মৈত্রেয়ী ও...

ঊষসী ভট্টাচার্য

মৈত্রেয়ী ও...
'আত্মনস্তু কামায় ভূতানি প্রিয়াণি ভবন্তি’

যাজ্ঞবল্ক্য তখন কুটির পল্লবে,
একেকটি পাতা সুখের মতোই ছড়িয়ে পড়েছে,
কমন্ডুলে ভরে রাখা জলে,
উঠে এসেছে গান,
ভেসে এসেছে দৃষ্টি
দেখা দিয়েছেন ব্রহ্ম।

আঁচলের আলো মৈত্রেয়ী অন্তরে অন্দরে,
কিছুটা ঘিয়ের গন্ধ,
কিছুটা ফুলের সাজ
কিছুটা পথের বাঁক।

চোখ যতদূর যায়,
মন ততদূর যায় কি?

মৈত্রেয়ী দেখছেন,
এত গলি,
পথ তবু একটা,
শুধুমাত্র একটাই।

কোনটা?

যজ্ঞের আগুন জ্বলে উঠছে,
আর নিভছে না।

থাকাটা অসম্ভব নয়

‘দৃশ্যতে ত্বগ্র্যয়ো বুদ্ধ্যা সূক্ষ্ময়া সূক্ষদর্শিভিঃ '

প্রতিটি রোমকূপে
গন্ধরস।
কাদা লেপে আছে শরীরে।
'কোথাও তুমি নেই,
কোত্থাও তুমি নেই।'

মিথ্যুক শব্দেরা ভ্রূণ কেটে
ন্যাড়ামাথা গর্তে গুঁজে দেবে,
গলগল বেরিয়ে যাবে রক্ত মাংস পুঁজ,
উঠে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই
প্রতিটা শিঁরদাড়া স্তন্যপায়ী হিসহিস শব্দে
ছুটে আসবে।

প্রতিটি আগাছায় রসগন্ধ,
শরীরে কাদা লেগে গেছে।
তুমি আছো,
তুমি নিশ্চই আছো!

তৎসম যুবককে
অপ্রিয় তৎসম যুবক,
কেমন আছ জানতে চাইনা। আছ,এটিই বাহুল্য মাত্র।
একটু আগে বাড়ি ফিরেই,এই মাত্র ডেস্কে। ফেরার পথে কৃষ্ঞচূড়ার মুখোমুখি, জানি তুমি উদাসীন। তবু দোয়াত অসহায়।
কুশলাকুশল খবর অর্থহীন ভেবেই,সে সরাসরি আমরা পায়রার কাজে নিযুক্ত করেছে।
বেকার যুবতী,কর্মঠ হলে,শিশুর হামাগুড়ির চেয়েও প্রবল দ্রুতগামী হয়। এক্ষেত্রেও তাই,

গৌরচন্দ্রিকা সমাপ্ত, এইবার মেইনকোর্স -

স্যার তোমাকে,বলিনি তখনো কিছু,
বুঝেছ কী?
বেয়ারা বুড়োর স্টেথোস্কোপ,
আমার চোখ এড়াইনি,
তুমি জেনেছিলে কী?
দিগন্ত কেন প্রলেপ দেয়না নভোতটে,
বুঝেছিলে তোমাকে 'স্যার' ভাবিনা রাতে,
হাতে মেখে রাখা ঘামে তোমার
ঠোট বুলিয়ে ঘুমতে যাব।

এবারো খুব কম পাব পরীক্ষায়,
শুধু বৈষ্ঞব পদাবলীতে ফুলমার্ক্স
কেন তুমি সিলেবাসে থাকনা?
গল্প শুনেছি, পাঞ্জাবী- বিনুনির গল্প,
বিয়ে ওদের টেকেনি,প্রেম তবু হোমারের,
আচ্ছা স্যার তুমি আমি কি সেলফোন?

স্যার তোমাকে ভাবছিনা সিগন্যালে,
রাস্তা পার হয়েছি সাবধানেই,
তুমি আর সিগারেট খেওনা।

তবু,স্যার তোমাকে আর আপনি বলব না,
কখনোই না

যুবক তোমাকে দেখতে পাচ্ছে কেউ,
আহা বালির'পরে উপছে পড়ে ঢেউ,
নোঙর তোমার নাম গুনিনা আর,
কাজ ফুরলো এখন পায়রার।।