বেঘোর হাওয়ার কিসসা

পিয়াল রায়

বেঘোর হাওয়ার কিসসা (১)

সব হারিয়ে লোকটা দাঁড়িয়েছিল একা। সামনের রাস্তা, গাছ, বৃষ্টি চুপচাপ দেখছিল। লোকটার নিরাবরণ চোখ কিছু বলতে চাইছিল। এমন একটা কিছু যাতে ঘটে যাওয়া ঘটনার উপর পলি পড়ে দ্রুত সব কিছু ঢেকে দিতে পারে। লোকটার বউ ওকে ছেড়ে চলে গেছিল। সম্ভবত কোনোদিন আর ফিরবেনা বলে। বাচ্চা মেয়েটাকে কারা যেন খুন করে গেছে গতরাতে। প্রতিশোধ সবাই নিতে পারেনা। কিন্তু আত্মহত্যা করতে একজন অক্ষম পিতার বাধেনা কোথাও। লোকটা চিৎকার করে পৃথিবীর সব আলো নিভিয়ে দিতে বলেছিল। আলোতে ওর দেখা অন্ধ হয়ে যায়। তবু ঈশ্বর বসে থাকেন আলোহাতে। কোলে লোকটার ন'বছরের কন্যা।

বেঘোর হাওয়ার কিসসা (২)

ভালোবাসায় ভালোবাসার চেয়ে গাঢ় হয়ে ওঠে অভিমান। আজকাল আর দেখা হয়না বিকেলের সাথে। রাত ও মূক। বধির। জ্যোৎস্নার টুকরোয় মাঠ আজও সমান মায়াবী। ওম এখন চুপিচুপি আসে। চুপিচুপি চলেযায়। বয়সাধিক্যে নৌকো হাঁপিয়ে ওঠে। তলেতলে বালি জমে জল ও দিনে দুবার হেঁচকি তোলে। ভোর শুরু হতে না হতে শেষ হয় বসন্ত। কচুপাতায় রোদের মুখ। তবু ভিজতে চেয়ে ও বেলাবেলি বেড়িয়ে পড়ে। যদি কোনো গতিকে ফাঁকা পেয়ে যায় অন্য একটা ওকে।

বেঘোর হাওয়ার কিসসা (৩)

কেউ আর কারো জন্য বসে থাকছেনা। দেওয়ালের সব রঙ নিষিদ্ধ ঘোষণার পর হারিয়ে গেছে ক্ষিতি – অপ – তেজ - মরুৎ সংক্রান্ত নির্দোষ প্রচারগুলি। মাঠে – ময়দানে - রাস্তায় –ব্যারাকে ঘুরে বেড়ানো পুতুলগুলো এখন অসুস্থ। অথচ তাদের পোড়াতে গেলে বাতাসের গায়ে লেগে যাবে হীনমন্য পাপ। ভারী বাতাস ক্রমশ নিম্নমুখীটানটাই বোঝে। দাহ শব্দের সাথে জড়িত আগুন অনেক সময় ধ্বংস হয়ে ওঠে বিবেচনাহীন। পুতুলপোড়াতে গিয়ে পুড়ে যায় একাধিক মিছিলেরমুখ।যুবক –যুবতী পুড়ে যেতে যেতে বুঝিয়ে দেয় মুখ মানেই কুশপুত্তলিকানয়।