বিবর্ত

নাহিদ ধ্রুব

মরীচিমায়া
ছায়াঘন আইল ধরিয়া হাঁটি — যে দিকে
বাতাস বয়
পায়ের তলায় ঘাসবন পড়িছে শুয়ে —
দুই পাশে ডালিমগাছ ঝাঁকড়া প্রাচীন
মধ্যিখানে তুমি তুমি নদী বয়ে গেছে।

নদীতট পাইলে মনে হয় পৌঁছায়ে গেছি
ক্ষীণধারা পূর্ণ ফনিমনশার ঝোপে —
বিস্তীর্ণ মাঠের কিনারে অভিযাত্রী
সূর্যের ছায়াতলে ছড়ায়ে আছে, তবু
সহসাই বোধ হয় আছি ভুলপথে —
গভীর খাদ ডুবিয়া যায় অগভীর জলে

ডুবুরীর মতন ডুব দিয়া দেখি —
এ কেমন মরীচিমায়া ;
যে নদী মেলিয়া ধরে ভ্রমের দুয়ার —
জোয়ারে ভাসিতেছে তার সাঁকোর ভেলা
নিরজন নদী তুমি ভিটাছাড়া পার
সন্ধান করিতেছি প্রেমিকার আকার।

ঐকান্তিক

একটা ট্রাক যদি আমারে চাপা দিয়া চলিয়া যাইতো
নিঃসঙ্গতার নাগপাশের ভেতরে — যেইখানে স্তব্ধতা
আসিয়া হামা দিয়া বসে, পচা রক্তের মতো লাল রং
নিয়ে, যেখানেসেখানে অনেকবিধ মানুষের মনে —
ঘুমন্ত সুখের মতন শুইয়া আছে মর্গের হৃদয় তাহার ;
যেখানে শুইয়া থাকে বনভূঁই মুমূর্ষু প্রেতাত্মা আমার
তার বেদুইন সংসারে যোজনগন্ধা বিষাদী মৃদুভাব —
মানুষ বৃক্ষপত্রের পথে — শোক চাপা পড়িয়া থাকে।

বিবর্ত
.
শিরশির করিয়া নদীর মতন সচল হইতেছে হাওয়া
বোঝা যায় কি যায় না —
পাতার শব্দে পায়রাগুলো চঞ্চল হইয়া ওঠে ;
এইখানে পাহাড়ি বাতাসে এক নেশা ছিলো
স্নায়ুর মতন স্থির অসংখ্য স্মৃতি ডানা ঝটপট করিতেছে।
বোঝা যায় কি যায় না —
আলেয়ারআলো নিয়া ভর করিছে ফাঁদ,
অন্ধকার এতো অন্ধকার যেন নৈঃশব্দ্যের দাঁড়কাক
পড়িয়া থাকে শুকনা রোদের পাশে —
কতকাল তুমি ম্লান, কতদিন ভ্রমরীর মতো
উবিয়া যাইতে যাইতে —
পৃথিবীর শেষ পাখিটাও কর্পূর হইয়া গেছে।