বিষুবের ঘরবাড়ি

প্রশান্ত সরকার

বিষুবের ঘরবাড়ি ৭

প্রতিটা পুরুষ জানে আপেল মুখ্যত এক ফল
স্থির অবভাসে তার প্রকৃত স্বভাব বেজে ওঠে...
যে কিশোরী পরান্মুখ, আমি তার নিজস্ব গরিমা
গড়াতে গড়াতে তারও যতখানি বোধগম্য হয়

নিবিড় প্রণালী রাখা বাতাসের স্বকীয় সুবাসে
যদিও স্বভাব তার বেজে চলে স্থির অবভাসে

------------------------------------------------------------ --

বিষুবের ঘরবাড়ি ৮

পুড়ে যাও, পুড়ে যাও সমর্পণ খোয়ানো প্রস্তাবে
পরিবর্তে সারারাত বেজে যাক স্বয়ংক্রিয় রাগ
আলোর বন্দিশ ছুঁয়ে যতটুকু কথকতা আসে
সেসব নিয়তি জেনো, আত্মহত্যা এভাবেই ঘটে

সংবর্ত থেকে আজ কী কুহকে ফেরাবে পাখিরা
রাতভর মুখোমুখি, প্রেমিক... ও শ্মশানযাত্রীরা

------------------------------------------------------------ ---

বিষুবের ঘরবাড়ি ৯

অথচ মোহনবাঁশী... ছিলনা তেমন অযাচিত
বৈকুণ্ঠ থেকে যেন সেদিনও ঝরিয়েছিল ফুল,
যদিও নির্লিপ্তি থেকে স্বভাবত উপেক্ষাই আসে
তবুও প্রতিধ্বনি কানে কানে বিস্ফারিত হয়

নিষ্কৃতিই খোঁজো তুমি, বাঁশী তার করুণ উপমা
বৈবাহিক সূত্রে বাঁধা... রাধিকার পথপরিক্রমা

------------------------------------------------------------ ---

বিষুবের ঘরবাড়ি ১০

যতটা জেনেছো, তার পুরোটাই স্বতঃপ্রণোদিত
অর্জিত কিছুই নয়... এ যাবৎ সবই আরোপণ
বরং স্বীকার করো, তুমিও বিপথগামী নও
গতিবিধি যতদূর ধরা থাকে মোহ সন্নিবেশে

পথের প্রকৃৃৃতি আজ ততটাও বাঞ্ছনীয় নয়,
যতটা প্রত্যাঘাত... সাকুল্যে রেখেছে প্রত্যয়

------------------------------------------------------------ ---

বিষুবের ঘরবাড়ি ১১

তুমিও গন্তব্য জানো, যদিওবা স্থির সমারোহে
ঈষৎ বিরামও ছিল... তারও অধিক ছিল শ্লেষ
ফলনের পূর্বে যদি ভরে ওঠে আকন্ঠ ফুলেরা
পরাগস্থালীর থেকে ক্রমশ স্খলিত হবে স্বাদ;

উড়ে যাবে অনাময়, অবসন্ন জনমের দিকে
দূরত্ব চেনাবে আর অপত্যের স্থির ছায়াটিকে...

------------------------------------------------------------ ---

বিষুবের ঘরবাড়ি ১২

স্বয়ম্বর ভেঙে যদি উড়ে আসে পোকার পিরিত
মনে কোরো, উদ্ভিন্ন হৃদয়ে আজ সব ঘাস মৃত
লেগে থাক কড়িকাঠে প্রণয়ের বারোয়ারি সুরে
প্রতিটা মুহূর্ত জুড়ে কথার ভণিতা বেজে ওঠো

ডানার বিবৃতি ছেড়ে হেসে ওঠে শালগ্রামশিলা
উন্মুখ জলের তোড়ে ভেসে যায় স্বখাতসলিলা

------------------------------------------------------------ ---

বিষুবের ঘরবাড়ি ১৩

এমনই আরোগ্য দিলে, পর্যাপ্ত যত্ন দিলে সম্-এ
প্রভূত অনীহা নিয়ে জুড়ে যাচ্ছে সমস্ত আকাশ
এ ভরা শ্রাবণ পুুুষে পাখিদেরই আয়ুষ্কাল বাড়ে
তুমিও শ্রমণ ভেবে তাদেরই খানিক তুলে রাখো

আঙুলের স্পর্শে আজ মুছে দিও জ্বরের প্রলাপ
নরম পালক থেকে... ঝেড়ে ফেলা গূঢ় অনুতাপ

------------------------------------------------------------ ---

বিষুবের ঘরবাড়ি ১৪

অনতিবিলম্ব পরে চুরি যাবে ভ্রমরের প্রাণ
অলীক দেরাজ থেকে বেজে যাবে এয়োতি সানাই
কখনও স্বপ্নদোষে, কখনও বা রতিসুখসারে
চাদর মলিন হবে অবাঞ্ছিত রজঃদাগ লেগে

মেনে যদি নিতে পারো এসব নেহাত খেলাছলে
গোপন গন্তব্যে বাজো, মেহগনি ছায়ার বাকলে