ন ভাঙছে না!

সত্যের সন্ধান পায় একমাত্র কুকুরেরা
মানুষ তার ছায়া থেকে
সত্যের ধারণা
চুপিসারে সংগ্রহ করে

এই দিয়ে গড়ে ওঠে পুলিশের ফাঁড়ি
ঘুম ভেঙে, শিশিরের স্তনে মুখ রেখে
তারা দেখে যাকে তারা ভেবেছে সকাল
আসলে তা রাত্রিই
ফর্সা হয়ে উঠেছে কখন, মিথ্যে সত্যের আলোয়

৩0৭0
জ্যোত্‍স্নায় পুড়ে যাওয়া মাঠ
পাশে পরিত্যক্ত স্কুল
ভাঙা পাঁচিলের গা ঘেঁষে
পড়ে আছে কার ছেঁড়া শাড়ি

সালটা উনিশশো চল্লিশ
নাকি দুহাজার বারো?

মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে বোমারু বিমান
নীচে ভয়ার্ত শিশুর আতঙ্কে মচকানো জল
কেঁপে ওঠে মহাকাল মুখে

জোত্‍স্নায় পুড়ে যাওয়া মাঠে
উড়ে আসে কবেকার
মরা সাগরের মাটি

চাষাবাদ হবে, বন্ধ্যা ফসলের ক্ষেতে
ভিক্ষুক দাঁড়িয়ে আজীবন
হাতে অন্ধ বাটি...


দুঃস্বপ্ন
ভিনগ্রহ থেকে জীব এসে নামল
তারপর
বীজ ছড়িয়ে দিল মাটির ওপর

সারা রাত অপেক্ষার পর
এবার মানুষেরা ঘুমোবে

তাদের স্বপ্নের মধ্যে
জেগে উঠবে কত কত
গাছের শরীর

ফ্লুরোসেন্ট আলোর গোলাপে
এই সৌরজগতের
শেষ পথটুকু দেখা যায়

বাঘের মুখোশ পরে কেউ গোলার্ধে দাঁড়িয়ে


বুদ্ধ
সিনেমাহলের ফাঁকা চেয়ারে
বাসের পাদানিতে
ফলের দোকানে

এই তুমুল গ্রীষ্মে
একটি অবলুপ্ত ভাষা
তার ভিক্ষের হাত
বাড়িয়ে আমায় দেয়...

যত তার হাতে একটি করে
পয়সা গুঁজে দিই
তত দেখতে পাই

ট্রেনের ভেতর হারমোনিয়াম গলায়
গাইতে গাইতে ঘন ঘন সমাধিস্থ হচ্ছে

অচল মুদ্রার মত আমাকে মাঝে মাঝে
তার বাটিতে শুয়ে থাকতে দেখা যায়