বিজয়রথ

কৌশিক দত্ত


সে যদি মৃত্যুর জন্য অনর্থক প্রতীক্ষা না করে স্বপথে এগিয়ে যেত,
(যেতেই পারত, এই হত্যাও জরুরি ছিল না,
আমার মৃত্যুর চেয়ে নিজস্ব জীবন তার কাছে প্রিয় ছিল না কি?)
সে যদি এগিয়ে যেত, ইতিহাস অন্যতর হত।
নিরস্ত্র এগিয়ে যাওয়া হয়ত বা নিস্ফল হত না।
‘হয়ত’ বলাই ভাল। হয়ত, কারণ,
নিশ্চিত হবারও কোনো কারণ ঘটেনি ইতিহাসে।
পথেরা এগিয়ে গেছে। মনে হতে পারে,
পথিক মাত্রেই কেন এগিয়ে যাবে না?

সন্ধ্যায় যদিও
শুরু থেকে শেষ অব্দি এগোনোর পরে
নতুন প্রশ্ন এসে পথ আগলে মেলে ধরে ডানা।
বৃদ্ধ পাখির পাখা খড়্গে কেটেই
তখন এগোতে হয়।
(রাবণ যেমতি!)
লুন্ঠিত ফসল হাতে এগোনোর পথে
যেসব পাখিরা আসে, যাদের ডানায়
প্রশ্নচিহ্ন আঁকা থাকা ব্যঙ্গচিত্র, আয়নার মতো,
(এরা ঠিক পাখি নয়; পথকে থামিয়ে রাখে, নিজেও ওড়ে না)
সেসব প্রশ্নচিহ্ন সবলে দুহাতে শ্বাসরুদ্ধ করতে হয়,
তবেই এগোনো।

ভাল। তবে তাই হয়ত হবে।

তবুও প্রশ্ন থাকবে... আকাশ তো ছিল, এতটা জমিও
মৃত্যুর সাধনা করে একটাই জীবন
এভাবে কাটিয়ে দিলে?