ব্যক্তিগত দুঃখ

আসমা চৌধুরী

শরৎ
অরণ্যশাখা ভেঙে পুথি পড়ে চাঁদ
ভেজা ঘাসে শিশিরের স্নান
মাটির সুবাস নিভে গেলে
অন্ধকার তালা হয়ে ওঠে
কত কিছু একা খসে পড়ে
কেঁপে ওঠে নিয়মের হুক
ফিরে আসছি বলে কত ডাক ফিরে যায়
গতিরোধক ফাইলগুলো জমা হতে থাকে
এখনো খোড়া চুল উড়ে যায় যেন কাশফুল
সবুজ ফিতের মতো হাসিমুখ থামে
কারো ঘরে নিচু স্বরে গান গায় বউ
পাড়ার আকাশ জানে শরতের ঢেউ।

দূরে কেউ
সন্ধ্যার শরীরে একটি বোকা আকাশে বৃষ্টি নামে
বন্ধুরা লিখে রাখে, প্রিয় নাম ধরে ডাকা
হারিয়ে যাওয়া যুবক মুখ
পঞ্চাশ বৎসর পরে অভিমান খোঁজ নিয়ে জাগে
খ্যাতির টিকেটগুলো বোবা হয়ে যায়
মানুষের নামগুলো মাঝরাতে কথা বলে ওঠে

দূরে কেউ অসামান্য বিষাদের ঘর...

ব্যক্তিগত দুঃখ
বালিশে হেলান দিয়ে দেহ যায় কার জিম্মায়?
সে কি জানে ব্যক্তিগত দুঃখগুলি কণ্ঠ চিনেছে
সে কি জানে চার্ট দেখে নাম লেখে শূন্যতা,শূন্যতা
ক্যলকুলেটরে সারাদিন অঙ্ক,কুয়াশার যোগ
আমাদের পাশে আজ স্মারকপত্র বোবা প্রতিবাদ
হিম নামের ঘর,মাখন লেগেছে কাতরতায়
কেউ জানেনা কেন ঠিকানা খুঁজিনা
রক্তপাতে ডুবে যাই,ডুবে যাই অবিশ্বাসে...