বাতাসতাড়িত

অভিমন্যু মাহাত

বাতাসতাড়িত

যে কোনও নুনকে চিনি,
ঘর্মাক্ত বা সামুদ্রিক
কেবল তোমার স্বাদ
অচেনা রয়ে গেল জীবনে

গরাম ঠাকুর লিখেছে,
ভাঙা অপ্রেম গড়ে নাও
আজ দূরে সীমানা বাঁধা, নির্জনতা ভরা উঠোন
দুয়ার-আগুড় খুলে দেখি,
জলের শরীরে জল

বাঁশি ফুঁকে
একলা রাত্রির প্রহরীকে ডাকলাম
বাবলা-কাঁটা বন পেরিয়ে চোখ বিনীত করেছি।
ফুলের শব্দরা উদগ্রীব হলে,
আঁশগন্ধময়

গম্ভীর সিংমুড়ার দেশে,
তোমার চরিত্রের বাঁক---
ভয় পাই। শুধু পায়ে পায়ে ছড়ায় বহুবিধ ছুট
রুলটানা খাতায় উঁচু ডাল যে আঁকতে পারিনি

ছাই দিয়ে কাঁচ মুছে
হ্যারিকেন মৃদু জ্বালালাম
এখনও বিকেল আছে, ফিতে উসকে দেব রাতে।
তোমার এত স্বচ্ছ চোখ,
মনে হল বছর ফুরাল
বাদ দাও সবকিছু, চলো চাকলতোড়ের মেলা
সেরে ফেলি বিবাহ প্রস্তাব


ভূমি- ইষ্ট

সিরকাবাদ রাস্তায় খর দুপুরে
ডাহুক পাখি,
খুঁটে খাচ্ছে সরষে দানা,
শ্যামাপোকা তাকিয়ে থাকে।
পতঙ্গের সংলাপ পূর্বাভাস ছাড়াই জন্ম নেয়

গ্রামের গরুপাল থামল,
কাছাকাছি নেই বাঁশি।
কেউ চলে যাওয়ার পরে
যেটুকু পড়ে থাকে
মনখারাপ,
ওটাই যেন জনপদ, অস্ত্রাহত

ফসলের দানার মধ্যে যে ধুলোঝড়ের আসক্তি
তারজন্য এতদূরে আসা, দিনলিপির তেতো কথা।
আমি চাই লক্ষ্মীটি হোক সকল অপ্রিয় পুরুষ
আর উড়াল পাখিদের ভেষজ সঙ্গীত প্রণালি
রোজ সকালে গাভির থনে খাঁটি দুধ দিয়ে যাক
…………………………………..