পরিযায়ী মন

রিমঝিম আহমেদ

পরিযায়ী মন
আকাশ এমন কালো করে আসে কেন
পৃথিবীতে কৃষ্ণপক্ষ, আবহ আঁধার
শূন্যতা,মহাশূন্যতা কার হাত ধরে
করেছি ধারাবাহিক রাত পারাপার!
সংক্রমিত স্বর্গ এলো, সখ্য কি বন্ধুতা?
প্রকট শূন্যতা, আরো শূন্য সাবলীল
শিশুর হাসির মতো এসেছে সকাল
নিছক খেলার ছলে শব্দ অন্ত্যমিল
ইশারা ভাষার দিন ফুরোলো বলেই
নাগালে আসেনি তাই ভাবের পতন
ঢেউ ছাড়া নদীটির একা একা লাগে
ইরেজার মুছে নিল পরিযায়ী মন
হাওয়ার উল্লাসে ফুল উত্তর দক্ষিণ
নিষেধ ডিঙিয়ে ছোঁব আকাঙ্ক্ষিত মীন।

মূল্য
আমি তোমাকে ডাকি না, তোমার ভেতর থেকে শুধু
আমাকেই ডাকি, আয়! এই পাকচক্রে গলে হার
না দেখার অজুহাতে। আমাদের চারপাশে ধস
আমাদের পথ বাকি নেই আর, ফিরে তাকাবার
তোমার ভেতরে কবে আমাকেই গুঁজে দিয়ে আসি!
শূন্যতম বিন্দু থেকে রেখা টেনে কার কাছে যাই!
শিশুদের শব এই পথে পথে ছড়ানো রয়েছে
তাদের মাড়িয়ে যাই, ডিঙোবার সাহস তো নাই
আগামির কথা কিছু মনে নেই, ভুল তবিয়ত
দেশ নেই, রাষ্ট্র নেই জলে জলে বেহুলা ভাসান
বারোমাস ভিক্ষা করে একফাঁলি মাটির আস্বাদ
মানুষ বেড়ায় খুঁজে, চাঁদের আলোও আজ ম্লান
আমাকেই খুঁজি আজ তোমার ভেতর থেকে আমি
মানুষ হয়নি আজো পশুদের চেয়ে বেশি দামি।

বিষ
চোখজোড়া দেখলেই বুঝি- একটা সবুজ সুতোনালী সাপ হিসহিস নিয়ে ঢুকে পড়ছে আমারশরীরে, রক্তে সাঁতার কাটছে আর... আর যেন আমার সমস্ত স্নায়ুতে ছড়িয়ে দিচ্ছে বহুমুখী বিষ!
যেসব জানালা উড়ে গেছে সাইকেলের গতিতে, চাকার বুকে মানচিত্র নিয়ে- আমরা কোনদিকেযাইনি তার মতো, অথবা যেতে পারি না। এসব অসারতার ভেতর, বিনাগন্তব্যের ভেতর মুখলুকিয়ে আমরা আরেকবার ঢুকি স্বেচ্ছায়; অন্য কোন সম্পর্কের দিকে নদীর মতো হাত ধরাধরিকরে। এতসব ক্রিয়াশীলতা, সাপটি ততক্ষণে পাঁজরের নিচে ঘুমিয়ে পড়েছে...
--------