পাখনা ভরা বিষ

তানিয়া চক্রবর্তী



ছিল প্রেম,প্রেম ও আগন্তুক --- সর্ষেক্ষেতে এসে জড়ো হল পঙ্গপাল,মা বলে ইস কৃমি ধরল তোকে! দাঁত কাঁপা রাত!
আহা শরীর ও জনজীবন---মন খসিয়ে ডুবসাঁতার খায় আঁচল---বুক ও বিন্দু পাতা মেঝে --- আমায় বলে লীলাখেলা রাত্রিমাফিক তোর!
হয়ে গেলাম ইচ্ছেমতী নদী --- ইচ্ছেমতী বিশ্বাস করো গুহা শরীর, কোরক শরীর--- ভুলতে গিয়ে আটকে গেল পাঁজর ভর্তি জালে ---জলে শুনলাম ছলাৎ --- ছলাৎ আমার বদনামেরা ---ছলাৎ আমার জরায়ুজ প্রেম --- একশরীরের অশরীরী ভ্রম ---মন,প্রাণ,শরীর বিন্দুতে শক্ত করে বাঁধা পকেট--- পকেট ভর্তি আত্মঘাতী গোল ---গোল খুলে খাও---খুলে দেখো, আমি তোমার মা---ভীষণ ভীষণ মা --- দু’হাত দিয়ে উড়িয়ে দিলাম ফানুস --- আগুন আমার ইচ্ছে খেল,ঋতু খেল--- প্রেম যা ছিল, বিকার হল---নাভি এখন ঠুকরে খায় চিল--- কেন এমন সাদা ছিলাম! --- জেদী রঙের জামভরা সেই কালশিটেরা--- ও বাজ, এসে কালশিটে খা --- আমায় মার মধ্যরাতে---কুপিয়ে মার --- ছোবড়া দিয়ে খুবসে জ্বালা আগুন ---আগুন ধোঁয়ায় চুটিয়ে করি ভুল ---প্রেম দিয়ে খসিয়ে দিই বুক --- খসাই এক ভালোবাসার জন্মছিদ্র শোক --- খসিয়ে খসিয়ে দুপুর বেলা রোদের মধ্যে ঘুরি --- মিথ্যে বলি না --- পাটাতন ডোবার ভয়ে লুকিয়ে রাখি কিছু--- হাঙর আসে --- আমি হাঙর পুষি---জানি এই হাঙর খাবে আমায়, আমি তবু হাঙর ভালবাসি--- হাঙর এসো,পুষি তোমায়---আমার পিঠকে ভাবো ঢাক--- অরীয় ভাবে ছিদ্র আঁকো তাতে--- জোরে জোরে মুদ্রাঘোরে কাঠি বাজাও তাতে---দাগ জন্মাক--- দাগী দাগী নামের জোরে দগ্ধ করো আমায়--- দাগের নাম মাধুকরী--- পাখনা জোড়া ভালবাসার আঁশ--- এ আঁশের গায়ে দমকা মাখাও ছাই --- পিছলে যাওয়ায় বাঁধো--- আমি এখন দেখতে পাই বঁটি --- কানকো কেমন রক্তমাফিক কাঁদে--- বঁটির আরো বুকের দিকে আসি--- পাখনা ভরা বিষ---বিষে ভরা পাখনা


খামচানো এক নাগর এসে ধরিত্রী ডোবায় রোজ--- রোজ তার পিরিত দেখে জ্বলি --- জ্বলতে জ্বলতে আহা লাগে --- পাপগন্ধ খাই নিঝুম ঘরে একা ---জিভ লুটিয়ে আনন্দ মাখাই --- খামচানো এক নাগর এসে মুদ্রা বোঝায় আমায় --- আমি মুদ্রা বুঝি রোজ --- মুদ্রা খুলে চেঁচিয়ে মরি --- লাগে তখন ভীষণ লাগে --- যখন পেরেকে কাটে হাত --- যখন ছেলের গলা জুড়ে জ্বর আসে খুব --- আমি হাঙর ভালবাসি --- পাখনাহীন রশ্মি খুঁজি --- গলায় লাগে কামড় --- কামড় খেয়ে গর্ব হয় --- যে সোহাগে জ্বালা ছিল --- তাতে আমি নিংড়ে নিই সুখ --- ও পুরুষ তোমার মেঘলা এখন রোজ রোদ্রে পোড়ে--- খবর রাখো তার! --- শরীর কত বোঝো! --- বোঝো গলা কী বলে? কী বলে নাভি? আপাত সুখে উপচে উঠি --- ধরিত্রী আমায় চাবুক মারে রোজ --- পিঠে ক্যামন লালচে লালচে মারকুটে সব ভালবাসার নকশা


উঠোন জুড়ে কাপড় খুলি রাতে --- বিছিয়ে রাখি শাড়ি --- শায়া,মায়া সাপের গায়ে ছাড়ি --- ব্লাউজ হয়ে মাকড়সা সব জালের জন্য ঘোরে --- আমি ফাঁদের গায়ে পা রেখেছি --- গোড়ালি জুড়ে রক্ত --- আহা রক্ত যেন মাসের মধ্যে তিনদিনের সখা --- তিনদিন আমি শাক্ত হয়ে গাঁজাই রাখি রত্ন--- রতি,রত্ন পাপে মুড়ে জিভে লাগাই ঠমক --- আমার সুখ জানে না বিষের কত মায়া --- আমার দেয়াল জুড়ে পিরিত লিখন হয় --- ধুইয়ে দিই, আবার তারা আসে ---মধ্যরাতে আগুন নিয়ে নাভি নাভি খেলে --- বিষকে ভালবাসি--- পাপের জন্য ভাগশেষের নদী জুড়ে নর্দমায় রাখি মন --- মনের গায়ে পাখনা খেলা--- পাখনা জোড়া মরণ লাগে --- মরণ আমার সুড়সুড়িরা আলগা করে লুকিয়ে ঘরে ঢাকে --- নিশি এখন ভাঁজের মধ্যে বসে --- আমি পাখনা খুলে দেখায়--- পাখনা ভরা বিষ---বিষে ভরা পাখনা